জুলাই ২৭, ২০২১

মাদকবাহী ট্রাক উঠিয়ে র‌্যাব সদস্যকে হত্যা, আইজিপি ও র‌্যাব ডিজির শোক

১ min read
মাদকবাহী ট্রাক উঠিয়ে র‌্যাব সদস্যকে হত্যা, আইজিপি ও র‌্যাব ডিজির শোক

মাদকবাহী ট্রাক উঠিয়ে র‌্যাব সদস্যকে হত্যা, আইজিপি ও র‌্যাব ডিজির শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলো যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে। এমন প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জীবনবাজি রেখে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে র‌্যাব। সমাজকে সুরক্ষা দিতে গতকাল ভোরে মাদকবিরোধী একটি অভিযানে যান। কিন্তু মাদকবহনকারী চোরাকারবারি ট্রাক মো. ইদ্রিস (২৮) নামে এক র‌্যাব সদস্যের ওপর ট্রাক উঠিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। নিহত ইদ্রিস র‌্যাব-১ এর পোড়াবাড়ি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। ইদ্রিসের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন স্ত্রী শারমিন আক্তার। স্বামীর লাশ দেখে বারবার মূর্ছা যান তিনি। সুখের সংসারে নিমিষেই নেমে আসে কালো ছায়া। স্বামীর এই করুণ মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পাছিলেন না স্ত্রী শারমিন আক্তার। তার কান্নায় র‌্যাবের পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের আকাশ ভারী হয়ে ওঠে। এসময় সহকর্মী ও আশপাশের মানুষও কান্নায় ভেঙে পরেন। উপস্থিত সবাই বলছেন, দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে এক বীরের করুণ মৃত্যু হয়েছে। মাদকসন্ত্রাসীরা ইদ্রিসকে পরিকল্পিভাবে ট্রাক হামলা করে হত্যা করেছে।

এদিকে ইদ্রিসকে হত্যাকাণ্ডের খবরে র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ, র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন ও র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়ার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ, র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মুনির হাসানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ নিহত কনস্টেবল মো. ইদ্রিসের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। নিহত মো. ইদ্রিস মোল্লা মানিকগঞ্জের ঘিওর থানার কেল্লাই গ্রামের ইমান মোল্লার ছেলে।
গতকাল রোববার ভোরে সকালে ভালুকা এলাকায় কোকাকোলা ফ্যাক্টরির কাছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মাদকব্যবসায়ীদের ধাওয়া করলে মাদকবাহী ট্রাক মোটরসাইকেলসহ মো. ইদ্রিস মোল্লাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলেই মো. ইদ্রিস নিহত হন। এ সময় ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার ও ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করা হলেও ট্রাকের চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় ময়মনসিংহের ভালুকা থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। মামলা নম্বর-২৩। মামলায় ট্রাকচালকহ ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভালুকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মইন উদ্দিন।

র‌্যাব-১এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মুনির হাসান জানান, রোববার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে গোপন সূত্রে র‌্যাব জানতে পারে যে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী হতে ৩০ কেজি গাঁজা নিয়ে একটি মাদকের চালান গাজীপুরের মাওনা হয়ে ময়মনসিংহ যাচ্ছে। ওই সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১ এর আভিযানিক দল পোড়াবাড়ী ক্যা¤েপর সামনে একটি চেকপোস্ট বসায়। সন্দেহজনক একটি ট্রাককে (ঢাকা মেট্রো ড-১৪-৩৫৮১ ) চেকপোস্টে থামার জন্য সকাল সাড়ে ছয়টায় সংকেত দিলেও ট্রাকটি সংকেত অমান্য করে চলে যায়। পরে র‌্যাব সদস্য কনস্টেবল মো. ইদ্রিস মোল্লা ও সিনিয়র ডিএডি মো. গোলাম মোস্তফা মোটরসাইকেল নিয়ে ট্রাকের পিছনে ধাওয়া করে। ট্রাকটি বাঘের বাজার এলাকায় পৌঁছালে চলন্ত অবস্থায় মোটরসাইকেলের সামনে এক বস্তা গাঁজা রাস্তার ওপরে ফেলে ধাওয়ারত র‌্যাব সদস্যদের হত্যার চেষ্টা করে। মোটরসাইকেলের পিছনের ডিএডি মো. গোলাম মোস্তফা রাস্তা হতে গাঁজা সংগ্রহ করে ওই স্থানে অবস্থান করতে থাকে। কনস্টেবল মো. ইদ্রিস মোল্লা একাই ট্রাক অনুসরণ করে এবং তার পিছনে র‌্যাবের একটি মাইক্রোবাস ট্রাকের পিছনে অনুসরণ করতে থাকে। মোটরসাইকেল নিয়ে মো. ইদ্রিস মোল্লা গাজীপুর পার হয়ে ভালুকার দিকে কোকাকোলা ফ্যাক্টরির বিপরীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ট্রাকটির গতিরোধ করে। একপর্যায়ে মাদক বহনকারী ট্রাকচালক র‌্যাব সদস্য মো. ইদ্রিস মোল্লাকে ট্রাকচাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই কনস্টেবল মো. ইদ্রিস মোল্লা মারা যান। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। পরে ধাওয়া দিয়ে ট্রাকটি ময়মনসিংহের সিডস্টোর এলাকা হতে আটক করা হয়। ট্রাকের ড্রাইভার ও হেলপার পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় ভালুকা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিহত কনস্টেবল ইদ্রিসের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে গাজীপুর পোড়াবাড়ী ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় র‌্যাব-১ এর গাজীপুর পোড়াবাড়ী ক্যাম্পে নিহত মো. ইদ্রিসের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, র‌্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মুনির হাসান, পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের ইনচার্জ লে. কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে সেখান থেকে মানিকগঞ্জের ঘিওরে লাশ দাফনের উদ্দেশে নেয়া হয়েছে।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়ার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, কনস্টেবল ইদ্রিসকে মাদককারবারিরা নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমরা মাদক ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাব। জীবনবাজি রেখে আমরা এখনো প্রস্তুত মাদক ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মোকাবিলা করতে। ভবিষ্যতেও মাদক কারবারি ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মোকাবিলা করে যাব। তিনি বলেন, ইতিপূর্বেও বিভিন্ন অভিযান চলাকালীন র‌্যাবের ২৭ জন সদস্য শহীদ হয়েছেন এবং অভিযান চলাকালীন সময়ে ২২ জন সদস্য গুলিবিদ্ধ হন। এ ছাড়া অভিযান চলাকালীন সময়ে গুরুতর আহত হয়েছেন পাঁচ শতাধিক র‌্যাব সদস্য। আমাদের যতই বাধা আসুক, ভবিষ্যতে অভিযান অব্যাহত রাখব বলে জানান আশিক বিল্লাহ।

উল্লেখ্য, কনস্টেবল মো. ইদ্রিস মোল্লা ১৯৯২ সালের ২৬ জুন মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর থানাধীন কেল্লাই গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ২০১১ সালের ২২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করে (চাকরিকাল ৯ বছর ১ মাস ২২ দিন)। পরে ২০১৯ সালের ৩০ মে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী হতে প্রেষণে র‌্যাবে যোগেদান করে। ব্যক্তিগত জীবনে সে বিবাহিত। র‌্যাবের পক্ষ হতে নিহত মো. ইদ্রিস মোল্লার স্ত্রীকে এক লাখ টাকা তার পিতাকে পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *