সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১

‘দলের ভেতর সুবিধাবাদী চক্র গড়ে তুলেছেন মেনন’

১ min read

নিউজ ডেস্ক: চীনপন্থী তিনটি কম্যুনিস্ট পার্টি এক হয়ে ১৯৯২ সালে গঠিত হয় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। প্রতিষ্ঠার ২৭ বছরে এসে সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্যে পড়েছে দলটি।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির উপর থেকে নীচ পর্যন্ত সুবিধাবাদী চক্র গড়ে তুলেছেন রাশেদ খান মেননসহ শীর্ষ নেতৃত্ব। আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত তারা। বামপন্থী দলটিতে মার্কসবাদী-লেলিনবাদী আদর্শ এখন কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে দলের সংগ্রামী শক্তিকে। গুরুতর এসব অভিযোগ এনে আসন্ন দশম কংগ্রেস বর্জনের ডাক দিয়েছেন বামপন্থী দলটির কেন্দ্রীয় ছয় নেতা।

আদর্শিক বিচ্যুতি, রাজনৈতিক অবস্থান, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন চৌদ্দ দলীয় জোটে থাকা না থাকা, নৌকা প্রতীকে নির্বাচনসহ অনেক বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ওয়ার্কার্স পার্টির মধ্যে চলছে মতাদর্শিক সংঘাত। ২ নভেম্বর দশম কংগ্রেসকে কেন্দ্র করে এই সংঘাত এখন চরমে। এরইমধ্যে কংগ্রেস বর্জনের ডাক দিয়েছেন বামপন্থী দলটির কেন্দ্রীয় ছয় নেতা।

কংগ্রেস বর্জনের ডাক দেয়া নেতারা মনে করছেন, মার্কসবাদী-লেলিবাদী আদর্শ থেকে পুরোপুরি সরে সুবিধাবাদী দলে পরিণত হয়েছে ওয়ার্কার্স পার্টি। রাশেদ খান মেনন, ফজলে হোসেন বাদশাসহ শীর্ষ নেতৃত্ব রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। দলকে দেউলিয়া পার্টিতে পরিণত করেছে তারা- উঠেছে এমন অভিযোগ।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, ‘এখন দেনদরবার করে কীভাবে কিছু পাওয়া যায়, এমন যে প্রবণতা সেই প্রবণতা ক্ষমতায় যেয়ে তারা তৈরি করতে পেরেছেন। উপর থেকে নীচ পর্যন্ত একটা সুবিধাবাদি চক্র তারা গড়ে তুলতে পেরেছেন। আর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য তাদের এই জোট সরকার, বুর্জোয়াদের সাথে সম্পর্ক ঠিক রাখা ছাড়া উপায় নেই।’

দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে গেছে- এই অভিযোগ তুলে ভিন্নমত পোষণ করা নেতারা বলছেন, কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে নিয়ম ভেঙে যাকে-তাকে দলের সদস্য করেছে শীর্ষ নেতৃত্ব।

তবে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘সর্বোসম্মতভাবে যে মেম্বারশিপ হয়েছে, সেটাকে অনুমোদন করা হয়েছে, কোনো অসুবিধা হয়নি। সেখানে কেউ দাঁড়িয়ে চরম প্রতিবাদ করেছে- এমন হয়নি।’

দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বামপন্থী দলে কারও নেতৃত্বে থাকা উচিৎ নয়- বলছেন ওয়ার্কার্স পার্টির ভিন্ন মতাবলম্বীরা। তবে দুর্নীতি, অনিয়মের অভিযোগকে অপপ্রচার মনে করেন মেনন।

ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, ‘আমাদের মধ্যেও অনেকে দুর্নীতির মাধ্যমে টাকার মালিক হয়েছেন, কিন্তু তারা চান না এই দুর্নীতিবাজরা প্রকাশিত হোক। তাহলে তাদেরো স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে।’

রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আমার পার্টি সেন্ট্রাল কমিটির মিটিংয়ে সুস্পষ্টভাবে বলেছে যে তারা আমার সাথে বা আমার পদক্ষেপের সাথে আছে এবং তারা এটাকে (দুর্নীতি) অপপ্রচার মনে করে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *