আগস্ট ৩, ২০২১

সিলেটে তিন মামলায় আসামি ৩ শতাধিক

১ min read

অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে হামলার নিন্দা

সিলেট ব্যুরো : অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদকাণ্ডে সিলেটে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিন মামলায় ২৮ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আবু ফরহাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, তিন মামলার দুইটির বাদী পুলিশ ও একটির বাদী সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা।

তিনি জানান, কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমানের দায়ের করা অস্ত্র মামলায় একমাত্র আসামি ফয়সল আহমদ ফাহাদ (৩৮)। তিনি এই মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন।

এছাড়া পুলিশ আক্রান্তের ঘটনায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় ১৭ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০০-১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এছাড়া সংঘর্ষের ঘটনায় সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) হয়ে সিসিকের উপ সহকারী প্রকৌশলী দেবব্রত দাস বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ১০ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০০-১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গত বুধবার বেলা ১টার দিকে সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে গিয়ে হামলার মুখে পড়েন সিসিক মেয়র, কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের উপরও হামলা করে পরিবহন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে পুলিশ।

সংঘর্ষে তিন কাউন্সিলর, দুই পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। এ সময় অন্তত ২৬টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনার জেরে নগরের প্রবেশদ্বার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চন্ডিপুল পয়েন্টে এলাপাতাড়ি গাড়ি রেখে সড়ক অবরোধ করে রাখেন পরিবহণ শ্রমিকরা। চৌহাট্টায় ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে গত বুধবার সন্ধ্যায় নগরভবনে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিয় করেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। মতবিনিময় সভা থেকে পরিবহণ শ্রমিকদের হামলার ঘটনায় নিন্দা জানানো হয়।

অন্যদিকে, মেয়র ও ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তার অপসারণ, ভাঙচুর হওয়া গাড়ির ক্ষতিপূরণ ও পূর্বের স্থানে স্ট্যান্ড বহাল রাখার দাবি জানিয়ে জরুরি সভা করে সিলেট জেলা বাস মিনিবাস মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন। স্বল্প সময়ে এসব দাবি পূরণ না হলে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি ভোর থেকে অনির্দিষ্টকাল ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়। বৈঠকে এ ঘোষণা দেন সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নবনির্বাচিত সভাপতি ময়নুল ইসলাম।

এদিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কাজে পরিবহন শ্রমিকদের বাধা, কাউন্সিলর, ম্যাজিস্ট্রেট, কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের পরিবহন শ্রমিকদের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সিলেটের নাগরিক প্রতিনিধিরা।

রাষ্ট্রিয় কাজে বাধা দানের ঘটনা সিলেটের উন্নয়ন বিরোধীচক্রের কাজ উল্লেখ করে বক্তারা সিলেটের উন্নয়নে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

গত বুধবার দুপুরে সিলেট নগরীর চৌহাট্টায় সিসিকের সড়ক উন্নয়ন কাজে বাধা দেন মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকারের কিছু সংখ্যক শ্রমিক। এ ঘটনার প্রতিবাদে নগর ভবন সম্মেলন কক্ষে সিসিক মেয়র এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন। সভায় মেয়র, কাউন্সিলরসহ আইনশৃঙ্খলা বাহীনির উপর হামলা সিলেটের সম্প্রীতির সমাজকে নষ্ট করেছে বলেও মন্তব্য করেন বক্তরা।

নগরের উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রাখতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা। সভার শুরুতে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ঘটনার বর্ণনা দেন।

কাউন্সিলরদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- কাউন্সিলর আজম খান, আজাদুর রহমান আজাদ, ফরহাদ চৌধুরী, মোহাম্মদ তৌফিক বকস, রেজওয়ান আহমদ, সৈয়দ তৌফিকুল হাদী, মো. ছয়ফুল আমীন, আফতাব হোসেন খান, রকিবুল ইসলাম ঝলক ও কাউন্সিলর তাকবির ইসলাম পিন্টু।

সভায় সবার ঐক্যমতের ভিত্তিতে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির বছর সমাগত। সারা দেশের উন্নয়ন ধারাবাহিকতায় সিলেট সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কাজও এগিয়ে চলছে। সবার সহযোগিতায় এই উন্নয়ন কাজ অব্যাহত থাকবে।

সভায় বক্তব্য রাখেন- বিশিষ্ট রাজনীতিক লোকমান আহমদ, সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মঈনুল হক চৌধুরী, সুজন সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ট্রাফিক) ফয়সাল মাহমুদ ও ডিসি (উত্তর) আজবাহার আলী, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আবু ফরহাদ, প্রাইভেট মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. নাসিম আহমদ, লেখক কলামিস্ট সালেহ আহমদ খসরু, সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি মিশফাক আহম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত, বাপা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আল আজাদ, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ রেনু, সিনিয়র সহ সভাপতি এম এ হান্নান, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আশরাক আমীন রাব্বি, সিলেট জেলা প্রেসক্লাকের সহ সভাপতি এস সুটন সিংহ, স্পোটর্স জার্নালিস্ট ফোরাম সিলেটের সভাপতি মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা বদর, এটিএন বাংলা ইউকের সাংবাদিক মো. শফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক মাঈদুল ইসলাম রাসেল, ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি সিকান্দর আলী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি আব্দুল মালিক চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, মহানগর বিএনপির সদস্য সোহেল আহমদ, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. ইউসুফ সেলু, বিএনপি নেতা এমরান আহমদ চৌধুরী, বিএনপি নেতা মাহবুবুল হক চৌধুরী, সিলেট মহানগর জাসদের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস আহমদ, জেলা জাসদ নেতা সোলেমান আহমদ, জাসদ নেতা মহি উদ্দিন, বিএনপি নেতা সৈয়দ মঈন উদ্দিন সোহেল, জাসাস নেতা মঞ্জুর হোসেন।

সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি হোলাম হাদী ছয়ফুল, সাংগঠনিক সম্পাদক শাব্বির আহমদ ফয়েজ, পুলক কবীর চৌধুরী, সিলেট জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সদস্য মো. আকমাম সাদুল্লাহ, পরিবহন শ্রমিক নেতা কাউসার হোসেন রকি, কাজী ম্যানশন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রাহেল আহমদ চৌধুরী, মহানগর ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য ফয়জুল হাসান, নয়াসগক বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য তাহমিদুল হাসান জাবেদ, ব্যবসায়ী নেতা লিয়াকত আলী পিন্টু, এ মুহিদ চৌধুরী, মো. আলেক মিয়া, আবু সাঈদ মো. তায়েফ, মো. হোসেন খান ইমাদ, মো. রকিবুল বারী নোমান, আফজল হোসেন, ব্যবসায়ী নেতা আমজদ আলী, আহমদ আফজল সিরাজ, নিয়াজ মো. আজিজুল করিম, মো. সাহেদ বকস, দরগা বাজার ব্যবসায়ী নেতা লুৎফুর রহমান, ব্যবসায়ী নেতা মো. ইকবাল হোসেন, আবুল খায়ের মাহবুব, ব্যবসায়ী নেতা এম এ এইচ সোহেল, মো. ছাদ মিয়া, মো. কয়ছর আহমদ, মো. সায়দুল আলম, শহিদুল হক, অলিউর রহমান চৌধুরী, ফরহাদুজ্জামান চৌধুরী, কুতুবুর রহমান, ফারুক আহমদ খান, আহমেদ ফুয়াদ বিন রশিদ, মো. আলা মিয়া, হোসেন আহমদ, আব্দুল হাদী পাবেল, আব্দুল মুনিম মল্লিক, মো. ফিরোজ উদ্দিন ছাড়াও নাগরিক প্রতিনিধি এনায়েত হোসেন চৌধুরী, কিবরিয়া চৌধুরী, মো. আব্দুস সামাদ, ফয়েজ আহমদ, ডা. সাহেদুল ইসলাম, আশিষ দে, মো. আব্দুল মালিক উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *