শনি. সেপ্টে ২৬, ২০২০

শীর্ষ কর্তাদের আর্শিবাদে অপ্রতিরোধ্য প্রদীপ ছিল সোনার ডিম পাড়া হাঁস

১ min read
শীর্ষ কর্তাদের আর্শিবাদে অপ্রতিরোধ্য প্রদীপ ছিল সোনার ডিম পাড়া হাঁস

শীর্ষ কর্তাদের আর্শিবাদে অপ্রতিরোধ্য প্রদীপ ছিল সোনার ডিম পাড়া হাঁস

# কয়েকটি বিষয়কে সামনে রেখে চলছে তদন্ত- র‌্যাব
# টেকনাফে এখনো প্রদীপ আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাবেক সেনা সদস্য মেজর (অব) সিনহা মো রাশেদ খান খুনের অন্যতম অভিযুক্ত কক্সবাজারের টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের উপর ছিল প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের আর্শিবাদ। ছিল কারো কারো জন্য সোনার ডিম পাড়া হাস। তাই একের পর এক বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিলেও ছিলেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। অপরাধ করে বার বার পার পেয়ে যাওয়ায় টেকনাফে দানবীয় রূপ ধারণ করেন সমালোচিত সাবেক পুলিশ পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাশ।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে আগে কখনো অভিযোগ আসেনি। তাই দায়িত্ব পালনকালে কোন অনিয়ম দুর্নীতি করেছে কি না তা বলতে পারবো না।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টা এখন অন্য সংস্থা তদন্ত করছে। তাই প্রদীপ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে পারবো না।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন চট্টগ্রামের সম্পাদক আকতার কবির চৌধুরী বলেন, ‘সাবেক পুলিশ পরিদর্শক চাকুরী জীবনের পুরোটাই ছিল বিতর্কের মধ্যে। অসংখ্যবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানীত হলেও কতৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বরখাস্ত ও প্রত্যাহার হওয়ার পর দ্রুতই স্বপদে বহাল হয়েছেন। উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের আশ্রয় প্রশ্রয় ছাড়া কখনো এ ধরণের কর্মকান্ড নির্বিহ্নে করা কখনো সম্ভব নয়। প্রদীপের ভয়ঙ্কর উত্থানে অবশ্যই উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের সহায়তা রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রদীপের অন্যায়, দুর্নীতি শুরু থেকে দমানো গেলে কখনো সে দানবীয় রূপ ধারণ করতে পারতো না। এখানে উর্ধ্বতন কর্তাদের ব্যর্থতা রয়েছে। তাই প্রদীপের পাশাপাশি উর্ধ্বতন কর্তাদের ব্যর্থতার তদন্ত করাও উচিত।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রদীপ কোন কোন উধ্বর্তন কর্মকর্তার জন্য ছিল সোনার ডিম পাড়া হাস। তারা প্রদীপের কাছ থেকে নানান অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করতে। উধ্বর্তন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার আর্শিবাদ ছিল প্রদীপের উপর। একই সাথে সুনজরে ছিল প্রভাশালী রাজনৈতিক কর্তাদের। তাই তার অনিময় দুর্নীতির কথা জেনেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।’

জানা যায়, মেজর (অব.) সিনহা মো রাশেদ খান হত্যা মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক পরির্দশক প্রদীপ কুমার দাশের চাকুরী জীবনের সিংহভাগ সময়ে কেটে চট্টগ্রাম অঞ্চলে। প্রায় দুই যুগের চাকুরী জীবনের প্রায় সব সময় কেটেছে তার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায়। যে থানায় দায়িত্বরত ছিলেন সেই থাকায় বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। দীর্ঘ এ চাকুরী জীবনে দুই বার বরখাস্ত এবং কমপক্ষে পাঁচ বার বিভিন্ন থানা থেকে প্রত্যাহার হয়েছেন। প্রত্যেকবারই উধ্বর্তন কর্তাদের ম্যানেজ করে স্বপদে ফিরেছেন দ্রুত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘শীর্ষ কর্মকর্তাদের কি ভাবে ম্যানেজ করতে হয় তা জানতেন প্রদীপ কুমার। অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করে তার যাবতীয় অনিয়ম দুর্নীতিতে সমর্থন করতেন। উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের সমর্থন পেয়ে অপ্রতিরোধ্য ছিল প্রদীপ কুমার। টেকনাফে থাকাকালীন সময়ে প্রদীপের কন্ট্রাক্ট কিলিং, গ্রেফতার বানিজ্য, অভিযানের নামে লুঠপাত, মানুষ ধরে এনে নির্যাতন কোন কিছুই অজানা ছিল না কারোর। তার অনিয়ম দুর্নীতির কথা জেনেও নিরবে সমর্থন দিয়ে গেছে উধ্বর্তন কর্মকর্তার।’

কয়েকটি বিষয়কে সামনে রেখে চলছে সাবেক সেনা সদস্য মেজর (অব) সিনহা মো রাশেদ খান খুনের মামলার চলছে তদন্ত। আজ (রবিবার) থেকে আলোচিত এ হত্যাকান্ডের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া আসামীদের পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাবাদ শুরু করবে মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব। টেকনাফে দানবীয় রূপ ধারণ করা পুলিশ পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাশ গ্রেফতার হলেও এখনো ‘প্রদীপ ম্যানিয়ায়’ ভোগছে এলাকার অনেকে। তার নির্যাতনের শিকার অনেকের মধ্যেই এখনো বিরাজ করছে আতঙ্ক। ফলে ভুক্তভোগী এসব লোকজন প্রকাশ্যে মুখ খোলছে না প্রদীপের নানান অপকর্ম নিয়ে।

র‌্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘কয়েকটি বিষয়কে সামনে রেখে মামলার তদন্ত চলছে। আগামীকাল (রবিবার) থেকে গ্রেফতার হওয়া আসামীদের পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু হচ্ছে। মামলার তদন্তে আসামী চিহ্নিত এবং খুনের মুল উদ্দেশ্য বের করাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।’

জানা যায়, মেজর (অব.) সিনহা মো রাশেদ হত্যা মামলার কয়েকটি বিষয়কে সামনে রেখে চলছে আলোচিত এ মামলার তদন্ত। মেজর সিনহাকে খুনের মুল উদ্দেশ্য বের করার পাশাপাশি ‘আসল’ হোতাদের চিহ্নিত করারও কাজ করছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব। একই সাথে এ খুনের পেছনে কারো ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য রয়েছে কি না তাও তদন্ত করা হচ্ছে।

এ খুনের অন্যতম অভিযুক্ত প্রদীপ কুমার দাশ এবং বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ লিয়াকত আলীর সাথে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেনের ফাঁস হওয়া ফোনালাপ বেশ গুরুত্বের সহকারে নিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। ওই ফোনালাপের একটিতে শোনা যায় ওসি প্রদীপ গুলির জন্য লিয়াকতকে নির্দেশের কথা স্বীকার করেন। অপরটিতে শোনা যায় কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন ঘটনা সাজানোর পরামর্শ দেন অভিযুক্ত লিয়াকতকে। এ দুই ফোনালাপে কোথাও মাদকের কথা উল্লেখ করে পুলিশ কর্মকর্তারা।

র‌্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘ফাঁস হওয়া দুটি ফোনালাপ আমাদের নজরে এসেছে। তদন্তে ফোনালাপ দুটিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।’
টেকনাফে এখনো প্রদীপ আতঙ্ক :
মেজর (অব) সিনহা হত্যা মামলার অন্যতম আসামী সাবেক পুলিশ পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাশ গ্রেফতার হলেও এখনো টেকনাফের অধিবাসীদের মধ্যে কাটেনি ‘প্রদীপ ম্যানিয়া’। টেকনাফ থানায় প্রদীপ অনুসারীরা এখনো বহাল তবিয়তে থাকায় আতঙ্কে রয়েছেন প্রদীপের হাতে নির্যাতিতদের অনেকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ- মেজর সিনহা হত্যা মামলার অন্যতম আসামী প্রদীপ গ্রেফতার হলেও টেকনাফ থানার ‘টিম প্রদীপ হিসেবে পরিচিত পুলিশ সদস্যরা এখনো রয়েছেন বহাল তবিয়তে। এ থানার টিম প্রদীপের কমপক্ষে ১০ সদস্য রয়েছে। তাদের মাধ্যমেই বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজনকে ধরে এনে নির্যাতন করতো। একই সাথে সাজানো ইয়াবা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে টেকনাফের একাধিক অধিবাসী জানান- প্রদীপ গ্রেফতার হলেও এখনো তার অনুসারীরা বহাল তবিয়তে রয়েছেন। তার অনুসারীরা বহাল তবিয়তে থাকায় টেকনাফের লোকজনের আতঙ্ক কাটছে না। ফলে এখনো তারা প্রদীপ ম্যানিয়ায় ভোগছে টেকনাফে প্রদীপ ও তার অনুসারীদের হাতে নির্যাতিতরা।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ থেকে কক্সবাজার সদরে যাওয়ার পথে বাহারছড়া পুলিশ চেকপোস্টে গাড়ি থেকে নামিয়ে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ৫ আগস্ট ৯ জন অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। এ ঘটনায় সাথে অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক প্রদীপ কুমার দাশসহ অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বরখাস্ত করা হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে র‌্যাব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *