সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১

নির্দোষ কেউ যেন শাস্তি না পায়, ভ্যানচালক বাবার আকুতি

১ min read

নিউজ ডেস্ক: আবরার হত্যার দায়ে যারা গ্রেফতার হয়েছে তাদের মধ্যে আকাশ একজন। গরিব পরিবারের এই আকাশ জীবনও কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিল না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনে রাজনীতির সাথে জড়ালো কীভাবে সে প্রশ্নই এখন তার পরিবারের।

জানা যায়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার ১৩ নং আসামি মো. আকাশ হোসেনের বাড়ি জয়পুরহাটে। তিনি সদর উপজেলার দোগাছী-দরগাতলা গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক আতিকুল ইসলামের ছেলে। আকাশ বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

আবরার হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে আকাশ গ্রেফতারের খবরে হতবাক তার পরিবার ও এলাকাবাসী। কিছুতেই তারা বিশ্বাস করতে পারছেন না যে, আবরার হত্যায় আকাশ জড়িত। আকাশ গ্রেফতারের পর কান্না থামছে না তার মায়ের। বাবাও বুঝে উঠতে পারছেন কি করবেন।

সরেজমিনে জানা গেছে, আকাশ হোসেন জয়পুরহাট সদর উপজেলার দোগাছী-দরগাতলা গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক আতিকুল ইসলামের বড় ছেলে। আতিকুলের তিন সন্তানের মধ্যে কন্যা মরিয়ম আক্তার পড়ে নবম শ্রেণিতে আর ছোট ছেলে ইয়াসিন দোগাছী উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। আতিকুল স্বপ্ন দেখতেন ভ্যান চালিয়ে ছেলে-মেয়েদের মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলবেন। তার এ স্বপ্ন পূরণ করতে তিনি দিন গুনছিলেন বড় ছেলে আকাশের বুয়েটে পড়া শেষ করার। অভাব-অনটনের মধ্যে বিত্তবান ও গ্রামবাসীদের সাহায্য সহানুভূতিতে আকাশ ২০১৪ সালে স্থানীয় দোগাছী-দরগাতলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ২০১৬ জয়পুরহাট সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসিতে গোল্ডেন পেয়ে বুয়েট, রুয়েট, কুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শীর্ষ স্থানীয় সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন।

বাহারউদ্দিন, হাবিল হোসেন, আলম হোসেন ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন বলেন, বাবার কষ্টার্জিত অর্থ আর এলাকাবাসীর দান-অনুদানে স্বপ্নপূরণের এতগুলো ধাপ পেরিয়ে আসা আকাশ বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের একজন এমন কথা বিশ্বাসই করতে পারছি না।

আকাশের সহপাঠী মেহেদী হাসান, নোমানসহ স্থানীয় যুবকরা জানান, শৈশব থেকে আজ পর্যন্ত কারও সঙ্গে আকাশের কোনো বিষয়েই বিরোধ হয়নি। রাতারাতি কেউ নষ্ট হতে পারে না। আকাশ যেন অযথা হয়রানি না হয়।

আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আকাশকে গ্রেফতারের খবরে তার পরিবারে চলছে আহাজারি। বাবা দিগ্বিদিক ঘুরছেন। আর মা নাজমা বেগমের নির্ঘুম রাত-দিন কাটছে শুধু কান্না আর বিলাপে।

নাজমা বেগম বলেন, স্বামী আতিকুল ভ্যান চালিয়ে আকাশসহ তিন সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। আকাশের বুয়েটে ভর্তির টাকা দেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলামসহ এলাকাবাসী । তাই আকাশ শুধু আমার সন্তান নয়, এলাবাসীরও সন্তান। তিনি নিজেকে আবরারেরও মা মনে করে তার হত্যার ন্যায় বিচার দাবি করেন। পাশাপাশি নির্দোষ প্রমাণিত হলে তার সন্তান আকাশকে যেন তার ফিরে পান সেই প্রত্যাশা করেন।

দোগাছী-দরগাতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন বলেন, স্কুল থেকে কলেজ পর্যন্ত আকাশ কোনো রাজনৈতিক সংগঠন কিংবা কোনো অরাজকতায় সম্পৃক্ত ছিল না। থাকলে মেধাবীর তালিকায় তার নাম থাকত না। তবে বুয়েটে পড়ার সময় কি হয়েছে তা বলতে পারবো না।

জয়পুরহাট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাকারিয়া হোসেন রাজা বলেন, মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারলাম জয়পুরহাটের আকাশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আগে কখনও তার নাম শুনিনি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতা ও সদস্য করার ক্ষেত্রে আমাদের কাছে খোঁজ খবর নেয়া হয়। কিন্তু আকাশের ব্যাপারে আমাদের কাছে কেউ খোঁজ নেয়নি। আমি যতদূর জানি সে জয়পুরহাটে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। বুয়েটে গিয়ে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়েছে।

জয়পুরহাট সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) রায়হান হোসেন বলেন, আকাশের বাবা ভ্যান চালান বলে শুনেছি। থানায় আকাশের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *