‘রাষ্ট্রকে রক্ষা কর’ স্লোগানে লাইবেরিয়ায় বিক্ষোভ


জবাবদিহি ডেস্ক : লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক জনপ্রিয় ফুটবল তারকা জর্জ উইয়াহ দুর্নীতি, অবিচার ও অর্থনৈতিক পতন ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় ‘রাষ্ট্রকে রক্ষা কর’ স্লোগানে বিক্ষোভ করছে দেশটির কয়েক হাজার মানুষ।

কাউন্সিল অব প্যাট্রিয়োটস (সিওপি) নামের একটি সংগঠন শুক্রবার রাজধানী মনরোভিয়ার ক্যাপিটল হিলে এই বিক্ষোভ আয়োজনে নেতৃত্ব দেন বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদপত্র লাইবেরিয়ান অবজারভার। এখনও বিক্ষোভ চলছে।

ফ্রান্সের সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়, প্রায় ১০ হাজার মানুষ এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করে। তবে পুলিশ জানায় বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা চার হাজার। তাদের হাতে ‘আমরা যথেষ্ট দুর্ভোগ সয়েছি’ এবং ‘আমরা উন্নত জীবনযাত্রা চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল। তারা নেচে গেয়ে আন্দোলনকে চাঙ্গা রাখার চেষ্টা চালায়।

রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে বিক্ষোভকারীরা সরকারের কাছে একাধিক দাবি তুলে ধরতে ক্যাপিটল হিলের দিকে ছুটে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, মনরোভিয়ার বাসিন্দারা এর আগে এতো বড় জনসমাগম দেখেনি।

বিক্ষোভাকারীদের বরাত দিয়ে লাইবেরিয়ান অবজারভার জানায়, তারা প্রথমে দাবিগুলো সরাসরি প্রেসিডেন্টকে জানাতে চায়। কিন্তু উইয়াহ তার পক্ষে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জুয়েল হওয়ার্ড টেইলরকে পাঠানোর প্রস্তাব দেন। এতে রাজি হন সিওপির সদস্যরা।

কিন্তু অসুস্থ থাকার কারণে তিনি আসতে না পারায় লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট তার পরিবর্তে বিচারমন্ত্রী ফ্র্যাংক মুসা ডিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিবেহজোহনগার এম. ফিন্ডলেকে বিক্ষোভাকারীদের সঙ্গে কথা বলার জন্য পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছে গণমাধ্যমটি।

সিওপির অন্যতম সংগঠক বোমি কাউন্টি সিনেটর স্যান্ডো ডাজোই জনসনের বরাত দিয়ে সংবাদপত্রটি জানায়, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ হচ্ছে। তবে ‘#SaveTheState’ লেখা টি-শার্ট পরা মানুষরা ক্যাপিটল হিলের দিকে আসতে চাইলে তাদেরকে ন্যাশনাল আইডি কার্ড দেখাতে বলা হচ্ছে।

এদিকে সিওপির সদস্য সদস্য হেনরি কসটা সাংবাদিকদেরকে জানান, সরকারের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্টের কথা বলার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু তার পরিবর্তে অন্য কেউ আসায় অনেকেই দাবি করছে যে, তারা সরাসরি প্রেসিডেন্টের কাছে তাদের দাবি জানাতে চায়।

ফ্রান্সের সংবাদ সংস্থাটি জানায়, উইয়াহ মাত্র ১৮ মাস আগে তার নির্বাচনী প্রচারণায় দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক পতনের কঠোর সমালোচনা করেন। এখন এসবই তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ এবং রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশটির অর্থনীতি প্রায় ভেঙে পড়েছে।

0 30

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আজকের সংবাদ শিরোনাম :
%d bloggers like this: