সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১

মেকআপ ত্বকের যে ক্ষতি করে

১ min read

জবাবদিহি ডেস্ক : প্রায়ই প্রসাধন ব্যবহারে ত্বকের ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। তবে অনেকের ক্ষেত্রেই মেকআপের কুপ্রভাব দেখা যায়। তার কারণ দু’টি। প্রথমত, ত্বকের ধরন বুঝে প্রসাধন সামগ্রী ব্যবহার করেন না। দ্বিতীয়ত, দিনের শেষে মেকআপ ঠিক মতো তোলাও হয় না। মেকআপ কেনা, তার ব্যবহার ও প্রসাধনের পরে পরিচর্যার কিছু কায়দা মনে রাখলে এই সব সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব।

রকী ভাবে ক্ষতি, কোথায় ক্ষতি
মেকআপে যদি রাসায়নিক রঞ্জক বেশি মাত্রায় থাকে, তবে তাতে জীবাণু মিশতে পারে। এই ধরনের মেকআপ ত্বকে বেশিক্ষণ থাকলে র‌্যাশ, ব্রণ হয়। ত্বকের নতুন কোষ তৈরি হতেও বাধা পায়। তখনই চামড়া স্থিতিস্থাপকতা হারায়, তাতে বলিরেখা পড়ে। সবচেয়ে আগে ভাঁজ পড়ে চোখের চার পাশে। চেহারায় বয়সের ছাপ আসে। আর কোনও ভাবে যদি মেকআপের অবশিষ্ট ত্বকে থেকে যায়, তবে তা রোমকূপের মুখ আটকে দেয়। ওই ছিদ্রে ব্যাকটিরিয়া জন্মায়। ফলে ছিদ্র বড় হতে থাকে। তখনই ত্বকে গর্ত দেখা দেয়। ত্বকের স্থিতিস্থাপকতাও নষ্ট হয়। ত্বক নিষ্প্রাণ, বয়স্ক দেখায়। নিম্ন মানের কাজল, আইলাইনার ভুল ভাবে ব্যবহার করলে চোখে সংক্রমণও হতে পারে। চোখ চুলকায়, জ্বালা করে, লাল হয়। দৃষ্টিশক্তিও দুর্বল হতে শুরু করে। তাই চোখের মেকআপ নির্বাচনের সময়ে সাবধানতা বিশেষ জরুরি।
সারা দিন ঠোঁটে লিপস্টিক লাগালে লিপকালার ত্রুটিপূর্ণ হলে ঠোঁটের স্বাভাবিক রং চলে যেতে পারে। তখন ঠোঁট শুকিয়ে ছাল ওঠে, কালচে ছোপও দেখা দেয়।

সাবধান!
কোনও মেকআপে আপনার ত্বক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ না করলে কয়েকটি লক্ষণ মারফত তা জানান দেয়। কোনও প্রডাক্ট ব্যবহারের পরে হঠাৎ ক্লান্তি বোধ, চোখে জ্বলুনি, ঘুম পাওয়া মানে তা আপনার সহ্য হচ্ছে না। গাল কুটকুট করলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই র‌্যাশ বেরোতে পারে। মাথা ধরছে মানে এই প্রডাক্টে বেশি রাসায়নিক রয়েছে বা আপনি অতিরিক্ত মেকআপ করেছেন। এই লক্ষণ দূর না হলে প্রাথমিক ভাবে জল দিয়ে ভাল করে ধুয়ে নিন। তবে অন্য মেকআপ দিয়ে তা ঢাকার চেষ্টা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

রপ্রসাধন নির্বাচনের নিয়মাবলি
ভাল গুণমানের প্রডাক্টে এমন উপাদান থাকে, যা ত্বকের স্বাস্থ্যরক্ষা করে, সজীব রাখে, দ্যুতি বাড়ায়। তাই খুব উন্নত মানের প্রডাক্ট বাছলে ত্বক ভাল থাকবে।

মিনারেলসমৃদ্ধ মেকআপ বেছে নেওয়া ভাল। কারণ এই ধরনের প্রসাধনী ত্বকে আটকে না থেকে তার উপরের পরতে আলগা লেগে থাকে। ফলে রোমকূপ বন্ধ হয় না। আবার পরিবেশের ক্ষতিকর পদার্থগুলি ত্বকে ঢুকতে বা মেকআপে মিশতেও বাধা দেয়।

রমেকআপের স্বাস্থ্যকর অভ্যেস
স্ক্রাব করে, দু’বার মুখ ধুয়ে তবে মেকআপ শুরু করুন। মেকআপ ঠিক করে না তোলার জন্যই ত্বকে বেশির ভাগ সমস্যা হয়। মেকআপ না তুলে ভুলেও ঘুমোতে যাবেন না। এতে রোমকূপের মুখ বুজে গিয়ে সমস্যার সৃষ্টি করে।
মেকআপ ব্রাশগুলিও পরিস্কার রাখুন। প্রত্যেক বার মেকআপের পরে পরিষ্কার তুলো দিয়ে আলতো করে ব্রাশ-তুলি ঝেড়ে নিন। সপ্তাহে এক বার স্প্রে- ক্লেনজার এবং মাসে এক বার করে শ্যাম্পু দিয়ে মেকআপ কিটের যত্ন নিন। এতে ব্রাশ বেশি দিন টিকবে।

যতই ভাল প্রডাক্ট হোক, সব প্রসাধনীর এক্সপায়ারি ডেট থাকে। কোনও কসমেটিকস অনেক মাস বা বছর ধরে ব্যবহার করবেন না।

অল্প-বিস্তর হলেও মেকআপে ত্বক শুষ্ক হয়। তাই প্রাইমারেরও আগে ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে মেকআপ করা শুরু করুন। এতে মূল মেকআপ ও ত্বকের মধ্যে একটি পার্থক্য থাকবে। সকালে মেকআপ লাগিয়ে বেরোতে হলে সানস্ক্রিন- বেসড ময়শ্চারাইজার জরুরি। সানস্ক্রিনে অ্যান্টি-এজিং উপাদান থাকে। মেকআপের জন্য ত্বক কুঁচকে গেলে সানস্ক্রিন সামাল দিয়ে দেবে। নিজের মেকআপ অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করা করবেন না।

রপনেরো মিনিটের ম্যাজিক
মেকআপ করলে ত্বকের বাড়তি পরিচর্যা প্রয়োজন। দেড় মাস অন্তর ডিপ ক্লিন ফেশিয়াল করান। এক দিন অন্তর পিল অফ মাস্ক ব্যবহার করুন। মুলতানি মাটি, গোলাপ জলে মিশিয়ে পনেরো মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে নিন। শসা, লেবুর রস ও অ্যালো ভেরা জেলের মিশ্রণ লাগান। ঠিক পনেরো মিনিট পরে মাস্কটা তুলে নিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *