আগস্ট ৩, ২০২১

হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু

১ min read
হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু

হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু

ড. আসাদুজ্জামান খান : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করেছিল নানাবিধ সমস্যার পাহাড় মাথায় নিয়ে। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন তাঁর প্রতিষ্ঠিত দেশটি হবে শোষণহীন। দেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে। তাদের অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ থাকবে।

আর তাইতো তিনি দুদিন ব্যাপী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক শেষে আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশ একটি শোষণমুক্ত সুষ্ঠু সমাজ ব্যবস্থা কায়েমের উদ্দেশ্যে জনগণের মধ্যে অনুপ্রেরণা সৃষ্টি ও নেতৃত্ব দানের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠিত করা হবে। যে কারণে বৈঠকে আওয়ামী লীগের একটি সাংগাঠনিক কমিটি গঠনের জন্য বঙ্গবন্ধুকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। কমিটি চারটি আদর্শ জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে সমাজ ব্যবস্থা কায়েমের জন্য কাজ করে যাবে।

স্বাধীনতা অর্জনের পর অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহক কমিটির এই বৈঠকে কমিটির মোট ৫৪ সদস্যের মধ্যে ৫০ জন উপস্থিত ছিলেন। ১৯৭১ সালে আক্টোবর মাসে মুজিবনগরে সর্বশেষ বৈঠক হয়। বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দালালরা গত নয় মাসে লুট, অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে দেশের যে বিপর্যয় অবস্থার সৃষ্টি করে গেছে তার পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় নীতিমালা তৈরির জন্য দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও দলের সাংগঠনিক সমস্যাবলী নিয়ে আলোচনা হয়। পার্টির সভাপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে জাতিকে একটা শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পৌঁছানোর প্রস্তাব গ্রহণ করে। কমিটির এক প্রস্তাবে সকল স্তরের জনগণকে জাতীয় পুনর্গঠনের কাজে শরিক হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ইয়াহিয়ার দস্যুবাহিনী বাংলাদেশে গণহত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ ও অন্যান্য নৃশংসতামূলক যেসব অপরাধ কার্য-সাধন করেছে তার প্রতি গুরুত্ব দেবার জন্য এবং এগুলোর পরিকল্পনা প্রণেতাদের উপযুক্ত শান্তিদানের জন্যও ‘ওয়ার্কিং কমিটি’ সরকারকে আহ্বান জানায়। মুক্তি সংগামে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের পরিবার বর্গকে বিশেষ করে বিধবা, অনাথ এবং বর্বর বাহিনী দ্বারা নির্যাতিত মহিলাদের পুনর্বাসনের সম্ভাব্য সকল রকম ব্যবস্থা অবলম্বনের জন্য কমিটি সরকারকে অনুরোধ জানায়।

সভায় বিশ্বের শান্তিপ্রিয় দেশগুলোকে বিশেষ করে ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন, পূর্ব-ইউরোপীয় সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে বাংলাদেশের জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের সমর্থন দেয়ায় ধন্যবাদ জানানো হয়।

আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহ কমিটি পাকিস্তানে বাঙালিদের দুরবস্থার জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। সভার প্রস্তাবে তাদের স্বদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সম্ভাব্য সকল প্রচেষ্টা চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। কমিটি পাকিস্তানি বাহিনীর দালালদের বিচার ও শাস্তিবিধান এবং যেসব দালাল এখনো ধরা পড়েনি তাদের অবিলম্বে আটকের সুপারিশ করে।

বৈঠকে সমাজবিরোধী ব্যক্তিদের নির্মূলের উদ্দেশ্যে জনগণের সহযোগিতায় সরকারের সক্রিয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলা হয় যে, জাতির অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সমাজবিরোধী ব্যক্তিরা শান্তিপ্রিয় নাগরিকদের হয়রানি ও শোষণ-পীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। সভায় মতৃভূমির মুক্তির সংগ্রামে জনগণের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানানো হয়। কার্যনির্বাহক কমিটি মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের উদ্দেশ্যে গভীর শোক প্রকাশ করে। কার্যনির্বাহক কমিটি জেলা ও মহকুমা আওয়ামী লীগ সদস্য ও সম্পাদকের প্রতি তাদের স্ব স্ব এলাকায় নিহত, আহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের নাম সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় পার্টি সেক্রেটারিয়েটে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছে। এ ছাড়াও উক্ত সভায় তিনটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *