সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১

‘পাগলা মিজান’ নাম হওয়ার কারন

১ min read

নিউজ ডেস্ক :ঢাকার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হলেন হাবিবুর রহমান মিজান। আজকে তাকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এই নেতার মূল নাম হল হাবিবুর রহমান ও ডাক নাম হল মিজান।কিন্তু এ দুটি নাম পেছিয়ে তাকে ‘পাগলা মিজান’ হিসেবেই সবাই জানে। তার এই নামের পেছনে রয়েছে একটি ঘটনা।

ঢাকার মোহাম্মদপুরের প্রায় সবাই এই ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে চেনেন ‘পাগলা মিজান’ হিসেবে। কথিত আছে, কয়েক দশক আগে একবার পুলিশের তাড়া খেয়ে পুকুরে নেমেছিলেন মিজান। পরে গ্রেফতার এড়াতে পরনের পোশাক খুলে রেখে তিনি পুকুর থেকে উঠে আসেন, সেই থেকে তার ওই নাম‘পাগলা মিজান’ ।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্যে তার বাসায় হামলা করেছিল যারা, সেই দলেরও একজন তিনি।কিন্তু সময়ের স্রোতে পাল্টে গেছে অনেক কিছুই। ভুল পাল্টে গেছে তার,পাল্টে গেছে তার নামটি পর্যন্ত।

তিনি এখন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা; রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গড়ে তুলেছেন অপরাধ সাম্রাজ্য। মাদক কারবার থেকে শুরু করে খুন-খারাবি পর্যন্ত নানা অপরাধমূলক কাণ্ডে তার নাম উঠে এসেছে বারবার।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মিজান ঢাকায় এসে মোহাম্মদপুর এলাকায় শুরু করেন চাঁদাবাজি, ছিনতাই। ছিনতাইকারী হিসেবেই ১৯৭৪/৭৫ সালে তার বিশেষ পরিচিতি আসে। ১৯৭৫ সালের মাঝামাঝি খামারবাড়ী খেজুরবাগান এলাকায় ছিনতাই করার সময় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে লালমাটিয়ায় মসজিদের পাশে পুকুরে নেমে পড়েন।

পুলিশ তাকে বারবার নির্দেশ দিলেও তিনি পুকুর থেকে ওঠেননি। ৪-৫ ঘণ্টা পর তিনি পরনের কাপড় ছাড়াই উঠে আসেন। এমন আচরণে পুলিশ তাকে পাগল বলে ছেড়ে দেয়। তখন থেকেই এলাকায় তার নাম ছড়িয়ে পড়ে পাগলা মিজান নামে।

চলমান আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সন্ত্রাসবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানের শুরুতে একাধিক খুনের মামলা কাঁধে নিয়েও কিছুদিন তিনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ান। তার নামে মোহাম্মদপুর থানায় ১৯৯৬ সালে ইউনূস হত্যা, ২০১৬ সালে সাভার থানায় জোড়া হত্যা মামলা রয়েছে। গত সপ্তাহে জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক দল সন্ত্রাসী একটি রিয়েল এস্টেটের ছয় কর্মীকে গুলি এবং আরও ১৪ জনকে কুপিয়ে জখম করে।

এ সময় সন্ত্রাসীরা জুয়েল নামের একজনকে হত্যা করে লাশ তুরাগে ফেলে দেয়। এ হত্যাকাণ্ডেও হাবিবুর রহমান মিজানের নাম উঠে এসেছে। সম্প্রতি মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে পুলিশের সঙ্গে ক্যাম্পবাসীর সংঘর্ষের নেপথ্যেও উঠে এসেছে তার নাম।

জানা গেছে, মিজান ক্যাম্পের বিদ্যুৎ লাইন থেকে ক্যাম্প-লাগোয়া কাঁচাবাজার ও মাছের বাজারের তিন শতাধিক দোকানে অবৈধ সংযোগ দিয়ে মাসে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা আয় করতেন। এ কারণেই বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে ক্যাম্পবাসীর ঝামেলার কারন।

সে মাদক কারবার থেকে শুরু করে খুনখারাপি পর্যন্ত নানা অপরাধে বারবার উঠে এসেছে এই পাগলা মিজানের নাম। কয়েকবার জেলে গেলেও অল্প সময়েই ফের বেরিয়ে এসে ‘হাল ধরেছেন’ নিজের অপরাধ রাজ্যের। ইয়াবা ব্যবসা করেও কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। তার বিরুদ্ধে ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *