রবি. অক্টো ২৫, ২০২০

২বছর ধরে দেখা নেই ঠিকাদারের, সড়কে চলাচলে দূর্ভোগ

১ min read
২বছর ধরে দেখা নেই ঠিকাদারের, সড়কে চলাচলে দূর্ভোগ

২বছর ধরে দেখা নেই ঠিকাদারের, সড়কে চলাচলে দূর্ভোগ

মো: লিটন হোসেন লিমন, নাটোর প্রতিনিধি : দুই বছর ধরে দেখা নেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমএন ট্রেডের মালিক মীর্জা খোকনের। উদাসীনতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে নাটোর সিংড়া উপজেলার রাখালগাছা সড়কে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।

টেন্ডার প্রক্রিয়ার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় পথচারী ও অসুস্থ্য রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চরমে। সড়কের খানাখন্দে ও ভাঙনের পড়ে প্রায় দুর্ঘটনা শিকার হচ্ছে পথচারীরা।

সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যার কারণে দমদমা-রাখালগাছা পাকা সড়ক ভেঙে কার্পেটিং উঠে যায়। এতে জনগণের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। আর জনস্বার্থে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের প্রস্তাবনা দেয় উপজেলা এলজিইডি অফিস।

পরে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৩৮ লাখ ৬১ হাজার ৭৯৯ টাকা চুক্তি মূল্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ১হাজার ২৫০মিটার পাকা রাস্তা সংস্কার কাজ পান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমএন ট্রেড, বলারিপাড়া, নাটোর। এ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মীর্জা খোকন। শুক্রবার সরোজমিনে খোজ নিয়ে জানা যায়, সড়কটি টেন্ডার প্রক্রিয়ার প্রায় দু’বছর পেরিয়ে গেলেও দেড় কিলোমিটার রাস্তার কোথায়ও কোন কার্পেটিং নেই।

কার্পের্টিং উঠে ছোট-বড় শত শত গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের মাঝখানে পাশাপাশি তিনটি ভাঙনে প্রায় ঘটছে দূর্ঘটনা। প্রতিনিয়তই ভোগান্তি পোহাচ্ছে এলাকার শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে গর্ভবতী ও মুমূর্ষ রোগীদের আনা-নেয়া করতে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীর স্বজনরা।

রাখালগাছা গ্রামের ভ্যান চালক আজাহার আলী বলেন, তেমুক ও তাজপুর বাজার থেকে সিংড়া সদর হাসপাতাল ও স্কুল-কলেজে আসার এটিই একটি মাত্র রাস্তা। তাছাড়া আত্রাই এলাকার বেশ কিছু জনগন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে থাকে। দীর্ঘ দিন ধরে রাস্তা ভেঙে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে অত্র অঞ্চলের প্রায় ১০ গ্রামের মানুষ।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল আলীম বলেন, জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে বিএনপি সরকারের সময় এই রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এর পর ভোট এলে শুধু প্রতিশ্রæতি মিলে কিন্তু রাস্তা সংস্কার হয় না। গর্তবতী মহিলাদের এই দেড় কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে যেতে হয়। এই কষ্ট ও দুর্ভোগের যেন অন্ত নেই।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক মীর্জা খোকন বলেন, কাজটি শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু মাটি পাওয়া যাচ্ছে না সমস্যার কারণে কাজটি শেষ করতে পারিনি। এছাড়াও রাস্তা সংস্কারে টেন্ডারে কিছু সংশোধনীও রয়েছে। তবে আশা করছি দ্রুতই কাজটি আবার শুরু করবো।

তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিনহাজ উদ্দিন বলেন, রাস্তাটি অনেক আগেই টেন্ডার হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারের তালবাহনা কারণে জনগণের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাসান আলী বলেন, রাস্তাটি সংস্কারের জন্য একাধিকবার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোন ফলাফল আসে নি। এরপর আর সময় দেয়া হবে না দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *