আগস্ট ৩, ২০২১

খাদ্যে ভেজাল রোধে কঠোর হতে হবে – প্রধানমন্ত্রী

১ min read

জবাবদিহি ডেস্ক : দেশের জনগণের পুষ্টির চাহিদা পূরণে সুষম খাদ্য গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে এ ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।-খবর বাসসের

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুষম খাদ্য গ্রহণের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা একান্তভাবে জরুরি ও প্রয়োজন। এটা নিরাপদ খাদ্যের মধ্যেও পড়বে বলে আমি বিশ^াস করি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ‘জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০২১’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে খাদ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ সম্পর্কিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে একটি অনুরোধ করব- নিরাপদ খাদ্যের জন্য কেবল ল্যাবরেটরি টেস্ট করলেই হবে না সেসঙ্গে আরেকটি কাজ করতে হবে- সুষম খাদ্য কীভাবে গ্রহণ করতে হবে তা প্রচার করতে হবে। তিনি বলেন, খাদ্যটা কীভাবে নিলে সেটা সুষম হবে, সেটা যেমন মাথায় রাখতে হবে তেমনি প্রচারেরও ব্যবস্থা করতে হবে।

সরকার প্রধান বলেন, অতীতে দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত দেশের মানুষদের পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা না থাকায় নুন মরিচ দিয়ে পেট ভরে চারটে ভাত খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করলেও এখন কিছুটা আমিষও ক্রয় করতে পারছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও যাতে বাড়ে, তাঁদের যেন আর্থিক সচ্ছলতা আসে সেজন্যই তাঁর সরকার নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি এ সময় খাদ্যে ভেজাল দেয়ার কঠোর সমালোচনা করে এ বিষয়েও জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি আইন প্রয়োগে কঠোর হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এবং কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোছাম্মাৎ নাজমানারা খানুম স্বাগত বক্তব্য রাখেন। গণভবন প্রান্তে অর্থ মন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামালসহ পিএমও এবং গণভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা ব্যবসা করছেন তারা দু-পয়সা বেশি আয়ের জন্য খাদ্যে ভেজাল দেয় বা পচা, গন্ধ, বাসী খাবার পরিবেশন করে থাকে। এভাবে নিজের লাভের জন্য মানুষের ক্ষতি আর করবেন না। তিনি বলেন, এ ব্যাপারেও একদিকে যেমন সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে অন্যদিকে কঠোর হাতে তা দমনও করতে হবে। দুদিকেই ব্যবস্থা নেয়াটা একান্তভাবে দরকার। তিনি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, সেই ব্যবস্থাগুলোও আপনাদের নিতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে একশ’টি খাদ্যশিল্পে ‘সেফ ফুড প্ল্যান’ যে নেয়া হচ্ছে এটি সারাদেশেই বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন এবং একেবারে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত এটা নিয়ে যেতে হবে। আর দেশে কেন্দ্রীয়ভাবে ফুড টেস্টিং ল্যাব প্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা বিভাগীয় পর্যায়েও করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৯৬ সালে যখন আওয়ামী লীগ প্রথম সরকার গঠন করে তখন দেশে ৪০ লাখ টন খাদ্য ঘাটতি ছিল এবং ২০০১ সালে যখন ক্ষমতা হস্তান্তর করে তখন ২৬ লাখ টন উদ্বৃত্ত খাদ্য গুদামে রেখে গিয়েছিল। এর ৮ বছর পর যখন আবার আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে তখন বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতি ছিল ২৪ লাখ টন। তিনি বলেন, এটি যে দল বা ব্যক্তি বিশেষগণ ক্ষমতায় থাকেন তাদের নীতির প্রশ্ন। আমাদের নীতি হচ্ছে, নিজেরাই নিজেদের খাদ্য উৎপাদন করব এবং সেইসঙ্গে পুষ্টি নিশ্চিত করার দিকেও আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫ পরবর্তী সরকারগুলো খাদ্য উৎপাদনের চেয়ে আমদানি করায় বেশি উৎসাহিত ছিল। কেননা, তাহলে তাদের কিছু মানুষের ব্যবসা হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ব্যবসা করতে আসেনি। তিনি বলেন, আমরা সেবক হিসেবে এসেছি। কাজেই, নিজেদের আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কারো কাছে হাত পেতে চলতে চাই না। খাদ্যের সঙ্গে সঙ্গে যেন পুষ্টির নিশ্চয়তা হয়, সেজন্য তাঁর সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, অতি দরিদ্র জনগণের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় দেশের ২২০টি উপজেলায় ৬ ধরনের অনুপুষ্টি সমৃদ্ধ ‘পুষ্টিচাল’ বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১০০টি উপজেলায় পুষ্টি চাল বিতরণ করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এ কর্মসূচি স¤প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের ‘নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩’ প্রণয়নের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেজাল ও দূষণমুক্ত নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তির সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিতকরণে পিওর ফুড অর্ডিন্যান্স, ১৯৫৯ রহিত করে নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ প্রণয়ন করেছি। হোটেলগুলোতে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণে তাঁর সরকারের গ্রেডিং স্টিকার প্রদানের তথ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলাতেও তাঁর সরকারের পদক্ষেপের উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী করোনার কারণে মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্ন থাকার প্রবণতা সৃষ্টি হওয়ায় এটিকে বিশেষ ইতিবাচক দিকে হিসেবে আখ্যায়িত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের মধ্যে সেই সচেতনতাটা এসেছে এবং মানুষ এখন নিজেরাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার চেষ্টা করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *