সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১

মার্কিন অভিযানের শেষ মুহূর্তে আত্মঘাতী হয়েছিলেন বাগদাদি!

১ min read

নিউজ ডেস্ক: এবারে অতি গোপনীয়তার সাথে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্র। সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর চালানো অভিযানকালে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদি নিহত হয়েছেন আত্মঘাতী হয়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার হোয়াইট হাউসে এক ঘোষণায় এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, শনিবার রাতে উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় অভিযানকালে বাগদাদি নিজের শরীরে থাকা সুইসাইড ভেস্টের বিস্ফোরণ ঘটান। ট্রাম্প বলেন, ইসলামিক স্টেট গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্বের শীর্ষ সন্ত্রাসী আবু বকর আল-বাগদাদিকে বিচারের আওতায় এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা।

অভিযানে কোনো মার্কিন সেনা নিহত হয়নি, বরং বাগদাদির বেশ কয়েকজন অনুসারী নিহত হয়েছেন। অভিযানের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, বাগদাদির অবস্থান করা আস্তানায় অভিযান চালানোর পর শিশুসহ ১১ জনকে অক্ষত অবস্থায় সরিয়ে নেয়া হয়।

তবে বাগদাদিকে ঘিরে থাকা তার অনুসারীরা বাধা দিলে সেনাদের গুলিতে তারা নিহত হন। এরপর একটি সুড়ঙ্গে ঢুকে পড়েন বাগদাদি। সুড়ঙ্গের শেষপ্রান্তে গিয়ে তিন শিশুসহ নিজেকে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেন। বিস্ফোরণে বাগদাদির দেহ ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে গেছে। অভিযানে দুই নারীও নিহত হয়েছেন বলে জানান ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, বাগদাদির ওপর কয়েক সপ্তাহ ধরে নজরদারি করা হচ্ছিল। ২-৩টি পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর সফল অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়। হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে বসে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অভিযান সরাসরি দেখেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, এটি ছিল খুবই বিপজ্জনক অভিযান। ওই সময় সেনাদের সঙ্গে স্থানীয়দেরও গোলাগুলি হয়। বাগদাদি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সে ছিল কুকুরের মতো।’

অভিযানকালে মার্কিন সেনারা রাশিয়ার সেনাদের উপস্থিতিতে আকাশসীমা ব্যবহার করে বলে জানান ট্রাম্প। সফল অভিযান পরিচালনায় সহায়তার জন্য তিনি রাশিয়া, তুরস্ক, সিরিয়া, ইরাক ও সিরীয় কুর্দিদের ধন্যবাদ জানান।

ট্রাম্প বলেন, অভিযানের আগে কংগ্রেসের কিছু আইনপ্রণেতাকে জানানো হয়েছিল। গোপনীয়তা ভঙ্গ ও তথ্য ফাঁস হওয়ার ভয়ে সবাইকে এ তথ্য জানানো হয়নি। এ সময় তিনি ওয়াশিংটনকে ‘লিকিং মেশিন’ হিসেবে অভিহিত করেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, এক সপ্তাহ আগে চূড়ান্ত অভিযানের অনুমতি দেন ট্রাম্প। বাগদাদিকে জীবিত অথবা মৃত ধরার অনুমতি দেয়া হয়।

ট্রাম্পের ভাষণের আগেই অবশ্য মার্কিন বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম বাগদাদি নিহতের খবর দেয়।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পর্যবেক্ষক গ্রুপ সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে হেলিকপ্টারের গুলিতে একটি গ্রামের নয়জন বাসিন্দা নিহত হয়েছেন, যেখানে আইএসের উপস্থিতি রয়েছে। সিরিয়ায় কুর্দি বাহিনীর কমান্ডার টুইট করেন, মার্কিনিদের সঙ্গে মিলে যৌথভাবে তারা একটি ‘ঐতিহাসিক’ অভিযান পরিচালনা করেছেন।

বিবিসি বলছে, আবু বকর আল-বাগদাদির আসল পরিচয় কী তা নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। তার আসল নাম ইব্রাহিম আওয়াদ আল-বদরি। ধারণা করা হয়, ১৯৭১ সালে ইরাকের সামারার কাছে একটি সুন্নি পরিবারে তার জন্ম। অল্প বয়সে ধর্মের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

তিনি ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর কোরানিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৪ সালে ইঙ্গ-মার্কিন আক্রমণের শিকার হয়ে ক্যাম্প বুকাতে বন্দি হন তিনি। সেখানে তিনি সাবেক ইরাকি গোয়েন্দা কর্মকর্তাসহ অন্য বন্দিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

তবে অনেকের ধারণা, যখন তাকে দক্ষিণ ইরাকে একটি মার্কিন সামরিক ক্যাম্পে ৪ বছর আটকে রাখা হয়েছিল তখনই আসলে আল বাগদাদি জঙ্গিবাদে দীক্ষা নেন। পরে ইরাকে আল কায়েদার নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন।

২০১০ সালে নিজেদের ‘ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড লেভান্ট’ বলে ঘোষণা দেন। ২০১১ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র বাগদাদিকে সন্ত্রাসী বলে ঘোষণা করে। তাকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

বাগদাদিকে সবশেষ ২০১৪ সালে প্রকাশ্যে দেখা যায়। ইরাকের মসুলের গ্র্যান্ড আল নুরি মসজিদে বক্তৃতায় তিনি নিজেকে আইএস খেলাফতের নেতা দাবি করেন। এর আগে কয়েকবার তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *