ঝামেলায় আছেন জানিয়ে ফোন কাটেন হৃদয়, পরে মেলে লাশ!

নিউজ ডেস্ক: চার বছর ধরে তাদের প্রেমের সম্পর্ক। কিন্তু এই প্রেমের একমাত্র বাধা ধর্ম। সমাজে এই সম্পর্ক কোনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না, তাই বাড়িতে কাউকে না বলে পালিয়ে যান প্রেমিকযুগল। কিন্তু তার পরিণতি যে ভয়াবহ হতে পারে, তা হয়তো ভাবতেও পারেননি প্রেমিক হৃদয় চন্দ্র (২২)। শেষ পর্যন্ত জীবন দিয়েই এই প্রেমের ইতি টানতে হলো তাকে।

গত মঙ্গলবার প্রেমিকাকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলেও ঘটনাক্রমে নিজের বাড়িতেই ওই যুবকের লাশ পাওয়া গেছে ঝুলন্ত অবস্থায়।

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় এমনই এক হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটেছে। প্রেমিকাকে নিয়ে উধাও হওয়ার দুই দিন পর বাড়ির পেছনে কাঁঠাল গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় হৃদয়ের লাশ পেয়েছে তার পরিবার। পরে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে। হৃদয়ের বাড়ি উপজেলার ঘোষপাড়া এলাকায়। নিহত যুবকের পরিবারের লোকজনের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

হৃদয়ের চাচাতো ভাই মানিক চন্দ্র ঘোষ জানান, প্রতিবেশী ছফির উদ্দিনের মেয়ে পপি আক্তারের (১৮) সঙ্গে হৃদয়ের প্রায় চার বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক। দুজন ভিন্ন ধর্মের হওয়ায় তাদের এ সম্পর্ক কেউ মেনে নিতে চায়নি। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে তারা পালিয়ে গাজীপুরের মাওনার ভবানীপুর এলাকায় পপির এক আত্মীয়ের বাড়িতে ওঠেন। তাদের অবস্থানের জায়গাটি শনাক্ত করার পর পপির বাবা ছফির উদ্দিনসহ তার পরিবারের লোকজন সেখানে যান।

হৃদয়ের চাচাতো ভাই আরও জানান, গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হৃদয়কে তিনি ফোন দিলে হৃদয় খুব ঝামেলায় আছে বলে জানান। এই বলে ফোন কেটে দেন হৃদয়।

হৃদয়ের আরেক চাচাতো ভাই গোপাল চন্দ্র ঘোষ জানান, গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে হৃদয়কে ফোন দিলে ভবানীপুরে পপির পরিবারের লোকজন ঝগড়া করেন। এরপর হৃদয়কে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তিনি আর ফোন ধরেননি।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার সময় হৃদয়ের মা রীনা রানী ষোষ নিজ ঘরের পেছনে ছোট একটি কাঁঠাল গাছে ওড়না পেছানো অবস্থায় ছেলের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় ঘটনাস্থলে দুই জোড়া স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।

হৃদয়ের মায়ের দাবি, তার ছেলেকে হত্যার পর মরদেহ পরিকল্পিতভাবে গাছে ঝুলিয়ে রাখেন পপির পরিবারের লোকজন।

স্থানীয় লোকজন জানান, ঘটনার পর থেকে ছফির উদ্দিনসহ তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে আছেন। এ ঘটনায় মন্তব্য জানতে ঘটনার দিন দুপুরে ছফির উদ্দিনের বাড়িতে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মাওলা জানান, ঘটনার দিন খবর পেয়ে সকাল ৯টায় ঘটনাস্থল থেকে হৃদয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে হৃদয়ের লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে আলামত হিসেবে একটি ওড়না ও দুই জোড়া স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, পপিকে পুলিশের হেফাজতে থানায় রাখা হয়েছে। থানায় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হৃদয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন পপি।

পপি জানান, বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের অবস্থান জানতে পেরে গতকাল রাতে ভবানীপুর এলাকা থেকে পপিকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন তার বাবা ছফির উদ্দিন। এ সময় হৃদয়কে তারা সঙ্গে আনেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *