জুলাই ২৯, ২০২১

খুলনায় বিভিন্ন মার্কেটে বাড়ছে জনসমাগম : মানছে না সরকারি নির্দেশনা

১ min read
খুলনায় বিভিন্ন মার্কেটে বাড়ছে জনসমাগম : মানছে না সরকারি নির্দেশনা

খুলনায় বিভিন্ন মার্কেটে বাড়ছে জনসমাগম : মানছে না সরকারি নির্দেশনা

খুলনা প্রতিনিধি : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের মাস্ক পরার কঠোর নির্দেশনা থাকলেও খুলনা মহানগরীর অধিকাংশ স্থানে নেই এর ব্যবহার। নগরীর বিভিন্ন মার্কেটে জনসমাগম বেশি কিন্তু বেশিরভাগ ক্রেতা-বিক্রেতারা মাস্ক ছাড়াই চালাচ্ছেন তাদের কার্যক্রম।

একই অবস্থা নগরীর গণপরিবহনগুলোতে। ইজিবাইক, মাহিন্দ্রা, বাস বা রিকশা সব জায়গায়ই রয়েছে মাস্কের প্রতি অনিহা। নগরীর বেশিরভাগ গণপরিবহনের চালক ও যাত্রীদের মাস্ক ছাড়াই চলাচল করতে দেখা যায়। খুলনাতেও বেড়েছে করোনায় আক্রান্ত শনাক্তের সংখ্যা। তবে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যের কোঠায় থাকলেও আক্রান্তের হার বাড়ার ফলে শঙ্কায় রয়েছেন অনেকেই।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ফেব্র“য়ারি মাসে খুমেক হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে ৫ হাজার ১১০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১১০টি নমুনা পজেটিভ এসেছে। চলতি মাসের ১৪ তারিখ পর্যন্ত ২ হাজার ৯০৯টি নমুনা পরীক্ষা করে পজেটিভ এসেছে ৫০টি।

আগের তুলনায় গত এক সপ্তাহে করোনায় আক্রান্তের হার বেড়েছে বলে জানা যায়। চলতি মাসের ১ ও ৩ তারিখে খুমেক হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে মোট ৫শ’ ১৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে করোনা পজেটিভ আসে মাত্র ২টি।

৪ তারিখে নমুনা পরিক্ষা করা হয় ৩শ’ ৭৫টি। এর মধ্যে খুলনায় ৩টি, বাগেরহাটে ১টি ও যশোরে ২টিসহ মোট ৬টি পজেটিভ আসে। ৫ ও ৬ তারিখে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয় ৬শ’ ৫৬টি। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত করা হয় ৭টি। দিন বাড়ার সাথে সাথে বাড়ে আক্রান্তের সংখ্যা।

৭ ও ১০ তারিখে খুমেক হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে মোট ৭শ’ ৪২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয় ১১ জনের। ১০ ও ১২ তারিখে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয় ৬শ’ ৫৮টি। এর মধ্যে পজেটিভ আসে ৯টি। গত ১৩ তারিখে ১শ’ ৮৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে এক দিনের ব্যবধানে শণাক্তের হার বেড়ে দাঁড়ায় ১২ জনে।

গতকাল রবিবার খুমেক হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে ১শ’ ৮৯টি নমুনা পরিক্ষা করা হয়। এর মধ্যে পজেটিভ আসে ৫টি। তবে সেই তুলনায় গেলো মাসে খুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটা কম ছিলো বললেই চলে।

খুমেক উপাধ্যক্ষ ও বিএমএ খুলনার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মেহেদি নেওয়াজ সময়ের খবরকে বলেন, করোনার টিকা আসার পর থেকেই সাধারন মানুষের মধ্যে এক ধরনের উদাসীনতা কাজ করছে। ফলে মাস্ক পরার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে তারা। করোনার টিকা কতটা কাজ করবে তার সঠিক কোন ধারণা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এখনও দিতে পারেনি।

তাই ধরে নেওয়া যাবে না টিকা গ্রহণ করলে করোনায় আক্রান্ত হবে না কেউ। খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাস্ক পরার জন্য কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিলো। জেল-জরিমানা করা হয়েছে অনেক। কিন্তু সেই ধারাবাহিকতা এখন আর নেই। ফলে মাস্ক পরার প্রতি অনীহা সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কক্সবাজার, কুয়াকাটাসহ দেশের বেশিরভাগ পর্যটন কেন্দ্র জনসাধারনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। যেটার প্রভাব এখন অনেকটা দেখা যাচ্ছে। কোথাও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি।

প্রতিটি স্থানেই কিছু বাধ্যবাধকতা থাকা প্রয়োজন। এ রকম অসচেতনতা আমাদের জন্য অনেক বড় ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। তাই সকলকে সতর্কতার সাথে মাস্ক ব্যবহারের আহবান জানান এই চিকিৎসক নেতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *