ঐক্যফ্রন্ট ছাড়তে সময় নিলেন কাদের সিদ্দিকী


জবাবদিহি রিপোর্ট : কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম এখনই বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ছেন না। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরও দুই দিন সময় নিচ্ছেন তিনি। তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাতজন সংসদ সদস্যের শপথ নেওয়ার সঠিক ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছিলাম। এ নিয়ে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। আগামী ১০ জুন ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠকে- কী ব্যাখ্যা আসে, তার উপরে নির্ভর করছে আমরা জোটে থাকবো কি থাকবো না।

উল্লেখ্য, গেলো ৯ মে মতিঝিলে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ৮ জুন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন তিনি। এতে তিনি বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে একটি নির্বাচনী জঘন্য নাটক হয়েছে। বাংলাদেশ-তো বটেই পৃথিবীর ইতিহাসে এই রকম জঘন্য নির্বাচন হয়নি। পৃথিবীতে প্রহসনের এই রকম কোনো নজির খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, ওই নির্বাচনে ভোটারদের ভোট দিতে হয়নি। নির্বাচন দিনে নয়, আগের দিন রাতে হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বলা হয়েছিল, এই নির্বাচন আমরা প্রত্যাখান করেছি। শুধু ঐক্যফ্রন্ট নয় দেশের সমস্ত মানুষ এই নির্বাচন প্রত্যাখান করেছেন। এটা ছিল যথার্থ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। পরবর্তীতে গণফোরামের সদস্য সুলতান মনসুর সংসদে যাবেন বলে পায়তারা করলেন। তাকে বারংবার বলা হলো না যাওয়ার জন্য। কিন্তু কয়দিন পর তিনি গেলেন, শপথ নিলেন। কিছুদিন পর গণফোরামের আরেকজন সদস্য মোকাব্বির খান শপথ দিলেন। তাকে নোটিশ দেওয়া হল। পরে তাকে আবার দলের প্রেসিডিয়ামের সদস্য হিসাবে রাখা হল।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, সর্বশেষ বিএনপির তথাকথিত নির্বাচিত ৬ জন সংসদ সদস্যর একজন প্রথমে শপথ নিলেন। তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলো। পরবর্তীতে চারজন শপথ নিলে তাদেরকে স্বাগত জানানো হলো। আবার বিএনপির মহাসচিব শপথ নেয়া থেকে বিরত থাকলেন। এইসব সিদ্ধান্ত মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। আমাদের এই বিভ্রান্তির জবাব দিতে হয়। আমরা সেই জবাব দিতে পারছি না। তাই আজ কৃষক শ্রমিক লীগের বর্ধিত সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পরবর্তী পর্যায়ে ফ্রন্টটিকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা যায়নি। বিশেষ করে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে সেই ফ্রন্টের ৮ জন (৭ জন) যেভাবেই হোক তারা শপথে নিয়েছেন। জোটের এই অসঙ্গতি দূর করার জন্য আমরা এক মাস সময় দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে এই অসঙ্গতি দুর করতে না পারলে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছেড়ে দিবে।

0 30

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আজকের সংবাদ শিরোনাম :
%d bloggers like this: