আগস্ট ৫, ২০২১

যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা ২০২৭ পর্যন্ত

১ min read

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এখনও স্থগিত রয়েছে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক বাজার বা জিএসপি (জেনারেলাইজড সিসটেম অব প্রিফারেনসেস) সুবিধা। তবে যুক্তরাজ্যের বাজারে চলমান এই শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা আগামী ২০২৭ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রথম বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্মেলন নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সুসংবাদ শুনিয়েছেন যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসন।

বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হলেও দুই ধাপে তিন বছর করে বাংলাদেশের পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা বা জিএসপি পাবে জানিয়ে মঙ্গলবারের সম্মেলন প্রসঙ্গে গতকাল বুধবার ডিকসন বলেন, বিশেষ করে উচ্চমানের সেবা খাতসহ যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশে ব্যবসার সুযোগ বাড়ছে। রপ্তানিভিত্তিক বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিকে বিকশিত করার ক্ষেত্রে সহযোগিতার অংশ হিসেবে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হলেও দুই ধাপে তিন বছর করে যুক্তরাজ্যের বাজারে জিএসপি সুবিধা পাবে। প্রথম ধাপে ২০২৪ সাল আর দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সাল পর্যন্ত জিএসপি সুবিধা পাবে। তার মানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য এ সময় পর্যন্ত শুল্ক আর কোটামুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখার নিশ্চয়তা দিচ্ছি। এরপর কী ঘটবে সেটা নির্ভর করবে আমাদের জিএসপি নীতিমালা কেমন হবে, তার ওপর। অর্থাৎ আগামী ছয় বছর যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশ অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পেতে থাকবে।

তবে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার নিজ দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশের উন্নতির ওপর জোর দেন। গত মঙ্গলবার দুই দেশের সংলাপে এ বিষয়গুলো এসেছে জানিয়ে তার ভাষ্য, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আকৃষ্ট স্থান হিসেবে তুলে ধরার স্বার্থে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, পদ্ধতিগত অনিশ্চয়তা, চুক্তি বাস্তবায়নের শর্তাবলি ও দুর্নীতি দূর করার পাশাপাশি করের হারের মতো বিষয়গুলোর সুরাহা হওয়াটা জরুরি। আর এসব বিষয় সুরাহার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অঙ্গীকার হচ্ছে পূর্বশর্ত।

বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষা খাতে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের বিষয়ে জানতে চাইলে রবার্ট ডিকসন বলেন, বাণিজ্য সংলাপে আন্তরাষ্ট্রীয় উচ্চশিক্ষার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত আইনের কারণে ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যের অন্তত ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায়। কারিগরি ও পেশাগত কাজের জন্য বিশেষায়িত যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশে এসে শ্রীলঙ্কা ও মালয়েশিয়ার মতো সাফল্য নিশ্চিত করতে চায়। তারা এখানে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করবে। তবে প্রক্রিয়াগত যেসব সমস্যা আছে তা অচিরেই দূর হয়ে যাবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের তৃতীয় বৃহত্তম গন্তব্য যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৩৪০ কোটি পাউন্ড। এর মধ্যে গত বছর বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ২৮০ কোটি পাউন্ডের পণ্য। আর যুক্তরাজ্য থেকে আমদানি করেছে ৬৩ কোটি পাউন্ডের পণ্য। মূলত যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানির অধিকাংশই হচ্ছে তৈরি পোশাক। বলাবাহুল্য, আর বাংলাদেশে দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ হচ্ছে যুক্তরাজ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *