আগস্ট ৩, ২০২১

যাত্রীসেবায় নজর দিন

১ min read

বিমানকে প্রধানমন্ত্রী

জবাবদিহি ডেস্ক : দেশের বিমান বহরে আরও দুটি নতুন এয়ারক্রাফট যোগ করা উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের বিমানগুলোকে সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খবর বাসসের

গতকাল রোববার সকালে নতুন ক্রয়কৃত ড্যাশ ৮-কিউ৪০০ মডেলের দুটি উড়োজাহাজ আকাশতরী এবং শ্বেতবলাকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যারা জড়িত সবাইকে আমি অনুরোধ করব এটা আমাদের দেশ, লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে এদেশ আমরা স্বাধীন করেছি। তাই এদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা সকলেরই দায়িত্ব ও কর্তব্য।

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। তিনি সরকারে আসার পর এ পর্যন্ত ১৬টি নতুন বিমান ক্রয় করে বিমান বহরে যোগ করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সর্বমোট এখন ২১টি উড়োজাহাজ আছে, এগুলো যেন সুরক্ষিত থাকে এবং যাত্রীসেবায় বিশেষ নজর দেয়ার জন্য আমি সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটা যত উন্নত হবে বা অর্থনৈতিকভাবে আমরা যত বেশি স্বাবলম্বী হতে পারব যাত্রী সেবা যত বেশি উন্নত করতে পারব, তাতে দেশের লাভ হবে। দেশের মানুষের লাভ হবে এবং আমাদের দেশটাও তত বেশি সামনে এগিয়ে যাবে। কাজেই সেদিকে লক্ষ্য রেখে আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আপনারা পালন করবেন- সেটাই আমি চাই।

আমাদের নতুন বিমানগুলোয় ওয়াইফাই প্রযুক্তি সংযোজন করা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিমানে যারা যাতায়াত করেন তাদের বেকার বসে থাকা লাগবে না, সেখানে বসেই ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজটাও চালাতে পারবেন, সে সুযোগ আমরা তৈরি করে দিয়েছি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যখন সারা বিশ্বে ঘোরে, বিদেশে যখন যায় তখন বাংলাদেশেরই প্রতিনিধিত্ব করে। সেজন্য সব সময় আমাদের প্রচেষ্টা ছিল যে এই বিমান যেন ভালোভাবে, সুন্দরভাবে আমরা গড়তে পারি।

বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, হজযাত্রীরা যখন যান, আগে বাইরে থেকে প্লেন নিয়ে আসতে হতো। এখন আমরা আমাদের নিজস্ব প্লেনেই হাজিদের খুব ভালোভাবে পাঠাতে পারি এবং ফেরত আনতে পারি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্মাণাধীন অত্যাধুনিক টার্মিনালের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হযরত শাহজালালে অত্যন্ত আধুনিক টার্মিনাল আমরা নির্মাণ করে দিচ্ছি। যাতে প্লেনসেবাটা আরও উন্নত মানের হয়।

আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের পদক্ষেপের উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারে আসার পর রাজশাহী বিমানবন্দর, বরিশাল বিমানবন্দর, সৈয়দপুর বিমানবন্দর সবই প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা ২০০৯ সালে সরকারে আসার পর আবার সেগুলো চালু করি। সরকার সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উন্নতি করছে, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী, বরিশাল সব বিমানবন্দর যেমন চালু করা হয়েছে পাশাপাশি কক্সবাজার বিমানবন্দরকে উন্নত ও আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার রুটে কক্সবাজার বিমানবন্দর খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আর্থিকভাবে লাভবান হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে নতুন কেনা বিমান দুটির ওপর ভিডিও তথ্যচিত্রও পরিবেশিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *