আগস্ট ৪, ২০২১

রাঙামাটিতে আগাম আনারস চাষ করে বিপাকে চাষিরা

১ min read
রাঙামাটিতে আগাম আনারস চাষ করে বিপাকে চাষিরা

রাঙামাটিতে আগাম আনারস চাষ করে বিপাকে চাষিরা

রাঙামাটি প্রতিনিধিঃ ভোরের আঁধার কেটে পূবাকাশে সূর্যের দেখা তখনও মেলেনি। ঘন কুয়াশার মধ্যেই কাপ্তাই হ্রদ পেরিয়ে আনারস নিয়ে শহরের বনরূপার সমতা ঘাটে তরী ভেড়াচ্ছেন চাষিরা। গ্রীষ্মের এই ফল শীতের মধ্যে দেখে চমকে যেতে পারেন যে কেউ।

তবে চমক সৃষ্টি করতে পারলেও খুশি হতে পারছেন না চাষিরা। অধিক মুনাফার আশায় অনেক স্বপ্ন নিয়ে আগাম আনারস বাগান করে এখন মাথায় হাত তাদের। প্রত্যাশিত দাম না পেয়ে ঠোঁটের কোণে হাসিটা যেন মলিন হয়ে গেছে সবার।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে,গত বছর এক হাজার ৭৯৭ হেক্টর জমিতে ৪৬ হাজার ৮৭০ মেট্রিক টন আনারস উৎপাদন হয়েছিল। এবার আগাম আনারস বাজারে আসার পরও হাসি নেই চাষিদের মুখে।

বাজারে আনারসের চাহিদা না থাকায় কমমূল্যে আনারস বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। প্রত্যাশিত মুনাফা পাচ্ছেন না। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন,শীতের কারণে আনারসের চাহিদা না থাকায় ক্রেতারা আনারস কিনছেন না।

ফল উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ। এই অর্জনে পাহাড়ের হানিকুইন জাতের সুমিষ্ট জাতের আনারসেরও অবদান আছে।

তবে রাঙামাটিতে প্রতি বছর আনারসের ব্যাপক উৎপাদন হলেও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করছেন চাষিরা। সংরক্ষণের কোনও ব্যবস্থা না থাকায় বাম্পার ফলনের পরও বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে তাদের।

আনারস চাষি মঙ্গল কুমার চাকমা বলেন,দুর্গম পাহাড় থেকে অনেক কষ্ট করে এই সমতাঘাটে আনারস বিক্রি করতে নিয়ে আসি। কিন্তু দাম শুনে মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। পাইকাররা যে দাম বলছে এতে বাগান পরিচর্যায় খরচও উঠবে না।

নানিয়ারচর বুড়িঘাট এলাকার চাষি সুভাষ চাকমা বলেন,আনারস মূলত চাষ হয় বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে। কিন্তু তখন বৃষ্টি থাকায় দ্রুত আনারস নষ্ট হয়ে যায়। একারণে আমরা আগাম আনারস চাষ শুরু করি।

তবে এই সময় এতো আনারস থাকার কথা না। সবাই আমার মতো লাভের আসায় আগাম চাষ করার করাণে দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে না।

আরেক চাষি রকি চাকমা বলেন, দুই হাজার আনারস বাজার এনে ১০ টাকা পিস করে বিক্রি করেছি। বাগানে আরও ১৭ হাজার আনারস আছে। বোট ভাড়া, লেবার খরচ দিয়ে এই দামে বিক্রি করলে লস হয়।

পাইকারি ক্রেতা মনসুর আলী ও বাতেন মিয়া বলেন,শীতের কারণে বাজারে আনারসের চাহিদা কিছুটা কম। একই সঙ্গে পথে পথে ইজারার টাকাও আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। ফলে খরচও পড়ছে বেশি। সে কারণে প্রত্যাশিত দাম পাওয়া যাচ্ছে না।

রাঙামাটি কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক বলেন,গত কয়েক বছরে আগাম আনারস চাষে অধিক মুনাফা পাওয়ায় এবার অধিকাংশ চাষি এতে ঝুঁকে পড়েন। এ কারণে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আমরা রাজশাহীর মতো চাষিদের এলাকাভিত্তিক নির্দিষ্ট উৎপাদনের পরামর্শ দেওয়ার পরিকল্পনা করছি। যাতে করে ফল একেক এলাকায় একেক সময় বের হয়। তাতে চাষিরা ভালো দাম পাবেন,চাহিদা থাকবে ও ফল নষ্ট হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *