আগস্ট ১, ২০২১

সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরল রাবেয়া-রোকেয়া

১ min read
সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরল রাবেয়া-রোকেয়া

সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরল রাবেয়া-রোকেয়া

এটা সকলের জন্য গর্ব: প্রধানমন্ত্রী

জবাবদিহি ডেস্ক : মুজিববর্ষে সংযুক্ত মাথার যমজ বোন রাবেয়া ও রোকেয়াকে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পৃথক করে তাদের সুস্থ শরীরে বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়াকে বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খবর বাসসের

প্রধানমন্ত্রী গতকাল রোববার রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)-এ সংযুক্ত মাথা থেকে মুক্তি পাওয়া রাবেয়া-রোকেয়ার গৃহ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সিএমএইচ-এর অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে রাবেয়া-রোকেয়া বাড়ি ফিরে যাবে, তাদের মা-বাবার কোলে হেসে খেলে বেড়াবে এটা সত্যি খুব বড় পাওয়া। যেখানে আমরা মুজিববর্ষ উদ্যাপন করছি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন করতে যাচ্ছি, ঠিক এই সময়ে এত বড় একটা সফল অস্ত্রোপচার করা এবং সফলতা অর্জন করা এটা বাংলাদেশের জন্য অনেক বিরাট অর্জন। তিনি বলেন, মুজিববর্ষে জোড়া মাথা থেকে মুক্তি পাওয়া রাবেয়া-রোকেয়ার শুভ গৃহ প্রত্যাবর্তন সকলের জন্য আনন্দের এবং গর্বের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগ্রহণ করেন, দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়, ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ভাষা আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ’৭১ এর ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।

প্রধানমন্ত্রী যমজ শিশুদের জিজ্ঞেস করেন তারা কেমন আছে। উত্তরে বাচ্চাদের একজন জানায়, সে ভালো আছে এবং সে প্রধানমন্ত্রীকে কেমন আছেন জিজ্ঞেস করায় প্রধানমন্ত্রী জবাব দেন তিনিও ভালো আছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ছোট বোন শেখ রেহানা তাকে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত খবর দেখিয়ে যমজ শিশুদের সম্পর্কে অবহিত করার পরে তিনি সংযুক্ত শিশুদের চিকিৎসার উদ্যোগ নেন। রাবেয়া-রোকেয়ার মতো যমজকে পৃথক করার মতো এ বড় অপারেশন বাংলাদেশে করার কারণ হলো, এখনকার চিকিৎসক এবং টেকনিশিয়ানদের একটা অভিজ্ঞতা হবে। ৪৮টি অপারেশন এবং ৩৬ ঘণ্টা ধরে অপারেশন করা, এটা বিরাট ব্যাপার। হাঙ্গেরি থেকে আসা চিকিৎসকদের দলটি এখানে দীর্ঘদিন অবস্থান করে অপারেশনটা করেছে। আর সব থেকে ভালো লেগেছে এরা প্রত্যেকেই খুব আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি সকলের কাজের আন্তরিকতার প্রশংসা করে বলেন, প্রত্যেকেই এত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন যে, এটা আমি ভাষায় বর্ণনা করতে পারব না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে প্রতিটি ক্ষেত্রে অত্যন্ত পারদর্শী যারা, তাদেরকেই একত্রিত করা হয়েছে। যাতে কোনো রকম ফাঁক না থাকে। সব যেন ঠিকমত হয়। কারণ, এটা একটা জটিল অপারেশন ছিল।

তিনি বলেন, রাবেয়া এবং রোকেয়া জোড়া মাথা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘ক্রেনীয় পেগাজ’। এ ধরনের ঘটনা মাঝে মাঝে দেখা গেলেও আমাদের দেশে এটি পৃথক করার ঘটনা সম্পূর্ণ নতুন। সেটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারায় সংশ্লিষ্ট সকলকেই আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সিএমএইচএ দীর্ঘদিন অপারেশন এবং রাবেয়া-রোকেয়ার বাবা-মাকে সেখানে রাখা এবং এতবড় একটা অপারেশন করা একটা অত্যন্ত মানবিক কাজ, যা আপনারা করেছেন। তিনি রাবেয়া-রোকেয়ার জন্য সকলের দোয়া কামনা করে বলেন, আমি দেশবাসীরও দোয়া চাই তারা যেন সুস্থ থাকে, ভালো থাকে এবং বাবা-মায়ের মুখে আনন্দ নিয়ে আসতে পারে।

২০১৯ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক মাইলফলক। এ দিনেই সিএমএইচ ঢাকায় জোড়া মাথা পৃথকীকরণের জটিল অপারেশনটি শুরু হয়। হাঙ্গেরি সরকারের সহযোগিতায় ‘একশন ফর ডিফেন্সলেস পিপল ফাউন্ডেশন’এর সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাঙ্গেরিতে ছোট-বড় ৪৮টি অপারেশন সম্পন্ন হয়। পরে শিশু দুটিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে এই অপারেশনের সবচেয়ে জটিল অংশ যমজ-মস্তিষ্ক আলাদাকরণের কাজটি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, ঢাকায় সম্পন্ন কর হয়।

এ ধরনের অপারেশন সারা বিশ্বেই বিরল এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় প্রথম। অপারেশন পরবর্তী সাফল্যও বিশ্বে খুব বেশি নেই। পিএমও সূত্র জানায়, ঢাকা সিএমএইচ শিশু দুটির জন্য আজীবন চিকিৎসা সুবিধা কার্ড প্রদান করেছে, যাতে ভবিষ্যতে সিএমএইচসহ যে কোনো সরকারি হাসপাতালে তারা বিনামূল্যে সব ধরনের চিকিৎসা সেবা পায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *