আগস্ট ৩, ২০২১

হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু

১ min read
হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু

হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু

ড. আসাদুজ্জামান খান : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন সদ্য-স্বাধীন দেশের অবিসংবাদিত নেতা। নানা সমস্যায় জর্জরিত নবজাত বাংলাদেশের হাল ধরেছিলেন তিনি শক্ত হাতে। আর তাই তো তাকে ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ সব সমস্যা সমাধান করতে হয়েছে। ১৯৭২ সালের এই দিনে তিনি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী সমাজবিরোধীদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

তিনি বলেন, সমাজবিরোধী লোক ও গুণ্ডা-বদমাইশদের জঘন্য কার্যকলাপ বরদাশত করা হবে না এবং অচিরেই তাদের শক্ত হাতে দমন করা হবে। পিলখানার মিলিশিয়াদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, সমাজবিরোধী লোকেরা নিরীহ নাগরিকদের অযথা হয়রানি করছে এবং তাদের সম্পত্তি লুট করছে। তিনি এসব দুষ্কৃতকারীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের সতর্ক থাকতে বলেন।

পিলখানার মিলিশিয়া সদর দপ্তরে সাবেক ইপিআর সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির জন্য এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও বঙ্গবন্ধু সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের সেই ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটান। বঙ্গবন্ধু সেখানে উপস্থিত হলে তারা তাঁকে সাদর অভ্যর্থনা জানান এবং দুই দলই ‘বঙ্গবন্ধু জিন্দাবাদ’ ‘জাতির জনক জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেয় এবং বঙ্গবন্ধুর সামনেই বিবদমান দুই দলই পরস্পর পরস্পরকে আলিঙ্গন করে। বঙ্গবন্ধু ছাড়া অপর যারা মিলিশিয়াদের উদ্দেশে বক্তৃতা করেন, তারা হলেন- প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব তোফায়ের আহমেদ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওসমানী ও গ্রামরক্ষী বাহিনীর প্রধান আব্দুর রাজ্জাক এমসিএ এবং সিরাজুল আলম খান। বঙ্গবন্ধুর সামনেই বিবদমান দুই দলই তাদের অস্ত্র সমর্পণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী মিলিশিয়াদের উসকানিদাতা ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার এবং দেশের সংহতি রক্ষার জন্য তাদের সুশৃঙ্খল সৈনিক হিসেবে একাত্ম হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি তাদের আইন ও শৃঙ্খলা রক্ষা করতে উপদেশ দেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জিত হলেও আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে এবং দেশ স্বাধীন হয়েছে বলে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মতৃপ্তি লাভের কোনো অবকাশ নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ কষ্টার্জিত স্বাধীনতা রক্ষার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও সাহসের সঙ্গে কাজ করে যাওয়া উচিত। তিনি বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি এবং প্রয়োজন হলে আরও অধিক আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এখন অন্তর্বিরোধের সময় নয়।

বঙ্গবন্ধু সমবেত মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে বলেন, ‘বর্তমান অবস্থা যেকোনো অন্তর্বিরোধ নবজাত এ রাষ্ট্রের কেবল ধ্বংসই ডেকে আনবে না, বরং তা আমাদের জন্য বদনামও ডেকে আনবে। তিনি বলেন, দেশের সামনে রয়েছে এখন এক বিরাট পুনর্গঠন দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে গেছে। এ অবস্থায় পল্লি এলাকায় লাখ লাখ লোকের খাদ্য ও আশ্রয় ব্যবস্থাও করতে হবে। কেননা হানাদাররা তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে।

তিনি জানান, কল-কারখানাগুলোর ক্ষতি করা হয়েছে, খাদ্য গুদাম লুণ্ঠিত হয়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে। ফলে সর্বস্তরের লোকই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু বলেন, জাতীয় পুনর্গঠনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের চাকরি দেয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করা হবে। কিন্তু বর্তমানে দেশের সামনে যেসব অসুবিধা রয়েছে, তিনি তাদের সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে বলেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *