আগস্ট ৩, ২০২১

বরিশালে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

১ min read

বরিশাল ও মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : পথে পথে পুলিশি বাধা, নেতাকর্মীদের মধ্যে হামলা-পাল্টাহামলা ও সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে বরিশাল জিলা স্কুল মাঠে বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় এ সমাবেশ শুরু হয়। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল মহানগরী সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন বীরবিক্রম। সমাবেশ চলাকালে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়িতে জনতা ছোটাছুটি করলে কিছু সময়ের জন্য বক্তব্য বন্ধ রাখা হয়। সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ নেতাকর্মী আহত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাফিজ উদ্দিন বলেন, নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম।

এখন দেখি, যারা শরণার্থী হয়েছিল, তারা দেশ চালাচ্ছে আর আমরা মুক্তিযোদ্ধারা ছিটকে পড়েছি। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দেয়া হচ্ছে। তিনি মেজর জিয়ার খেতাব বাতিল করার বিষয়ে বলেন, মেজর জিয়া মাঠে থেকে যুদ্ধ করেছেন, তার কথায় ৭ কোটি বাঙালি উদ্বুদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধকে জনযুদ্ধে পরিণত করেন। তাই জিয়ার নাম জনতার মাঝে থাকবে।

আল-জাজিরায় সেনাপ্রধানের ভাইদের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রচারিত প্রতিবেদন নিয়ে তিনি বলেন, সেনাপ্রধান তো সরাসরিই বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে বলা মানে প্রধানমন্ত্রীকে বলা। আর বর্তমান সরকার নিয়ে তার বক্তব্য হলো, দেশ এখন সেনাশাসনের চেয়েও খারাপ অবস্থায় রয়েছে। সরকারের লুটপাট ছাড়া আর দেয়ার কিছুই নেই। তাই এর থেকে রক্ষা পেতে নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান নেতাকর্মীদের প্রতি। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএপি মনোনীত খুলনা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থীরা।

তারা বলেন, কীভাবে নির্বাচন কমিশন সরকারের নতজানু হয়ে ভোট কারচুপি করে তাদের ঠকিয়েছে। ইভিএমের মাধ্যমেও কারচুপি করা হয়েছে। এজন্য নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন ব্যতীত ভোটে যাওয়া বিএনপির জন্য সঠিক হবে না। এর আগে বিভিন্ন স্থান থেকে সমাবেশে আসার সময় বিএনপির সমর্থকরা পুলিশ এবং ছাত্রলীগের কর্মীদের দ্বারা বাধাগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে এদিন সকালে ঢাকা থেকে সমাবেশে যোগদানের উদ্দেশ্যে বরিশাল যাওয়ার সময় ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের বিএনপির পরাজিত মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন ও তাবিথ আউয়ালকে দেখে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে ফেরি চলাচল রহস্যজনক কারণে বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২ট পর্যন্ত শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে ফেরি বন্ধ থাকে। তবে কী কারণে এ দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা সময় ফেরি ও চলাচল বন্ধ রয়েছে, তা বলতে রাজি হয়নি কর্তৃপক্ষ। এ সময় অপেক্ষায় থাকা হাজারো যাত্রী ও যানবাহন চালককে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটর ফেরি ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক ছিল। সকাল ৭টার দিকে বরিশালে সমাবেশে যোগ দিতে অর্ধশতাধিক গাড়িবহর নিয়ে শিমুলিয়া ঘাটে আসেন ইশরাক হোসেন ও তাবিথ আউয়াল। প্রায় ২ ঘণ্টা ঘাটে অপেক্ষা করে বেলা ৯টার দিকে কোনো ফেরি না পেয়ে তাবিথ আউয়াল সি-বোটে ও ইশরাক হোসেন নেতাকর্মীদের নিয়ে এমভি মাসুম-২ নামের লঞ্চে করে পদ্মা পাড়ি দেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে আবারও ফেরি চালু হয়।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, ইশরাক-তাবিথ ঘাটে আসার খবরেই বাংলাবাজার ঘাট থেকে কোনো ফেরিই ঘাটে আসেনি। শিমুলিয়া ১ ও ২নং ঘাটে নোঙর করা দু-একটি ফেরি থাকলেও সেগুলোও চালু হয়নি। নেতাকর্মীদের সমাবেশে যাওয়াবিঘ্ন করতে, যেন তারা পদ্মা পাড়ি দিতে না পারে, সেজন্যই ফেরি বন্ধ করে দেয়া হয়। এ বিষয়ে মুঠোফোনে একাধিকবার বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়া ঘাট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।

লৌহজং থানার ওসি আলমগীর হোসাইন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। এদিকে পদ্মা পাড়ি দেয়ার আগে ইশরাক সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপট সবারই জানা। দেশে গণতন্ত্র নেই, ভোটের অধিকার নেই। বর্তমান সরকারের দুর্নীতি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যে অপকর্ম রয়েছে, তা আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গণমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। এসব থেকে দৃষ্টি ফেরাতেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক, ওনার খেতাব নিয়ে সরকার ছিনিমিনি খেলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *