সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১

প্রতিবেশী দেশের অস্ত্র বিক্রি হয় ঢাকায়

১ min read

নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘদিন যাবত প্রতিবেশী দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অস্ত্র ও মাদক এনে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতো প্রাইভেট চালক সুমন। এই চক্রের সদস্য কামরুজ্জামান রাসেল ও আসাদুজ্জামান আসাদ অস্ত্র ও ফেনসিডিল বিক্রি করতে সহযোগীতা করতো। আজ সোমবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর একটার দিকে আশিলিয়ার গৌরীপুরে বাংলাবাজার সংলগ্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি প্রাইভেটকার তল্লাশি করেন র‌্যাব-১ সদস্যরা। গাড়িটি তল্লাশি করে পাওয়া যায় অস্ত্র ও ফেনসিডিল।
অভিযানে নেতৃত্বে থাকা র‌্যাব-১ এর এএসপি কামরুজ্জামান বলেন, সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সক্রিয় সদস্য গ্রেফতারকৃতরা। তারা দিনাজপুর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে চোরাচালানের মাধ্যমে ফেন্সিডিল নিয়ে আসে। পওে ফেন্সিডিলের চালানগুলো বিভিন্ন পণ্যবাহী পরিবহনে/প্রাইভেটকারে করে ঢাকাসহ সারাদেশে মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট সরবরাহ করা হয়। এই চক্রের অন্যতম সদস্য দিনাজপুর জেলার জনৈক মাদক ব্যবসায়ী। সে অবৈধভাবে ফেন্সিডিলের চালান দেশে নিয়ে এসে তার সহযোগী গ্রেফতারকৃত আসামী সুমন ও রাসেলের মাধ্যমে মাদকের চালান রাজধানীতে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে গ্রেফতার অপর সহযোগী আসাদের মাধ্যমে ঢাকা ও আশেপাশের এলাকায় সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যদের কাছে পাইকারী মূল্যে বিক্রয় করে বলে জানায়।
তিনি বলেন, সুমন’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে পেশায় একজন প্রাইভেটকার চালক। সে দীর্ঘ ১২ বছর যাবত প্রাইভেটকার চালিয়ে আসছে। সে প্রাইভেটকার চালানোর পাশাপাশি দীর্ঘদিন যাবত মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার সাথে জড়িত। ইতিপূর্বে ৮/১০টি মাদকের চালান রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলাসমূহে সরবরাহ করেছে বলে স্বীকার করে। মাদক ব্যবসায়ীরা চালানপ্রতি তাকে ২০ টাকা দিত বলে জানায়। মাদক পরিবহণে আসামী রাসেল তার সহযোগী হিসেবে কাজ করে।
রাসেল’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, দিনাজপুর সদরে তার একটি মোবাইল টেলিকমের দোকান আছে। সে মোবাইল টেলিকমের ব্যবসা করার পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার সাথে জড়িত এবং সে একজন মাদকাসক্ত। সে সুমনের সহযোগী। সুমনের সহযোগী হিসেবে সে ইতিপূর্বে ৬/৮টি মাদকের চালান রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলাসমূহে সরবরাহ করেছে বলে স্বীকার করে। মাদক ব্যবসায়ীরা চালানপ্রতি তাকে ১৫হাজার টাকা দিত বলে জানায়।
আসাদ’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে ঢাকা¯’ একটি বায়িং হাউজে কর্মরত। সে বায়িং হাউজে চাকুরি করার পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার সাথে জাড়িত। সুমন ও রাসেল মাদকের চালান ঢাকায় নিয়ে আসার পর সে রাজধানী ঢাকা ও আশেপাশের এলাকায় এই সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যদের নিকট পাইকারী মূল্যে বিক্রয় করে বলে জানায়।
তাদের কাছ থেকে একটি প্রাইভেটকার, ৪শ’ বোতল ফে›িসডিল, ২ টি শর্টগান, ৩ টি মোবাইল ফোন, নগদ ৩ হাজার ৭শ’ টাকা উদ্ধার করা হয় এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *