Sat. Mar 28th, 2020

কালীগঞ্জে ৭ মাসে কোরআনের হাফেজ মুহাই মিনুল হক

কালীগঞ্জে ৭ মাসে কোরআনের হাফেজ মুহাই মিনুল হক

কালীগঞ্জে ৭ মাসে কোরআনের হাফেজ মুহাই মিনুল হক

মোঃ ফারুক হোসেন, কালীগঞ্জ (লালমনিরহাট) প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার মোঃ মুহাই মিনুল হক (১৫) নামে এক বিষ্ময় বালক মাত্র ৭ মাসে পবিত্র কোরআনের হাফেজ হয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।

জানা যায়, মুহাই মিনুল হক কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের শালহাটি নোহালী গ্রামের হাছেন আলী এবং আফরোজা বেগম এর সন্তান। সে উপজেলার মশর উদ্দিন নিজাম উদ্দিন হাফিজিয়া মাদ্রাসার ও শহিজন নেছা এতিমখানায় ভর্তি হয়ে মাত্র ৭ মাসের মধ্যে কোরআনের হাফেজ হন।

প্রতিষ্ঠানের মোহতামিম হাফেজ মওলানা ছফিউল্লাহ জানান, মুহাই মিনুল গত ২০১৯ সালের ফেরুয়ারীতে মাদ্রসায় ভর্তি হয়। এরপর নিয়মিত পরাশুনার মাধ্যমে ৭ মাসে পুরো কোরআন শরিফ মুখস্ত করতে সক্ষম হয়। মুহাই মিনুল একজন দুঃখী সন্তান। সে অনেক ছোট থাকতেই তার মা পৃথিবী ছেড়ে পরপারে চলে গেছেন। বাবা পুনরায় বিবাহ করে শংসার করছেন। বাবা মায়ের আদর ভালো বাসা থকে সে বঞ্চিত। বাবা বেঁচে থেকেও তার কোন খোজ খরব নেয় না। তাই মুহাই মিনুলের লেখা পড়ার জন্য সরকার এবং সমাজের বিত্তবানদের সহযোগীতা একান্ত প্রয়োজন। সকলের সহযোগীতাই পারে মুহাই মিনুল হকের স্বপ্ন পুরন করতে।

সহকারী শিক্ষক, হাফেজ মাওলানা মনছুর আলী ও হাফেজ মাওলানা মোজাম্মেল হক বলেন মুহাই মিনুল হক আমাদের গর্ব। গত ২০ বছরের মধ্যে ওরমত ছাত্র এই মাদ্রসায় ভর্তি হয় নি। মুহাই মিনুল হক আমাদের সবার মুখ উজ্বল করবে। ও কারনেই মাদ্রসার সুনাম একদিন ছড়িয়ে পড়বে ইনশাআল্লাহ। শিক্ষক ও সহপাঠিগন মুহাই মিনুল হকের জন্য সবার নিকট দোয়া চেয়েছেন সে যেন একজন বড় আলেম হয়ে ইসলাম এবং মানুষের সেবা করতে পারে।

এদিকে হাফেজ মুহাই মিনুল হকরে ইচ্ছা ভবিষ্যতে কোরআনের শিক্ষক ও গবেষক হওয়া। তার ভাষ্য আমি পড়া লেখা করে কোরআনের শিক্ষক হতে চাই সেই সঙ্গে কোরআন নিয়ে গবেষণা করতে চাই।

উল্লেখ্য যে, ২০০০ সালে মশর উদ্দিন নিজাম উদ্দিন হাফিজিয়া মাদ্রাসার ও শহিজন নেছা এতিমখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমান প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন সামছুল হক। বর্তমানে ১০০ জন ছাত্র এই মাদ্রসায় অধ্যায়ন করছেন।