সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১

‘জি কে শামীমের প্রকল্পে প্রয়োজনে নতুন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হবে’

১ min read

নিউজ ডেস্ক: জি কে শামীমের প্রকল্পে প্রয়োজনে নতুন ঠিকাদার দেয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেছেন, জি কে (গোলাম কিবরিয়া) শামীম র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর কৌশলগতভাবে জি কে বি অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড কিছু কিছু প্রকল্পে অল্প পরিসরে কাজ শুরু করার বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তবে যথাসময়ে এসব প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে মন্ত্রণালয় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই জি কে বি অ্যান্ড কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে প্রয়োজনে নতুন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হবে।

সম্প্রতি সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক সূত্র এসব তথ্য জানা গেছে।

কমিটিতে উপস্থিত সংসদের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং সকল নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে জি কে শামীমের ঠিকাদার কোম্পানির অধীনে একক কিংবা যৌথ বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। যথাযথ আইনানুগ পদ্ধতি অনুসরণ করে বিষয়টি সমাধান করার জন্য ইতোমধ্যে গণপূর্ত অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে লিখিতভাবে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কিছু প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া উদ্দেশ্যমূলকভাবে অসত্য তথ্য পরিবেশন করে মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন সবাইকে সঠিক এবং অভিন্ন তথ্য জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

কমিটিকে তিনি আরও অবহিত করেন যে, রাজধানীর এফআর টাওয়ারে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬২ জন এবং রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে দুর্নীতির অভিযোগে ৩০ জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ অনুযায়ী মন্ত্রণালয় দুর্নীতি প্রতিরোধে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান।

এর আগে কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন (চট্টগ্রাম-১) বলেন, সম্প্রতি র‌্যাবের অভিযানে মুদ্রাপাচার আইনসহ একাধিক মামলায় কারাবন্দি জি কে শামীমের ঠিকাদার কোম্পানির অধীনে একক কিংবা যৌথ বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর কাজ বন্ধ থাকার বিষয়টি কমিটির নজরে এসেছে। তিনি কারাবন্দি জি কে শামীমের ঠিকাদার কোম্পানির অধীনে একক কিংবা যৌথ বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর কাজের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানতে চান।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, জি কে শামীমের ঠিকাদার কোম্পানির অধীনে সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রয়েছে এবং এ প্রকল্পগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হওয়া জরুরি। জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠান ‘জি কে বি অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড’ সরকারি প্রকল্পগুলোর কাজ চলমান রাখতে ব্যর্থ হলে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে চুক্তি বাতিল করে নতুন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

সভাপতির প্রশ্নের জবাবে গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মো. সাহাদাত হোসেন কমিটিকে অবহিত করেন যে, জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠান জি কে বি অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডকে চুক্তির শর্তাবলী এবং পিপিআরের বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী কাজ পুনরায় শুরু করার জন্য চিঠি দেয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু না হলে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ বাতিলের চিঠি দেয়া হবে এবং চুক্তির শর্তাবলী ও পিপিআরে বর্ণিত ধারা ও বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় কর্তৃক গণপূর্ত অধিদফতরকে লিখিতভাবে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য শ ম রেজাউল করিম ছাড়াও নারায়ন চন্দ্র চন্দ, বজলুল হক হারুন, মো. মনোয়ার হোসেন চৌধুরী, আনোয়ারুল আশরাফ খান, জোহরা আলাউদ্দিন ও বেগম ফরিদা খানম উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *