সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১

নাগিন নাচ দিয়ে ফাঁসলেন সিলেটের ৫ শিক্ষক

১ min read

নিউজ ডেস্ক: এবার নাগিন নাচ দিয়ে ফেঁসে গেলেন সিলেটের ৫ শিক্ষক। তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই স্কুল কর্তৃপক্ষও ব্যবস্থা নিয়েছে বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী স্কুল কর্তৃপক্ষের একজন জানান, উচ্চ স্বরে বাজছে ‘নাগিন, নাগিন…’ গান। তালে তালে ফণা তুলে নাচছেন সিলেটের নাম করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্লু-বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাঁচ শিক্ষক। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। তারা এ নিয়ে প্রতিবাদী হয়ে ওঠায় পাঠদান কার্যক্রম থেকে ওই পাঁচ শিক্ষককে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ব্লু-বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হোসনে আরা বলেন, শিক্ষকদের নাচের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আমার সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ করেন। এরপর ওই পাঁচ শিক্ষককে পাঠদান থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা জানান, গত ১২ অক্টোবর ব্লু-বার্ড স্কুলের পাঁচজন শিক্ষক নিজেদের ব্যক্তিগত আয়োজনের নাচের একটি ভিডিও ‘লিটমাস পেপার -Bangla TV’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করেন। ১ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডের ভিডিওটিকে ‘ফরমালিনমুক্ত ড্যান্স’ শিরোনাম দেয়া হয়। তাদের এ কাণ্ড দেখে ক্ষুব্ধ হন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। এতে বর্তমান শিক্ষার্থীরাও বিব্রত।

ভিডিওতে ‘নাগিন, নাগিন…’ হিন্দি গানের সঙ্গে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে নাচে মত্ত থাকতে দেখা যায় সহকারী শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া, হাবিবুর রহমান বাপ্পা, সুমন চন্দ্র দে ও মো. মিজানুর রহমান এবং হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আতাউর রহমান ভুঁইয়াকে। ভিডিওটি আপলোড করেন সহকারী শিক্ষক ও এই নাচের অন্যতম পারফর্মার হাবিবুর রহমান বাপ্পা। যে চ্যানেলে এই ভিডিওটি আপলোড করা হয়েছে সেই চ্যানেলে স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন টিউটোরিয়াল ভিডিও ইতিপূর্বে আপলোড করা হয়েছে ।

ভিডিওটি অশ্লীল আখ্যা দিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কয়েকজন অভিভাবকও। তারা জানান, ইউটিউব চ্যানেলটি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষণীয় ভিডিও আপলোড করতে দেখেছেন। যে শিক্ষকেরা চ্যানেলে শিক্ষণীয় বিষয় প্রচার করতেন, তারা নাচের ভিডিওটি আপলোড করে চরম অনৈতিকতার পরিচয় দিয়েছেন।

তবে এ নিয়ে নেতিবাচক সমালোচনার মুখে শিক্ষকরা ভিডিওটি অপসারণ করে নেন। কিন্তু এরই মধ্যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে গেছে।

ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বলেন, একজন শিক্ষককে শিক্ষার্থীরা আদর্শ মেনে অনুসরণ করে থাকে। অথচ প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শিক্ষক যে ভিডিও আপলোড করেছেন, তা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।

স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রী ও নারী উদ্যোগতা সায়মা রহমান সুমি ফেসবুকে লিখেছেন, এরা টিচার! টিচার আসছেন শুনলে ক্লাসে পিনপতন নিরবতা নেমে আসতো । এরা কেমন টিচার?

সাংস্কৃতিক কর্মী ও স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রী নবেরা আক্তার লিখেছেন, আহা! আমাদের স্কুল্টা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ।

প্রবাস থেকে প্রাক্তন ছাত্র তানভির শিপলু লিখেছেন, মাছের পচন শুরু হয় মাথা থেকে, আর মানুষের পচন শুরু হয় শিক্ষক পচন থেকে ।

স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ও নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম বলেন, স্বনামধন্য এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি অযোগ্যতা ও অব্যবস্থাপনায় অতীত গৌরব হারাতে বসেছে । সহশিক্ষার অনন্য নজিরের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষকের কার্যকলাপ স্কুলের সুনাম ও মর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় । নৃত্যরত এই শিক্ষকরা ব্লু-বার্ডে শিক্ষকতা শুরুর খুব বেশি দিন হয়নি । কিন্তু এর মধ্যেই সহকারী শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া ও খণ্ডকালীন শিক্ষক মো. তানভির উজ জামানের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অশোভন চ্যাটিংয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে । এসব নিয়ে ইতোমধ্যে সালিশ হয়েছে।

ব্লু-বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হোসনে আরা বলেন, অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে পাঠদান কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ভিডিওটিতে নাচানাচি করা এক শিক্ষক বলেন, এটি উচিত হয়নি। আমাদের ভুল হয়েছে। ভিডিওটি সরানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *