সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১

মেনন থেকে শুরু করে আরও অনেক নেতারা ব্যাগভর্তি টাকা নিতেন সম্রাটের কাছ থেকে

১ min read

নিউজ ডেস্ক : ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাট র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তার ক্যাসিনোর টাকার ভাগ পেতেন ‘ভিআইপিরা’। প্রতিমাসে ব্যাগভর্তি টাকা থেকে সম্রাটের কার্যালয় থেকে বের হতেন প্রভাবশালী নেতারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।নেতা নামধারী অনেকেই সম্রাটের দফতরে হাজির হতেন জুয়ার টাকার ভাগ নিতে। প্রতি মাসে ব্যাগভর্তি করে জুয়ার টাকা নিয়ে তারা বেরিয়ে যেতেন। সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজেও এর প্রমাণ রয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বিভিন্ন নেতা ছাড়াও টাকার ভাগ পেতেন পল্টন, মতিঝিল ও ফকিরাপুল এলাকার প্রভাবশালীরা।

কেলেঙ্কারিতে জড়িত আরও বেশ কয়েকজন বড় মাপের রাজনীতিক দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন বলেও জানান সম্রাট।

দেশের সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননও সম্রাটের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন বলে তথ্য দিয়েছেন সম্রাট। রাশেদ খান মেনন ঢাকার ইয়াংমেনস ক্লাবের চেয়ারম্যান। এই ক্লাবের মালিক যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, যিনি সম্রাটের শীষ্য। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে খালেদ ও সম্রাট ক্যাসিনো থেকে মেননের টাকা নেয়ার তথ্য দিয়েছেন।

১৮ সেপ্টেম্বর ইয়াংম্যানস ক্লাবে অভিযান চালানোর সময় ক্যাসিনো থেকে আর্থিক সুবিধাভোগীদের নামের একটি লম্বা লিস্ট উদ্ধার করে র‌্যাব। এ তালিকার ৫ নম্বরে নাম আছে রাশেদ খান মেননের। তার নামের পাশে লেখা আছে ১০ লাখ টাকা। অর্থাৎ ক্যাসিনো থেকে মাসে রাশেদ খান মেনন ১০ লাখ টাকা পেতেন। অবশ্য ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন রাশেদ খান মেনন এমপি। তিনি বারবারই গণমাধ্যমে বলছেন, ক্লাব পরিচালনার সঙ্গে জড়িত থাকলেও ক্যাসিনোর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

সম্রাট আরও বলেন, তিনি নিজেও ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রাশেদ খান মেনন তাকে নির্বাচনে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন। সম্রাটকে বিশেষ স্নেহ করতেন রাশেদ খান মেনন। রাজনৈতিক মহলে সম্রাটের অকুণ্ঠ প্রশংসা করতেন। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে প্রকাশ্যেই বলতেন ‘সম্রাটের হৃদয় আকাশের মতো উদার। সে একদিন অনেক বড় নেতা হবে’।

রাশেদ খান মেনন ছাড়াও যুবলীগের আরও বেশ কয়েকজন নেতার নাম বলেছেন সম্রাট। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাওসার। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর পরই মোল্লা কাওসার দেশ ছাড়েন। প্রথম তিনি ভারতে আত্মগোপন করেন। পরে ভারত হয়ে চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে। মোল্লা কাওসার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটন সিটিতে মেয়ের বাসায় থাকছেন বলে জানিয়েছে সূত্র।

জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট জানিয়েছেন, আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসী থেকে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে যুবলীগের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করেন রাশেদ খান মেনন। খালেদকে আরও বড় পদ-পদবি দেয়ার জন্য তিনি বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলে তদবির করেন। মেননের আশ্রয় পেয়ে রাজধানীর বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেন খালেদ। রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে খালেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই কলেজে নিয়োগবাণিজ্য থেকে শুরু করে উন্নয়নকাজ ও শিক্ষার্থী ভর্তিতে বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়। খালেদের মাধ্যমে এই টাকার একটি বড় অংশ চলে যেত রাশেদ খান মেননের পকেটে।
রিমান্ড জিজ্ঞাসাবাদে বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা খালেদও তথ্যপ্রমাণ দিয়ে মেননের চাঁদাবাজির ফিরিস্তি তুলে ধরেন। খালেদ জানান, মেনন ভাইকে বিভিন্ন টেন্ডার থেকেও টাকাপয়সা দিতে হতো। বড় বড় অনেক ঠিকাদারি কাজের টেন্ডার পাওয়ার পর ৫ পার্সেন্ট হারেও কমিশন নিয়েছেন মেনন। জিকে শামীমের সঙ্গে তার বিশেষ সখ্য গড়ে ওঠে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *