আগস্ট ৩, ২০২১

গোপালগঞ্জের ঘেরপাড়ে পচে যাচ্ছে হাজার হাজার মন টমেটো

মোহাম্মদ মাহমুদ কবির আলী, গোপালগঞ্জ : সদর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের ঘেরপাড়ে উৎপাদিত হাজার হাজার মন টমেটো যথাযথভাবে সংরক্ষন করার সুযোগ না থাকায় পচে যাচ্ছে। শুধু ঘের পাড়েই নয়, যারা জমিতে টমেটো লাগিয়েছিল তাদের টমেটোও পচে যাচ্ছে। রঘুনাথপুর ছাড়াও পাশ^বর্তী কমপক্ষে ৬ টি গ্রামে উৎপাদিত হাজার হাজার মন টমেটো প্রতি বছর পচে যায়।

চলতি সময়ে জাত ও মান বুঝে জমি থেকে মাত্র ২/৩ টাকা কেজি দরে টমেটো বিক্রি হচ্ছে । ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা জানিয়েছেন কোল্ড ষ্টোরেজের অভাবে হাজার হাজার মন টমেটো পচে যায়। অথচ এসব টমেটো বিক্রি করতে পারলে কৃষকরা উপকৃত হতো এবং আর্থিকভাবে লাভবান হতো। সরকারিভাবে বা বেসরকারিভাবে কোল্ড ষ্টোরেজ স্থাপন করার উদ্যোগ এ যাবৎ কেউ নেয় নাই বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

রঘুনাথপুর গ্রামের বিমল তালুকদার (৬৫), বিমান বিশ্বাস (৩৫), বাসুদেব বিশ্বাস (৮৬), দেবেন বিশ্বাস (৫০), জীবেশ বিশ্বাস (৬০), মানস বিশ্বাস (৩৮) প্রমুখ জানিয়েছেন মৌসুমের শেষ দিকে টমেটোর দাম একেবারে পড়ে যায়। কোন কোন দিন ২ বা ৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। এসময় টমেটো জমিতে পচতে থাকে। লাখ লাখ টাকার টমেটো পচে যায়। শুধু রঘুনাথপুরেই ৫ শতাধিক ঘেরপাড়ে টমেটোর চাষ হয়।

বাসুদেব বিশ্বাস বলেন ,‘আমি ৩ বিঘার একটি ঘের পাড়ে টমেটো লাগিয়ে ছিলাম। এ যাবৎ দুই লাখ টাকার মতো আয় হয়েছে। জমিতে এখনও প্রচুর টমেটো পড়ে আছে। সব পচে যাচ্ছে। কেউ কিনছে না। ২ টাকা কেজি দরেও অনেকে কিনছে না। সংরক্ষনও করতে পারছি না। পুরো বৈশাখ মাস জুড়ে জমিতে টমেটো পাওয়া যাবে। জৈষ্ঠ্য মাসের প্রথম কিছু দিনও জমিতে টমেটো থাকে। আমরা কি করবো কিছুই বুঝি না। হাসমুরগীতেও টমেটো আর খেতে চায় না। কোল্ড ষ্টোরেজ থাকলে সারা বছর সংরক্ষন করার ব্যবস্থা করা যেতো বলে শুনেছি’।

এ সমস্যা নিয়ে গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. অরবিন্দ রায়ের সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন, ‘জমিতে টমেটো পচে লাখ লাখ টাকার ক্ষতির বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায় আমি কথা বলেছি। সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনে আমি মন্ত্রনালয়ে কথা বলবো। কোল্ড ষ্টোরেজ মেইনটেইন করা খরচবহুল ব্যাপার।

সেক্ষেত্রে পন্যমূল্য অযাচিতভাবে বেড়ে গিয়ে বিতর্কের সৃষ্টিও হতে পারে। সমস্যা সমাধানে আমাদের প্রচুর চিন্তাভাবনা করতে হচ্ছে। নিশ্চয়ই এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। তবে কৃষকদেরকেও মৌসুমের শুরুর দিকে দাম কমিয়ে বাজারজাত করার উদ্যোগ নিতে হবে। বিভিন্ন কোম্পানীকে সরবরাহ করতে হবে যারা টমেটোজাত খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত করে। প্রচুর পরিমানে উদ্যোক্তা সৃষ্টি করতে হবে’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *