সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১

ছাত্রলীগ নেতা অমিত ও তোহার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন

১ min read

নিউজ ডেস্ক:দেশের মেধাবী ছাত্র আবরার হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া ছাত্রলীগের নেতা অমিত সাহা ও এজাহার ভুক্ত আসামি হোসেন মোহাম্মদ তোহার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।

ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে এই রিমান্ড আবেদনটি করা হয়।

তার আগে বৃহস্পতিবার রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে অমিত ও বিকালরে দিকে গাজীপুরের মাওনা থেকে তোহাকে আটক করে পুলিশ।

অমিত বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যাচের ছাত্র। হোসেন মোহাম্মদ তোহা বুয়েটের এমই বিভাগের ব্যাচের ছাত্র।তোহা এ মামলার মামলার ১১ নম্বর আসামি।

অমিত সাহা আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পরে বুয়েট ক্যাম্পাসে আলোচনার শীর্ষে আছেন । সব ছাত্রছাত্রীর মুখে তার নাম শুনা যায়। আইনবিষয়ক সম্পাদক বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের উপ-অমিত সাহা ।হত্যাকাণ্ডের পরে থেকেই পলাতক ছিলেন অমিত সাহা।অমিত সাহার কক্ষেই ডেকে নিয়ে প্রথমে পেটানো হয়।

আবরার হত্যাকাণ্ডে অমিত সাহা যে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত, সেই অভিযোগ দুদিন ধরেই করে আসছিলেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। জানা গেছে, আবরার ফাহাদ হলে আছেন কিনা সে বিষয়ে প্রথম খোঁজ নিয়েছিলেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের উপআইনবিষয়ক সম্পাদক অমিত সাহা। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় অমিত সাহা আবরারের এক বন্ধুকে ইংরেজি অক্ষরে ‌আবরার ফাহাদ হলে আছে কিনা’ মেসেজ দেন।

মেসেজের এক ঘণ্টার মধ্যেই শেরেবাংলা হলের ছাত্রলীগ নেতারা আবরারকে ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে যায়। ২০১১ নম্বর কক্ষে এনে তাকে লাঠি, চাপাতি ও স্টাম্প দিয়ে পেটায়।

সূত্র বলছে, ৬ আগস্ট রাতে অমিত সাহার রুমে প্রথম দফায় মারধরের নেতৃত্ব দেন ছাত্রলীগ বুয়েট শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল। তার সঙ্গে মারধর শুরু করেন বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন ও উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল।

পরে যোগ দেন অনিক, জিয়ন, মনির ও মোজাহিদুলসহ অন্যরা। প্রথম দফায় মারধর চলে রাত ১১টা পর্যন্ত। এর পর রাতের খাবার খাওয়ানো হয় আবরারকে। খাওয়ানো হয় ব্যথানাশক ট্যাবলেটও। দেয়া হয় মলম। দ্বিতীয় দফা মারধর শুরুর সময় অনিক ছিলেন সবচেয়ে মারমুখী।

আবরার এ সময় বারবার বমি করছিলেন। একপর্যায়ে তাকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় মুন্নার কক্ষে। সেখানে আবরারের শরীরের ওপর অনিক ক্রিকেট স্টাম্প ভাঙেন। পরে আরেকটি স্টাম্প দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। তৃতীয় দফার মারধর শুরু হয় মুন্নার কক্ষে। তখন মধ্যরাত।

নির্মম পিটুনিতে আবরার লুটিয়ে পড়েন। এর পর নিথর দেহ টেনেহিঁচড়ে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন ঘাতকরা। মাঝ সিঁড়িতে যেতেই তারা বুঝতে পারেন আবরার মারা গেছেন। সিঁড়িতেই মরদেহটি রেখে তখন ওই স্থান ত্যাগ করেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *