আগস্ট ৫, ২০২১

কার্টুনিস্ট কিশোরের মামলা তদন্তে পিবিআই

১ min read
কার্টুনিস্ট কিশোরের মামলা তদন্তে পিবিআই

কার্টুনিস্ট কিশোরের মামলা তদন্তে পিবিআই

আদালত প্রতিবেদক : গ্রেপ্তারের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতনের যে অভিযোগ কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর করেছেন, তা তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দিয়েছেন আদালত। কিশোরের মামলার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রোববার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ পিবিআইকে দায়িত্ব দিয়ে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেন।

বিচারক একইসঙ্গে আরেক আদেশে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক-কান-গলা, মেডিসিন এবং অর্থোপেডিকস বিভাগের প্রধানদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে কমিটিকে ২৪ কর্মঘণ্টার মধ্যে কিশোরের নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাপস পাল বলেন, গত বছরের ২ মে থেকে ৫ মে তারিখের মধ্যবর্তী সময়ে কিশোরের ওপর নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে কি না, তা জানাতে হবে ওই মেডিকেল টিমকে। এই মেডিকেল প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন এ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেবেন।

কিশোর অভিযোগ করেছেন, গত বছরের ২ মে তাকে ধরে নেয়ার পর অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়েছিল। তিন দিন পর তাকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে থানায় নেয়া হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বন্দি কিশোর জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর গত রোববার হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলার আবেদন করেন আদালতে। সেদিন বিচারক ইমরুল কায়েশ তা শুনে গতকাল রোববার আদেশ দেয়ার জন্য দিন রেখেছিলেন।

এরপর শনিবার কিশোরের ডান কানের ক্ষত সারাতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে জানান তার বড় ভাই আহসান কবীর। মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, গত বছরের ৫ মে রমনা থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কিন্তু তারও তিন দিন আগে ২ মে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে সাধারণ পোশাকের ১৬-১৭ জন লোক কাকরাইলের বাসা থেকে তাকে ‘জোর করে হাতকড়া ও মুখে মুখোশ পরিয়ে অজ্ঞাত এক নির্জন জায়গায়’ নিয়ে যায়। ওই তিন দিন তাকে সেখানে ‘নির্যাতন’ করা হয় অভিযোগ করে তার বিস্তারিত বিবরণও মামলার আর্জিতে তুলে ধরেছেন কিশোর।

সেখানে বলা হয়েছে, গত বছরের ২ মে সন্ধ্যার দিকে কলিং বেলের শব্দে কিশোরের ঘুম ভাঙে। দরজা খুলতেই অপরিচিত এক লোক বলেন, ‘দরজা খোলেন না কেন? পরনের লুঙ্গি পরিবর্তন করে প্যান্ট পরে নেন। সঙ্গে একটা ভালো শার্ট।’ কিশোর পরিচয় জিজ্ঞেস করলেও তারা পরিচয় দেননি; তবে নিজেদের মধ্যে কথাবার্তায় তাদের একজনকে ‘জসিম’ নামে ডাকতে শোনার কথা কিশোর তার আর্জিতে লিখেছেন।

সেখানে বলা হয়েছে, অপরিচিত ওই লোকেরা ঘরে ঢুকে তল্লাশি শুরু করে। অথচ কোনো ধরনের পরোয়ানা তারা দেখাতে পারেনি। কিশোরের বাসা থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, কম্পিউটার সিপিইউ, পোর্টেবল হার্ড ডিস্কসহ ডিজিটাল যত ডিভাইস ছিল, সবই তারা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন কিশোর।

মামলার আর্জিতে বলা হয়, করোনা ভাইরাস নিয়ে আঁকা কিছু কার্টুন দেখিয়ে জানতে চাওয়া হয়, তিনি সেগুলো কেন এঁকেছেন? কার্টুনের চরিত্রগুলো কারা? কিশোর বলেছেন, এক পর্যায়ে ‘প্রচণ্ড জোরে থাপ্পড় মারা হয়’ তার কানে। তাতে কিছু সময়ের জন্য বোধশক্তিহীন হয়ে পড়েন। তবে তিনি বুঝতে পারছিলেন যে কান দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। পরে ‘স্টিলের পাত বসানো লাঠি দিয়ে’ তাকে ‘পেটানো’ হয়। যন্ত্রণা ও ব্যথায় তিনি সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। সেখানে ২ মে থেকে ৪ মে এভাবে তার ওপর ‘শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার’ চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন কিশোর। আর্জিতে তিনি বলেছেন, পরে তিনি নিজেকে র‌্যাব কার্যালয়ে দেখতে পান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *