সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১

‘রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সুদৃঢ় ভূমিকা রাখতে হবে’

১ min read

নিউজ ডেস্ক: রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি চরম আকার ধারণ করে আছে। বিভিন্ন সময় পৃথিবীর পরাশক্তিগুলো এই ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে ভূ-রাজনীতির কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত সময় পার করছে। বাংলাদেশ যখন রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে চরম হুমকিতে আছে ঠিক সেসময় জাতিসংঘের উদাসিনতার বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে উঠছে। এমন অবস্থায় মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত শিশুসহ সব রোহিঙ্গার নিজ ভূমিতে স্ব-প্রণোদিত, নিরাপদ ও টেকসই পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সুদৃঢ় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চলতি ৭৪তম অধিবেশনের তৃতীয় কমিটির আওতায় ‘শিশু অধিকার উন্নয়ন ও সুরক্ষা’ বিষয়ক এক উন্মুক্ত বিতর্কে অংশ নিয়ে এ আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শিশুদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা ও অন্যান্য কল্যাণ নিশ্চিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১২ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়েছে।

মোমেন বলেন, ‘শিশু অধিকার রক্ষা ও শিশু সুরক্ষার পদক্ষেপগুলো এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে বাংলাদেশ দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শিশু অধিকার সংক্রান্ত জাতিসংঘ সনদের ৩০ বছর পূর্তি আর কয়েকদিন বাদেই। আমাদের উচিত উপলক্ষটির পূর্ণ ব্যবহার করা। তাই শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, আসুন শিশু অধিকার সমুন্নত রাখতে আমাদের সম্মিলিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করি।’

‘অতি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টিকাদানে সফলতার জন্য গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনেশন কর্তৃক ভ্যাকসিনেশন হিরো অ্যাওয়ার্ড এবং যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য ইউনিসেফ কর্তৃক চ্যাম্পিয়ন ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। এ জাতীয় আন্তর্জাতিক পুরস্কার শিশু ও যুব উন্নয়ন এবং তাদের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের অব্যাহত অগ্রযাত্রারই স্বীকৃতি,’ যোগ করেন মাসুদ বিন মোমেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গৃহীত ও বাস্তবায়িত জাতীয় শিশু উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচির বিভিন্ন উদাহরণ টেনে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনটিকে বাংলাদেশে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালন করা হয়েছে। যা শিশুদের প্রতি সরকারের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ারই বহিঃপ্রকাশ।’

বাংলাদেশে শিশু অধিকার রক্ষা ও শিশু সুরক্ষা বিশেষ করে শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাস্তবায়িত ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচির নানা দিক তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ।

তার বক্তব্যে উঠে আসে লিঙ্গ সমতা অর্জন, প্রাথমিক পর্যায়ে শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত, মানসম্মত শিক্ষা সম্প্রসারণ, ই-লার্নিং, মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ, বিনামূল্যে পাঠ্য বই বিতরণ, শিক্ষা বৃত্তি ও ভাতা প্রদান, স্কুল অবকাঠামো উন্নয়ন, সার্বজনীন ও উন্নত শিশু স্বাস্থ্য সেবা, ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে শেখ হাসিনা সরকার গৃহীত ও বাস্তবায়িত নানা সাফল্য গাঁথার তথ্যচিত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *