আগস্ট ৩, ২০২১

সরকার আগুন নিয়ে খেলছে: ড. মোশাররফ

১ min read
সরকার আগুন নিয়ে খেলছে: ড. মোশাররফ

সরকার আগুন নিয়ে খেলছে: ড. মোশাররফ

নিজস্ব প্রতিবেদক: জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের ষড়যন্ত্র করে সরকার আগুন নিয়ে খেলছে বলে হুঁশিয়ার করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বিএনপির কর্মসূচি ধাপে ধাপে আসছে বলেও জানান তিনি।
গতকাল রোববার দুপুরে প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানকে ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কোনোক্রমে লেখা সম্ভব হবে না। আজকে যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করছেন, ইতিহাস যারা লেখবেন সত্যকে মেনে নিয়ে লেখবেন। এদেশে ২৫ মার্চের আগে স্বাধিকারের আন্দোলন হয়েছে, স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন হয়েছে, পাকিস্তানের ক্ষমতায় যাওয়ার আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু জিয়াউর রহমানই সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছেন।’

আর তাকে নিয়ে টানাটানি। আগুন নিয়ে খেলছেন। আপনাদের হাত পুড়ে যাবে, ছাই হয়ে যাবে। এই খেতাব কেউ দেয় নাই, এই খেতাব শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ যারা খেতাব পেয়েছেন, তারা প্রত্যেকে অর্জন করেছেন। এই খেতাবের ওপরে হাত দেয়ার কোনো অধিকার কারও নেই। তিনি বলেন, আল-জাজিরা একটা রিপোর্ট দিয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে নাকচ করে দিলেন। যদি ওই রিপোর্টের বিষয়বস্তুগুলো মিথ্যা হয় তাহলে সরকারের দায়িত্ব ছিল প্রতিবাদ করা। কিন্তু তারা বিষয়বস্তুর মধ্যে যান নাই, শুধু রাজনৈতিকভাবে নাকচ করে দিয়েছেন।

এটাই কি শেষ? দ্য ইকোনমিস্ট আরও এক স্টেপ সামনে গিয়ে যে লেখা লিখেছে, এখন পর্যন্ত সরকার থেকে প্রতিবাদ করার সাহস পায় নাই। ডয়েচে ভ্যালেতে এই সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী সাক্ষাৎকারে একটি প্রশ্নের জবাব দিতে পারেন নাই। কারণ তার কাছে জবাব নাই। জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের যৌথ উদ্যোগে এই আলোচনা সভা হয়। আলোচনা সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জিয়াউর রহমানের খেতাবটা কিন্তু যুদ্ধের। দেশটা কিন্তু ভাষণে স্বাধীন হয় নাই, যুদ্ধে স্বাধীন হয়েছে। কিসের যুদ্ধ ছিল? গণতন্ত্র উদ্ধার করতে গিয়ে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। তা আমাদের এই বক্তৃতায় আসবে না, যুদ্ধে আনতে হবে। সেই যুদ্ধটাই আমাদেরকে শুরু করতে হবে। সেই যুদ্ধের ফলাফল হবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি তো সাক্ষী আছি। অমিত বিক্রমে জেড ফোর্স যুদ্ধ করেছে, মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। সবচাইতে বেশি সাহসিকতা পদক অর্জন করেছে, সবচাইতে বেশি মানুষ জেড ফোর্সের সৈনিকেরা জীবন দিয়েছে এদেশে স্বাধীনতার জন্য। অথচ তার কমান্ডারের একটি খেতাব, যা দেয়া হয়েছে সেটি এখন ছিনিয়ে নেয়ার জন্য কুচক্রি মহল ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।

এদিকে জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিলের উদ্যোগের প্রতিবাদে আবার বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়ে বিএনপি বলেছে, ধাপে ধাপে আরও কর্মসূচি দেয়া হবে। আগামী বুধবার বরিশাল বিভাগ ছাড়া সারাদেশে মহানগর ও জেলায় সমাবেশ হবে বলে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় স্বৈরতন্ত্র ও মাফিয়াতন্ত্র পতনের দাবিতে ও স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের খেতাব বাতিলের সরকারি অপচেষ্টার প্রতিবাদে আগামী বুধবার বরিশাল বিভাগ ছাড়া সারাদেশে মহানগর ও জেলায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।’

কইসঙ্গে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল সদরে আয়োজিত সমাবেশে দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের অংশ নিতে বলা হয়েছে। পরে আরও কর্মসূচি আসবে কি নাÑ প্রশ্ন করা হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ধাপে ধাপে অবশ্যই কর্মসূচি থাকবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও সরকার পতনের আন্দোলন আমাদের চলমান আছে। বিভাগীয় সমাবেশ শুরু করতে যাচ্ছি। আগামী ১৮ তারিখ বরিশালে আমাদের যে সমাবেশ এটাও তো আমাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে অনুষ্ঠিত হবে। এভাবে আন্দোলনকে আমরা আমাদের লক্ষ্যে নিয়ে যেতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *