আগস্ট ৩, ২০২১

বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে আসুন

১ min read

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

জবাবদিহি ডেস্ক : দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে আরও বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য শ্রীলঙ্কার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে নবনিযুক্ত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার সুদর্শন দীপাল সুরেশ সিনিভিরন্তে গতকাল বুধবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। -খবর বাসসের

এদিকে, এদিন মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিরুজিমাথ সামিরও গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার সাংবাদিকদের জানান, রোহিঙ্গা সংকট, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, শিক্ষা, করোনা ভাইরাস মহামারিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বৈঠকে তাদের আলোচনা হয়।-খবর বিডিনিউজের

শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনারকে শেখ হাসিনা বলেন, দেশজুড়ে একশ’টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে বাংলাদেশ এবং এখানে বিদেশিদের জন্য প্রদত্ত অনুক‚ল ব্যবসার সুযোগ গ্রহণ করে শ্রীলঙ্কার উদ্যোক্তাগণ বিনিয়োগ করতে পারেন। হাইকমিশনার বলেন, তার দেশ বাংলাদেশের বিমান খাত এবং নার্সদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শিপিং, হাসপাতাল, পর্যটন, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক খাতে বিনিয়োগ ও কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিগত কয়েক বছরে প্রভূত উন্নতি করতে সমর্থ হয়েছে। বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ এবং শিল্প আসা উচিত বলেও শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার অভিমত ব্যক্ত করেন।

হাইকমিশনার বলেন, তার দেশ সমুদ্র ভ্রমণ চালুর পাশাপাশি বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কার মধ্যে কালচারাল ট্যুরিজম গড়ে তুলতে বাংলাদেশের উপক‚লীয় এলাকায় পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তুলতে চায়। কোভিড-১৯ মোকাবিলাতেও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার বলেন, তিনি বাংলাদেশের করোনা ভাইরাস ব্যবস্থাপনায় যারপরনাই বিস্মিত হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সম্পর্কে বলেন, তাঁর সরকার জনগণের মধ্যে করোনা ভাইরাস বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে, যাতে লোকজন এর সম্পর্কে সতর্ক হয় এবং সেভাবেই এই মহামারিকে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে। শ্রীলঙ্কার দূত এই ভ্যাকসিন প্রাপ্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, কেননা সরকার দেশের জনসাধারণের পাশাপাশি কূটনীতিক এবং বিদেশিদেরও টিকা দিচ্ছে।

ডব্লিউএইচও’র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের চ্যাম্পিয়ন মনোনীত হওয়ায় সায়মা ওয়াজেদ হোসেনকে অভিনন্দন জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, অটিজম ক্ষেত্রে তার কাজ প্রশংসনীয়। বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রীলঙ্কা অটিজম খাতে সহযোগিতার সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী বলেও তিনি যোগ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা সময় এটা পিতা-মাতার জন্য লজ্জার কারণ ছিল অটিস্টিক ছেলে-মেয়ে এবং তারা তাদের বাইরে আনতে চাইত না। সরকার এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিয়েছে। যদিও এটি একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ কারণ, অনেক শিক্ষিত পরিবারও তাদের অটিস্টিক বাচ্চাদের আড়াল করার চেষ্টা করে থাকে, বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকারের পক্ষ থেকে অটিস্টিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং তাদের শিশুদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ এবং সহায়তা দিচ্ছি। তিনি বলেন, হিজড়াদেরকেও মানুষ হিসেবে ভাতা দেয়া হচ্ছে এবং আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।

হাইকমিশনার সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ের অর্থ নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের লোকজনের কাছে পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগের ব্যাপক প্রশংসা করে একে ‘যুগান্তকারী’ বলেও উল্লেখ করেন।

নিজের ছাত্রজীবনের কথা স্মরণ করে হাইকমিশনার বলেন, দিল্লিতে পড়ালেখা করার সময় বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি অমানবিক বর্বরতার পোস্টার দেখে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার চেষ্টা করেন। প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশকে সহযোগিতা প্রদানের জন্য হাইকমিশনারকে ধন্যবাদ জানান। এদিকে, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে ভ্রমণের জন্য ‘সি-ক্রুজ’ চালুর প্রস্তাব বিবেচনা করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শীতে সমুদ্র শান্ত থাকে। শীত মৌসুমে আমরা সি-ক্রুজ চালু করতে পারি। বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে মালদ্বীপের আগ্রহের কথা জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে চাই।

এ সময় বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেন, ফিশারিজ ছাড়াও আমাদের কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য আছে। এগুলোর বিষয়েও মালদ্বীপের উদ্যোক্তারা বিবেচনা করতে পারে। সিরামিক, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরেও মালদ্বীপ বিনিয়োগ করতে পারে।

মালদ্বীপের রাজধানী মালের পাশে নতুন শহর গড়ে তোলা হচ্ছে জানিয়ে সেখানে বিনিয়োগ করতে বাংলাদেশকে আহ্বান জানান হাইকমিশনার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর সমুদ্রে মৎস্য সম্পদ আহরণে মালদ্বীপের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। মালদ্বীপের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের সফরের সময় এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক হতে পারে। কৃষি উৎপাদনে বাংলাদেশে সফলতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তাকে বলেন, আমাদের কৃষি পণ্য আছে, কৃষি উৎপাদন দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে পড়তে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আমরা অনেক প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজ, মেডিকেল কলেজ, এভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয়, মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় এগুলো প্রতিষ্ঠা করেছি। সেখানে মালদ্বীপের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারে।

পর্যটন বিষয়ে লেখাপড়া করতে বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের মালদ্বীপে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে দেশটির হাইকমিশনার বলেন, মালদ্বীপ পর্যটনে ভালো। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা সেখানে পর্যটন বিষয়ে পড়াশোনা করতে যেতে পারে।

বাংলাদেশের কর্মীরা মালদ্বীপের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন মন্তব্য করে দেশটির হাইকমিশনার বলেন, তার সরকার সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের টিকা দেয়া শুরু করতে যাচ্ছে। মালদ্বীপের হাইকমিশনার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।

তিনি রোহিঙ্গাদের একটি অংশকে কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে স্থানান্তরে ‘খুবই ভালো উদ্যোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেন বলে উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার জানান।

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা খুব অমানবিক পরিস্থিতিতে কক্সবাজারে বসবাস করছিল। সেখানে বন এবং পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছিল। তাদের জন্য আমরা আরও ভালো ব্যবস্থা এবং আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমরা পুরো এলাকাটাকে ডেভেলপ করব।

মহামারি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকা ও বিভিন্ন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন মালদ্বীপের হাইকমিশনার। শেখ হাসিনা বলেন, করোনায় সারা বিশ্বকে ভুগতে হয়েছে। সেখানে আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করেছি।

মহামারির সংকট মোকাবিলায় নৌবাহিনীর জাহাজে করে একশ টন খাদ্য সামগ্রী, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম মালদ্বীপ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। এই সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে হাইকমিশনার বলেন, খুব কঠিন সময়ে মালদ্বীপকে অনুদান দিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তকে বলেন, বন্ধুপ্রতীম দেশের প্রতি এটা আমাদের দায়িত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *