সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১

‘জালিয়াতির মাধ্যমে এমফিলে ভর্তি হন রাব্বানী, ঢাবি শিক্ষকদের তুমুল বাগবিতণ্ডা’

১ min read

নিউজ ডেস্ক: এবার ঢাবি প্রশাসনের বিশেষ সহায়তায় ছাত্রলীগের ৩৪ নেতার ভর্তি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ফোরাম একাডেমিক কাউন্সিলের (এসি) সভায় তুমুল বাগবিতণ্ডা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে বৈঠক শুরুর পর বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাবিতে অবৈধভাবে ৩৪ জন শিক্ষার্থীকে বিশেষ উপায়ে ভর্তি ও ডাকসুর জিএস ও দুর্নীতির দায়ে ছাত্রলীগ থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর অবৈধভাবে এমফিলে ভর্তি হওয়া নিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নীল দল ও বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত সাদা দলের শিক্ষকদের মাঝে বাগবিতণ্ডা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সোমবার বিকেল তিনটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠক শুরু হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অধ্যাপক, বিভাগের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালকরা, একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় সব মিলিয়ে প্রায় দেড়শতাধিক শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। সভায় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় কথা বলার জন্য একাধিকার সুযোগ চান ঢাবির পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম।

তবে সভার শেষদিকে তাকে সুযোগ দেয়া হয়। তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, ডাকসু নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনকে বিশেষ সুবিধা দানের উদ্দেশ্যে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ব্যাংকিং বিভাগের অধীনে পরিচালিত ‘মাস্টার্স অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামে’ ৩৪ জন শিক্ষার্থীকে অবৈধভাবে ভর্তির প্রতিকার না হতেই ডাকসুর নির্বাচিত জিএসর অপরাধ বিজ্ঞান বিষয়ে এম.ফিল ভর্তি সংক্রান্ত অনিয়মের কথা প্রকাশিত হয়েছে।

আমরা মনে করি এটি ঢাবির ঐতিহ্য ও সুনামের জন্য অত্যন্ত হানিকর ঘটনা। উল্লেখ্য যে, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়া ঢাবির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। কিন্তু আজ এ ঐতিহ্যটিও নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। আমরা প্রথম থেকেই এ অন্যায় কাজের প্রতিবাদ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি দাবি করে আসছি। ডাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ প্রক্রিয়ায় ৩৪ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল ও সংশ্লিষ্টদের শাস্তি দাবি করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন, ভিসি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেও আমরা এর কোনো প্রতিকার পাইনি।

এ বিষয়ে সম্প্রতি আমাদের বক্তব্য ও অবস্থান তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকের কাছে আমরা খোলা চিঠিও প্রদান করেছি। আর এরই মধ্যে আমরা ডাকসুর বর্তমান জিএস’র (গোলাম রাব্বানী) বিধি বহির্ভূতভাবে এমফিল ভর্তির সংবাদ জেনে বিস্মিত ও হতবাক হয়েছি। আমরা আবারও এর তীব্র নিন্দা এবং ভর্তি বাতিল ও একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপকর্মের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার জন্য দাবি জানাচ্ছি।

ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আজকের এই একাডেমিক কাউন্সিলের সভা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বডির সভা। এই সভায় মোট ৩৫ জন অবৈধ ভর্তি প্রক্রিয়ার তদন্ত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বরেণ্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব করছি। এই তদন্ত কমিটির কাজ হবে ভর্তির অনিয়ম তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা।

পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যানের এই বক্তব্যের পরই আওয়ামী লীগ সমর্থিত নীল দলের বহু শিক্ষক হট্টগোল শুরু করেন। তারা বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান। এ সময় ভিসি বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা এখানে রাজনীতি করতে এসেছেন। এখানে তো রাজনৈতিক দলের নেতাও আছে! তুমুল বাগবিতণ্ডা আর হট্টগোলের মধ্যেই অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলামের বক্তব্য এক্সপাঞ্জের ঘোষণা দেন উপাচার্য আখতারুজ্জামান।

এ বিষয়ে কথা বলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানকে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *