আগস্ট ৩, ২০২১

ভালোবাসায় বসন্তবরণ

১ min read
নানা আয়োজনে গতকাল রবিবার বসন্ত উৎসব ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে চারদিকে ছিল সাজ সাজ রব।

নানা আয়োজনে গতকাল রবিবার বসন্ত উৎসব ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে চারদিকে ছিল সাজ সাজ রব।

অভিজিত বনিক: নানা আয়োজনে গতকাল রবিবার বসন্ত উৎসব ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে চারদিকে ছিল সাজ সাজ রব। ভোরের শিশিরকে উপেক্ষা করে প্রকৃতিও যেন সেজেছিল নতুন সাজে। নতুন রূপে। সেই সঙ্গে ভালোবাসা ও ভালো লাগার বিশেষ দিন বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। সব মিলিয়ে করোনা মহামারির পড়ন্ত বেলায় বসন্ত উৎসব ও ভালোবাসা দিবস এক অন্যরকম সুখ অনুভূতি নিয়ে এসেছিল জাতি,ধর্ম নির্বিশেষে।

গতকাল রবিবার ছিল ফাগুনের প্রথম দিন। সেই সঙ্গে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। মহামারি ছাপিয়ে ভালোবাসার রঙ লেগেছিল সবার মনে। অন্যান্য দিনের তুলনায় রাজধানীর শাহবাগসহ অন্যান্য ফুলের দোকানগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। করোনা মহামারিরোধে সুরক্ষাবিধি, সামাজিক দূরত্ব ভুলে চলেছে ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ। ধূসর-বিবর্ণ ধরণী জুড়ে ফাগুনের রঙের সঙ্গে ভালোবাসা মিলেমিলে একাকার। কবি নির্মলেন্দু গুণের ভাষায়, ‘আগ্রাসী ও অনতিক্রম্য’ এ ঋতু ফাগুন থেকে যে চোখ ফেরানোই দায়! আসলেই ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে মন যেন ভালবাসায় দোলা দিয়ে ওঠে। জাতীয় বসন্ত উদযাপন পরিষদের আয়োজনে গতকাল রবিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় বসন্ত উৎসব। তাতে জীবনের সীমাবদ্ধ বৃত্তকে পেরিয়ে গাওয়া হয় মলয় বাতাসের গান।আয়োজনে প্রথমেই সুর তোলেন যন্ত্রশিল্পী দীপেন সরকার তার চতুরঙ্গীতে। এরপর সম্মেলক সঙ্গীত ‘ফুল ফাগুনের এলো মরসুম’। ফাল্গুন আর ভালোবাসার মিশ্রণে আবৃত্তি করেন বাচিক শিল্পী ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাগুনের মোহনায় ততক্ষণে দর্শক সারি পরিপূর্ণ হয়েছে বসন্ত ভালোবাসা মানুষের লাল আর বাসন্তী রঙের সাজে। শিল্পীদের সঙ্গে গুণগুণিয়ে সুর ওঠে- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে!

অনুষ্ঠানের আলোচনায় মানজার চৌধুরী সুইট বলেন, বাংলার নতুন পঞ্জিকা অনুযায়ী গত বছর থেকে আমরা ১৪ তারিখে পহেলা ফাল্গুন উদযাপন করছি। আজকে ভালোবাসা এবং বসন্তের যে মাখামাখি, তা আপনাদের সঙ্গে ভাগ করতে চাই। রবীন্দ্রনাথের হাত ধরেই আমরা এই পথে এগিয়েছিলাম, উপমহাদেশের ঋতুর উৎসবে। আমরা আপনাদের নিয়ে বসন্তের অবগাহনে মেতে উঠতে চাই। বসন্তের যে রঙের ছটা, তা সবার ঘরে ঘরে পৌঁছে যাক, বর্ণিল যে আনন্দ, সেটিই আমাদের কাম্য। তবু বসন্ত তার কাল নিয়মে চলে এসেছে। আমরাও সকলে এই বসন্ত পালন করে সেই করোনার যাতনা দূর করতে চাই।
দিনভর নানা আয়োজন

ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নানান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ বিকেলে গেণ্ডারিয়ার সীমান্ত গ্রন্থাগার প্রাঙ্গনেও বসন্ত উৎসবের আয়োজন করে।বসন্ত কথন পর্ব শেষে সেখানে একক সংগীত পরিবেশন করেন দিলদার হোসেন মুক্তার, প্রদীপ সরকার, সংযুক্তা রায়, ঢালী মো. দেলোয়ার, এসএম মেজবা উদ্দিন, শান্তা সরকার, উদয় শংকর বসাক, শ্রাবণী গুহ রায়, ঐশ্বর্য বসাক, মো. টিটু আলী, সাধনা মিত্র ও তাহমিনা খন্দকার মুক্তি।দলীয় সংগীত পরিবেশন করবে সীমান্ত খেলাঘর আসর, গেণ্ডারিয়া কিশলয় কঁচি-কাঁচার মেলা, মৈত্রী শিশুদল, কিশোর থিয়েটার, রঙ্গপীঠ শিশুদল, শাপলা কঁচি-কাঁচার আসর, চাইল্ড-হেভেন ললিতকলা একাডেমি, সপ্তকলির আসর, মহীরুহু, মরমী লোকগীতি শিল্পীগোষ্ঠী। তাছাড়া একক ও দলীয় সংগীতের পরিবেশনাও ছিল।
শিল্পকলা একাডেমিতে বসন্ত উৎসব

বিকালে শিল্পকলা একাডেমির নন্দন মঞ্চে ছিল বসন্ত উৎসবের আয়োজন। সেখানে আলোচনা পর্বে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদও উপস্থিত ছিলেন।

একাডেমির সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্যে ছিল বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড পারফরমিং আর্টস, স্পন্দনের শিশু শিল্পীর দল, নৃত্যালোক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, বাংলাদেশ একাডেমি অফ ফাইন আর্টস, নৃত্যম, নন্দন কলা কেন্দ্র, মারমা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়, ধৃতি নর্তনালয়ের শিল্পীরা ।
দ্বৈত সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী সাজেদ আকবর ও সালমা আকবর, ইবরার টিপু-বিন্দু কনা এবং খাইরুল আনাম শাকিল-কল্পনা আনাম ।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চে রোববার সকালে গানে গানে ঋতুরাজ বসন্তকে স্বাগত জানান শিল্পীরা। একক সংগীতের পরিবেশনায় শিল্পী অপু আমান, সাব্বির, বিউটি এবং দিতি সরকার শোনাবেন বসন্তের গান। দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সংগীতদল, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ভাওয়াইয়া সংগীতদল, সরকারি সংগীত কলেজ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পীরা।

নাটকের অংশবিশেষ পাঠ করবেন শহীদুজ্জামান সেলিম -রোজী সিদ্দিকী এবং অনন্ত হীরা -নূনা আফরোজ দম্পতি। সবশেষে ছিল ব্যান্ডদল ‘স্পন্দন’-এর পরিবেশনা।
হাতিরঝিল গিয়ে দেখা গেলো ছোট, বড় কিংবা বয়োবৃদ্ধ সবার মাঝেই ভালোবাসার ছড়াছড়ি।
বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ঘিরে যুগলদের ছিল নানা আয়োজন। কেউ পাঁচ তারকা হোটেল কিংবা পার্কে বসে প্রিয়জনের সঙ্গেই সঙ্গ দিচ্ছেন। তাদের ভাষ্য প্রতিটি দিনই ভালোবাসা দিবস আর ভালোলাগার দিন। তবে ১৪ ফেব্রুয়ারি যেন একটু বেশি কিছু। যেদিন প্রিয়জনের চোখে চোখ রেখে বাড়তি কিছু বলা। নিতান্তই প্রিয়জনের সঙ্গে ভাব-বিনিময় করা। রবি ঠাকুরের গানের, ‘উল্লাস-উতরোল বেণুবনকল্লোল/ কম্পিত কিশলয়ে মলয়ের চুম্বন/ তব আঁখিপল্লবে দিয়ো আঁকি বল্লভে/ গগনের নবনীল স্বপনের অঞ্জন’, যেন আজ সবার মনে।

হাতিরঝিলে গতকাল সারাদিন বিভিন্ন আয়োজন ছিল। ভালোবাসা দিবসে ঘুরতে এসেছিলেন প্রেমিক যুগল নেহা ও রাকিব। তাদের মতে, ভালোবাসার কোনো দিনক্ষণ নেই। প্রতিটি দিন, প্রতিটি ক্ষণ যেন ভালবাসার। তবে ভালবাসা দিবস মানে একটু বাড়তি কিছু। তাই তো প্রিয়জনকে সঙ্গ দিতেই এসেছেন ঘুরতে। এটাই বললেন, যেন পরিণয় হয় এই তাদের ভালোবাসা।
এদিকে চট্টগ্রামের সিআরবিতে বসন্ত বরণের আয়োজনে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।রেলওয়ে কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, কর্মদিবস হওয়ায় উচ্চঃস্বরে গান-বাজনা না করার শর্তেই অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আয়োজকরা তা মানেননি।আয়োজকরা বলছেন, অনুমতি দিলেও গতবারও আয়োজনে বাধা দেয়া হয়েছিল। এভাবে বন্দর নগরীতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে বিঘ্নিত করার চেষ্টা হচ্ছে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদরদপ্তর সিআরবি শিরীষ তলায় প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের আয়োজনে চতুর্থ বারের মত বসন্ত উৎসবের আয়োজন করা হয়।কর্মদিবস হওয়ায় সকালে দেড় ঘণ্টা এবং বিকেলে বাকি অনুষ্ঠান আয়োজনের শর্তে অনুমতি দেয় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল।

সকাল ১০টার দিকে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ওয়েলফেয়ার পরিদর্শক রুবাইয়াত হোসেন অনুষ্ঠান স্থলে আসেন। এসময় একটি নাচের পরিবেশনা চলছিল। তখন একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচারিত হচ্ছিল।
সাংস্কৃতিক সংগঠক রাশেদ হাসান বলেন, “চট্টগ্রামের ডিসি হিলে গত কয়েক বছর ধরেই কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়া হয় না। গতবছরও সিআরবিতে আমাদের আয়োজনে বাধা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। এভাবে একের পর এক বাধা দেয়া সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার চেষ্টা কিনা তা সবার ভেবে দেখা উচিত।”
সিআরবির পাশাপাশি বন্দর নগরীর থিয়েটার ইন্সটিটিউট এবং আমবাগান শেখ রাসেল পার্কেও বসন্ত বরণের আয়োজন করা হয়েছে।বোধন আবৃত্তি পরিষদ, চট্টগ্রাম নগরীর থিয়েটার ইন্সটিটিউট মুক্ত মঞ্চে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করে।
রাবির চারুকলার শিক্ষার্থীদের অনলাইনে বসন্তবরণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চারুকলা অনুষদ বরাবরই উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠানসূচি দিয়ে বসন্তকে স্বাগত জানাতে বসন্তবরণ এবং পিঠা উৎসবের আয়োজন করে। তবে এবার করোনার কারণে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় আগের মতো চারু প্রাঙ্গণে হয়নি বসন্তবরণ উৎসব।
ভার্চুয়াল ফ্লাটফর্মে ‘বসন্ত আসবেই‘ শ্লোগানে ‘হাওয়াই বসন্ত-১৪২৭’ উদযাপন করেছে রাবির চারুকলার শিক্ষার্থীরা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *