‘জঙ্গিবাদ ও রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে ইসলামী রাষ্ট্রগুলো একমত’


June 9, 2019

জবাবদিহি রিপোর্ট : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আন্তজার্তিক ইসলামী সম্মেলন ওআইসিতে বাংলাদেশ তথা এশিয়ার ইস্যু হিসেবে জঙ্গিবাদ ও রোহিঙ্গা ইস্যু বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। সেখানে ইসলামী রাষ্ট্রগুলো জঙ্গিবাদ ও রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে একমত হয়েছে। রোববার গণভবনে ত্রিদেশীয় সফর পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলেন শেখ হাসিনা।

এশিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে ওআইসি সম্মেলনে তিনি উপস্থিত ছিলেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ওআইসি’র সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে সকল দেশের সহযোগীতা চেয়েছি। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ওআইসি ভুক্ত দেশ সমূহের সহযোগীতার আশ্বাস পেয়েছি।

জঙ্গিবাদ নিরসনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ নিরসনে কাজ করার কথা বলেছি সম্মেলনে। ইসলামী রাষ্ট্রগুলো এ বিষয়ে এক মত হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি লিখিত বক্তব্যের বাইরেও অনেক কথা বলেছি। জঙ্গিবাদ দমনে কাজ করে যাচ্ছি। সকল রাষ্ট্রের সহযোগীতা থাকলে আমরা সকল ক্ষেত্রে জঙ্গি দমন করতে পারব।

মুসলিম রাষ্ট্রের মধ্যে দ্বন্দ্বের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি সম্মেলনে বলেছি, আমাদের ভিতরে কোন দ্বন্দ্ব থাকলে কেন আমরা এর সমাধানে কাজ করছি না। মুসলিম মুসলিমকে হত্যা করছে। আমাদের এ বিষয়গুলো সমাধান করতে হবে।

রোহিঙ্গাদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের বিষয়ে কাজ করছি। আমাদের সরকার তাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করছে। সকলের সহযোগীতা না পেলে রোহিঙ্গা সমাধান করা সম্ভব না।

১২ দিনের সরকারি সফরের বিষয়ে দেশবাসীকে অবহিত করতে রোববার বিকেল ৫টার কিছু পরে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার (৮ জুন) সকালে দেশে ফেরেন। তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট শনিবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কি থেকে কাতার এয়ারলাইনসের একটি বিমান স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় প্রধানমন্ত্রী ও তার সফর সঙ্গীদের নিয়ে কাতারের রাজধানী দোহার উদ্দেশে হেলসিঙ্কি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

বিমানটি কাতারের স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫০ মিনিটে দোহা হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দোহায় যাত্রা বিরতির পর প্রধানমন্ত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে শনিবার ভোরে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন।

এই সফরে ২৮ মে জাপানের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। টোকিওতে ‘দ্য ফিউচার অব এশিয়া’ সম্মেলনে যোগ দেয়ার পাশাপাশি জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সফরে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য জাপানের সঙ্গে আড়াইশ কোটি ডলারের উন্নয়ন সহায়তা চুক্তি হয়।

জাপান সফর শেষে ওআইসির চতুর্দশ সম্মেলনে যোগ দিতে ৩০ মে শেখ হাসিনা সৌদি আরবে যান। সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর ওমরাহ পালন করেন তিনি, জিয়ারত করেন মহানবীর (স.) রওজা। সৌদি আরব থেকে গত ৩ জুন ফিনল্যান্ড যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী।

0 30

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আজকের সংবাদ শিরোনাম :
%d bloggers like this: