আগস্ট ৫, ২০২১

হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু

১ min read
হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু

হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু

ড. আসাদুজ্জামান খান : হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে- ছাত্রজীবনে তিনি যেমন হাতে-কলমে রাজনীতির পাঠ গ্রহণ করেছেন, তেমনি ভারতীয় উপমহাদেশের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে খুব কাছ দেখে দেখেছেন।

১৯৪৮ সাল থেকেই তিনি স্বৈরাচারী অগণতান্ত্রিক শাসকবর্গের বিরুদ্ধে দৃপ্ত প্রতিবাদী ভ‚মিকা গ্রহণ করেছেন। সভা-সমিতি এবং শোভাযাত্রা-হরতাল সংগঠনের অভিযোগে ১৯৪৮ সালের মার্চে ও সেপ্টেম্বরে দুবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধস্তন কর্মচারীদের ন্যায্য স্বার্থ রক্ষার সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য ১৯৪৯ সালের মার্চে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। সেই সময় থেকে আমৃত্যু বঙ্গবন্ধু কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি।

বাঙালির অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে সর্বদা ছিলেন সোচ্চারকণ্ঠ। অনেকবার মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। মুহূর্তের জন্য তিনি আপসকামিতাকে প্রশ্রয় দেননি। সর্বদা তাঁর ইস্পাতকঠিন মনোবল অক্ষুণ্ন রেখেছেন।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন। কিন্তু সে অবস্থায়ও ওই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিতে সক্ষম হন। একই বছর তিনি জেল থেকে ছাড়া পান এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর থেকেই তার কর্মক্ষেত্র বিস্তৃতিময় হয়ে ওঠে।

বঙ্গবন্ধুর কুশলী কর্মোদ্যোগের ফলে ১৯৫৪ সালে মুসলিম লীগ সরকারের ভরাডুবি ঘটে প্রাদেশিক নির্বাচনে। প্রগতিশীল যুক্তফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় এবং শেখ মুজিব প্রাদেশিক সরকারের মন্ত্রিসভায় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। তিনি কতটা নিঃস্বার্থভাবে রাজনীতি করতেন, তা বোঝা যায় যখন দলের প্রয়োজনে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিয়ে সাংগঠনিক কাজে ফিরে যান।

১৯৫৪ থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুক্ত শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি হয়ে ওঠেন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা এবং পথপ্রদর্শক। হয়ে ওঠেন বঙ্গবন্ধু, জাতির পিতা এবং বিশ্ববন্ধু। নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের মুক্তির প্রতীক। ১৯৭১ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সারা বাংলায় অফিস-আদালতে পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করা হয়। দিনব্যাপী রাজধানী ঢাকায় সভা ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। অব্যাহত চাপের মুখে বঙ্গবন্ধু সঙ্গে বৈঠকের জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় আসেন। কোনো সাংবাদিক ও বাঙালিকে এ সময় বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *