সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১

জাবি শিক্ষার্থীদের ওপর প্রক্টরের হামলা!

নিউজ ডেস্ক: এবার জাবি শিক্ষার্থীদের ওপর একজন সহকারী প্রক্টর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অপসারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয়ের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী প্রক্টরের বিরুদ্ধে।

বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলা ভবনে আন্দোলনকারীদের পূর্বঘোষিত ধর্মঘট কর্মসূচি চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক মহিবুর রৌফ শৈবাল হামলা করেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

হামলার বিষয়ে আন্দোলনকারীরা জানান, সকাল থেকেই সহকারী প্রক্টর মহিবুর রৌফ শৈবাল কর্মচারীদেরকে নিয়ে বিভিন্ন অনুষদে আন্দোলনকারীদের মারা তালা ভাঙতে যান। এসময় পুরাতন কলা ভবনে তালা ভাঙতে গেলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে নিজের বিভাগের জুনিয়র শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীর ওপর হামলা করেন মহিবুর রৌফ শৈবাল।

হামলার ঘটনার প্রতিবাদে বেলা সাড়ে ১১টায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছেন আন্দোলনকারীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলা ভবন থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অনুষদ ভবন ঘুরে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে ‘উপাচার্য অপসারণ মঞ্চে’ গিয়ে শেষ হয়।

তবে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে মহিবুর রৌফ শৈবাল বলেন, তাদের ওপরে হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। উল্টো আন্দোলনকারীরা আমার ওপর হামলা করেছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ব্যাপারে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনের সমন্বয়ক অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, একজন সহকারী প্রক্টরের নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তার একটা ভিডিও দেখে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছি যে, একজন শিক্ষক তার ছাত্রের ওপর কীভাবে হামলা করতে পারে। এমন মাস্তান শিক্ষক আমরা চাই না। একজন শিক্ষকের নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা হতে পারে এটা অত্যন্ত হতাশাজনক। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

ছাত্র ফ্রন্টের (মার্ক্সবাদী) সাধারণ সম্পাদক সুদিপ্ত দে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সঙ্গে হামলা বা সন্ত্রাস মানায় না। তিনি এ ন্যাক্কারজনক হামলার মাধ্যমে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয় সারা দেশের সকল শিক্ষকদের অপমান করেছেন। এর দ্বারা প্রমাণ হয় যে, আন্দোলন দমাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভয়ানকভাবে স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *