আগস্ট ৩, ২০২১

তথ্য গোপনের অভিযোগে নন্দীগ্রামে মমতার মনোনয়ন বাতিলের দাবি শুভেন্দুর

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়ন বাতিল চেয়েছেন তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী।

তিনি অভিযোগ করেছেন, হলফনামায় ৬টি ফৌজদারি মামলার তথ্য গোপন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিয়েছেন নন্দীগ্রামের এ বিজেপি প্রার্থী। তার দাবি, তথ্য গোপন করার জন্য মমতার মনোনয়ন বাতিল করা হোক।

তৃণমূল কংগ্রেসের পাল্টা দাবি, নির্বাচনে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে বুঝে এসব অভিযোগ করছেন শুভেন্দু।

সোমবার শুভেন্দু দাবি করেন, ২০১৮ সালে মমতার বিরুদ্ধে আসামে পাঁচটি ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছিল। সিবিআইয়ের কাছেও তার বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছিল একটি ফৌজদারি মামলা। কিন্তু গত ১০ মার্চ হলদিয়ার মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে গিয়ে মমতা যে হলফনামা জমা দিয়েছেন, তাতে সেই মামলাগুলির বিষয়ে কোনও উল্লেখ নেই। সেজন্য কমিশনে নালিশ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে নন্দীগ্রামের রিটার্নি অফিসারের সেই অভিযোগ দায়ের করেছেন শুভেন্দুর নির্বাচনী এজেন্ট মেঘনাদ পাল।

সোমবার বিকালে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাবের দ্বারস্থ হয়েছেন বিজেপির আইনজীবী সেলের সদস্যরা।

শুভেন্দু বলেন, ‘নন্দীগ্রামের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে ৬টি মামলা আছে। ২০১৮ সালে পাঁচটি মামলা অসমে এবং একটি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (সিবিআই) কাছে। মোট ৬টি কেসের উল্লেখ করেননি। নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছি। তারা কী সিদ্ধান্ত নেয়, তারপর দেখা যাবে।’

যদিও শুভেন্দুর অভিযোগকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছে ঘাসফুল শিবির।

এ ব্যাপারে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, নন্দীগ্রামে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় এইসব অভিযোগ করছেন। তাতে কোনও লাভ হবে না। যে কোনও জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হতে পারে। কিন্তু কোন নোটিশ না পাঠালে সেই সংক্রান্ত তথ্য হলফনামায় জমা দেওয়া সম্ভব নয়।

গত কিছুদিন আগেও শুভেন্দু অধিকারী মমতার দলের অনুগত এক নেতা ছিলেন। তার প্রতি আস্থা রেখে মমতা তাকে পশ্চিমবঙ্গের পরিবহনমন্ত্রী করেছিলেন। তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা শুভেন্দু এবার তার নেত্রীর মুখোমুখি হয়েছেন।

মনোনয়ন পাওয়ার আগেই শুভেন্দু অধিকারী মমতাকে নন্দীগ্রামে প্রার্থী হওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। শুভেন্দুর চ্যালেঞ্জ ছিল, তিনি অথবা যেই বিজেপির হয়ে দাঁড়াক মমতাকে অর্ধলাখ ভোটের ব্যবধানে হারানো হবে। মমতা সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে নন্দীগ্রাম থেকেই দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। যার কারণে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম হয়ে উঠছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস ও আনন্দবাজার পত্রিকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *