আগস্ট ৩, ২০২১

মেয়র তাপসের বহরের সঙ্গে ফেরিতে ওঠায় মারধরের অভিযোগ

মেয়র তাপসের বহরের সঙ্গে ফেরিতে ওঠায় মারধরের অভিযোগ

মেয়র তাপসের বহরের সঙ্গে ফেরিতে ওঠায় মারধরের অভিযোগ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের বহরের জন্য নির্ধারিত ফেরিতে ওঠায় ব্যক্তিগত গাড়ির দুই যাত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মেয়রের প্রটোকলে থাকা সদস্যদের বিরুদ্ধে। গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাদারীপুরের বাংলাবাজার ফেরিঘাটে এ ঘটনা ঘটে।

ওই দুই যাত্রী হলেন ঢাকার সুপার এক্সপার্ট কোম্পানির চেয়ারম্যান নূহ আলম রাজীব (৩৮) এবং একই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রাশেদ ভুইয়া (৩৫)। তারা দুজনই বরিশাল থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন। এদিকে, মারধরের শিকার তাদের কান্নাকাটির একটি ভিডিও গতকাল রোববার (১৪ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

বাংলাবাজার ঘাট ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঝড়ো বাতাস আর বৃষ্টির কারণে গত শনিবার বিকেলে এক ঘণ্টা বন্ধ ছিল ফেরি চলাচল। এসময় ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় ঘাটে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে। ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মেয়র তাপসের বহর বাংলাবাজার ঘাটে আসে। তার বহরের গাড়িগুলো ওঠার জন্য দুটি ফেরি আগে থেকেই অপেক্ষা করে। মেয়র তাপসের বহরের সঙ্গে ফেরিতে ওঠে নূহ আলম রাজীবের সঙ্গে থাকা দু’টি প্রাইভেটকার। এরপরই মেয়র তাপসের প্রটোকলে থাকা কয়েকজন তাদের ফেরি থেকে নেমে যেতে বললে রাজীবের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

একপর্যায় মেয়রের প্রটোকলে থাকা সদস্যরা তাদের হাতের ওয়ারলেস দিয়ে বেদম মারধর করে রাজীবকে। রাজীবকে বাঁচাতে তার সহকারী রাশেদ এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে ফেরি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় রাজীব ও তার সহযোগী রাশেদকে উদ্ধার করে শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর এলাকার ইসলামিয়া হাসপাতালে ভর্তি করে। রাত ১১টার দিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে তারা ঢাকায় চলে যায়। বেদম মারধরে দু’জনের মাথায় ও চোখে জখম হয়েছে বলে জানায় চিকিৎসক।

মারধরে আহত নূহ আলম রাজীব বলেন, ‘ঘাটের পুলিশ মেয়রের বহরে ফেরিতে উঠতে বলায় আমরা ফেরিতে উঠি। ওঠার পরেই মেয়রের প্রটোকলে থাকা ওয়ারলেস ও পিস্তলধারী কয়েকজন আমাদের ফেরি থেকে নেমে যেতে বলে। আমরা তাদের অনুরোধ জানালে তারা চড়াও হয়ে আমাদের এলোপাতাড়ি মারধর করে। ওয়ারলেস দিয়ে মাথায় যেভাবে মারছে একটা মানুষ মানুষকে এভাবে মারতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভিআইপি বলে তারা যা খুশি করবে এটা হতে পারে না। দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমাদের যে লাঞ্ছনা করা হয়েছে, যেভাবে মারা হয়েছে আমরা তার বিচার চাই।’

আহত রাশেদ ভুইয়া বলেন, ‘কোনো কথাবার্তা ছাড়াই তারা ৮ থেকে ১০ জন লোক ওয়ারলেস দিয়ে আমাদের মারধর করে। ফেরিতে থাকা পুলিশ তাদের থামতে বললেও তারা থামে নাই।’

বাংলাবাজার ফেরিঘাটের ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক আশিকুর রহমান বলেন, ‘ঘাটে ফেরি কিছু সময় বন্ধ থাকায় অনেক যানজট ছিল। এর মধ্যে মেয়রের বহর আসে। বহরে থাকা গাড়িগুলো ফেরিতে ওঠার পরে দুই যাত্রীকে মারধরের কথা শুনেছি। তবে আমাদের কাছে কেউ আগে বা পরে কোনো অভিযোগ করেনি। তাই বিষয়টি আমরা সেভাবে জানিও না।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মেয়রের বহরের এক কর্মকর্তা বলেন, ফেরিটি সিটি করপোরেশনের বহরে থাকা গাড়ির জন্য বরাদ্দ ছিল। সেখানে বাইরের দুটি গাড়ি ওঠায় বহরের দুটি গাড়ি উঠতে পারছিল না। ওই দুটি গাড়িতে যারা ছিলেন, তাদের নামার জন্য বলা হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *