সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১

ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ২ দফায় হাবিবের গলা কেটেছি

১ min read

নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশের যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া গুয়াখোলায় রং মিস্ত্রী হাবিবুর রহমান হাবিব খান হত্যার রহস্য উন্মোচন ও প্রধান আসামি ঘাতক আল-মামুনকে আটক করেছে পুলিশ।হত্যার অভিযোগে শুক্রবার ঢাকার আশুলিয়া থেকে আল-মামুনকে আটক করা হয়। আটককৃত মামুন মাগুরা জেলার ডাঙ্গা-সিঙ্গিয়া গ্রামের হাবিব মোল্যার ছেলে।

বিকালে অভয়নগর থানার ওসি মো. তাজুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১২ দিন পর শুক্রবার প্রধান আসামি আল-মামুনকে ঢাকার আশুলিয়া থেকে তার ফুফুর বাড়ি থেকে আটক করা হয়।

থানা হেফাজতে প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে আল-মামুন বলেছে, সে একাই একটি ছোরা দিয়ে রং মিস্ত্রী হাবিবকে গলা কেটে হত্যা করেছিল। পরে তার লাশ গুম করার জন্য ওই ভবনের নিচ তলায় পানির রিজার্ভ ট্যাংকে ফেলে দিয়েছিল।

উপজেলার নওয়াপাড়ার সরকার গ্রুপের চেয়ারম্যান আলমগীর সরকারের গুয়াখোলাস্থ নবনির্মিত সাততলা ভবনের রংয়ের কাজ করার সময় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে হাবিবের সঙ্গে আমার বাকবিতণ্ডা হয়। ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় আমি ও হাবিব ছাড়া আর কেউ থাকত না।

এ সময় মামুন আরও জানায়, পরদিন রোববার বাজার থেকে ১০ পিস ঘুমের ট্যাবলেট ক্রয় করি। সেই ট্যাবলেট রাতে আলু ভর্তার সঙ্গে মিশিয়ে হাবিবকে খাওয়াই। ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় রাত আনুমানিক ২টার সময় লুকিয়ে রাখা চাকু দিয়ে ঘুমে অচেতন অবস্থায় রংমিস্ত্রী হাবিবকে আমি দুই দফায় গলা কেটেছি।

সকালে বাসে করে প্রথমে চুড়ামনকাঠি খালাবাড়ি যাই এবং পরে নড়াইলের লোহাগড়ায় দাদাবাড়িতে একদিন থাকি। পরদিন ঢাকার আশুলিয়ায় ফুফুর বাড়িতে চলে যাই।

হত্যাকাণ্ডের পাঁচদিন পর গত ১৯ অক্টোবর শনিবার এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে সরকার গ্রুপের চেয়ারম্যান ভবন মালিক আলমগীর সরকার অভয়নগর থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে ওই ভবনের নিচতলায় পানির রিজার্ভ ট্যাংক থেকে রং মিস্ত্রি হাবিব খানের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।

পরদিন নিহতের ভাই বাদী হয়ে আল-মামুনকে আসামি করে অভয়নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহত রং মিস্ত্রী হাবিব খান ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানার দপদবিয়া গ্রামের মৃত আবদুল আজিজ খানের ছেলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *