ব্রাজিলের জন্য আশীর্বাদ!


June 11, 2019

স্পোর্টস ডেস্ক : ঘরের মাঠে কোপা আমেরিকা। আসরে অবিসংবাদিতভাবে ব্রাজিলই হট-ফেভারিট! তবে সেলেসাও শিবিরে স্বস্তি নেই, চোট যে কেড়ে নিয়েছে তাদের ক্যারিশম্যাটিক ফুটবলার নেইমারকে। নিজেদের সেরা খেলোয়াড়কে মাঠের বাইরে রেখে কতটা জ্বলে উঠতে পারবে আটবারের কোপাজয়ী দলটি? সেটা কিছুটা ভাবনার বিষয় তো বটেই!

২০১৮ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের কাছে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বাদ পড়ার পর দারুণ ছন্দেই আছে ব্রাজিল। টানা ১০ ম্যাচে অপরাজিত। গত সপ্তাহে কোপার প্রস্তুতি সেরেছে হন্ডুরাসকে ৭ গোলে উড়িয়ে দিয়ে।

কিন্তু ১০ জনের হন্ডুরাসের বিপক্ষে বিশাল জয়ের ম্যাচেও মনে হয়েছে কি যেন নেই ব্রাজিল দলে। দুর্দান্ত ফলাফলের আড়ালে টিটের দলকে মনে হয়েছে বর্ণহীন, সাদা-মাটা একটা দল। কারণটা যে নেইমারের অনুপস্থিতি, সেটা বলে দেয়ার প্রয়োজন পড়ছে না!

তবে নেইমার থাকুন বা না থাকুন, দিনশেষে ব্রাজিলের চূড়ান্ত লক্ষ্য অবশ্যই শিরোপা জয়। সে লক্ষ্যে দলের সেরা খেলোয়াড়টির না থাকাটা একপ্রকার আশীর্বাদই হতে পারে বাকীদের জন্য। কারণ, আপাতত বিতর্কিত কিছু নিয়ে যে আর ভাবতে হচ্ছে না তাদের!

ক্লাব ফুটবল শেষ করে যখন প্যারিস থেকে ব্রাজিলে উড়ে এসেছিলেন নেইমার, নামের পাশে নিয়ে এসেছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও লিগ ওয়ানে তিন ম্যাচ করে নিষেধাজ্ঞা। দুটি কারণই বেশ বিতর্কিত। প্রথমটিতে নেইমার নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন রেফারিদের গালমন্দ করে স্ট্যাটাস দিয়ে। দ্বিতীয়টির কারণ, লিগ কাপ ফাইনালে এক দর্শককে সরাসরি দিয়েছেন ঘুষি।

দেশে ফিরেও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের। অনুশীলন করতে নেমেই জানলেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ধর্ষণের। মামলা করেছেন তার অসংখ্য বান্ধবীদের একজন ডি সুজা! সেই মামলা নিয়ে দুশ্চিন্তার ফাঁকে তাকে মাঠ থেকেই তাড়িয়ে দিল পুরনো শত্রু চোট!

জাতীয় দলের হয়ে যতদিন অনুশীলন করেছেন ততদিন ব্রাজিল নয়, নেইমারের বিতর্ক নিয়েই বেশি মনোযোগী ছিল বিশ্বমিডিয়া। আর স্বাভাবিকভাবেই দলের একজনের জন্য খানিকটা বিব্রত ছিলেন বাকিরাও।

নেইমার ছিটকে যাওয়ায় তাই বিতর্কের কালো মেঘটা সরে গেছে ব্রাজিলের উপর থেকে। বাকিরাও এখন নির্ভার হয়ে অনুশীলন করতে পারছেন। সেই ফলাফলটা মিলেছে হন্ডুরাস ম্যাচে। ম্যাচে যে ৭ গোল হয়েছে তার একেকটি এসেছে আলাদা আলাদা খেলোয়াড়ের থেকে। গোল পেয়েছেন বার্সার হয়ে অফফর্মে থাকা ফিলিপে কৌতিনহোও।

ভাবনাহীন এখন টিটে নিজেও। ব্রাজিলের হয়ে তিন বছরের ক্যারিয়ারে যে দুশ্চিন্তায় ভুগতে হয়নি, নেইমার না থাকায় সেটা নিয়েই মাথা ঘামাতে হয়েছে সেলেসাও কোচকে। তা হল, মূল একাদশ সাজানো। হন্ডুরাস ম্যাচের পর নিশ্চয়ই খানিকটা স্বস্তি পেয়েছেন ব্রাজিল কোচ! গ্রুপ পর্বে বলিভিয়া, পেরু আর ভেনেজুয়েলার মতো খানিকটা সহজ দল থাকাও কিছুটা স্বস্তির।

গত বিশ্বকাপের দলটা থেকে ১৪ জনকে দলে রেখেছেন টিটে। তাদের বাইরে দলে এসেছেন এভারটনের রিচার্লিসন, আয়াক্স ফরোয়ার্ড ডেভিড নেরেস, বার্সা মিডফিল্ডার আর্থার ও এসি মিলানের লুকা পাকুয়েতা। সবাই তরুণ। মুখিয়ে আছেন জাতীয় দলে নিজের সামর্থ্য প্রমাণের জন্য। নেইমার না থাকায় সবারই সুযোগ থাকছে আগ্রহের আলো নিজের দিকে টেনে নেয়ার। সবাই চান একটা দল হয়ে খেলতে আর নেইমারের জন্য নিজেদের নবম কোপা আমেরিকা শিরোপা জিততে।

২০০৭ সালের পর থেকে কোপায় শিরোপা নেই। ২০০২ সালের পর থেকে বিশ্বকাপও জেতা হচ্ছে না। এত লম্বা সময় ধরে শিরোপা খরায় কখনোই ভোগেনি ব্রাজিল। তাই একটা শিরোপার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে সেলেসাও ভক্তরা। বাধ্য হয়ে ফেডারেশন সভাপতি কোচকে জানিয়ে দিয়েছেন, সুন্দর ফুটবলের আপাতত দরকার নেই। ঘরের মাঠে শিরোপা না তুলতে পারলে তার চাকরি থাকছে না!

জবাবে ব্রাজিল কোচ জানিয়ে দিয়েছেন, জয়-পরাজয় তার হাতে নেই। নেইমার না থাকায় বাকিদের দিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই চালাবেন। আশায় আছেন শিষ্যরাও হতাশ করবেন না তাকে। তবে দিনশেষে তার একটাই কথা, ‘আমরা কী জিততে পারবো? আমি জানি না। তবে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করবো।’

0 30

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আজকের সংবাদ শিরোনাম :
%d bloggers like this: