ঈদে রাজধানী ফাঁকা ট্রেনে-বাসে মানুষের ভীড়


জবাবদিহি রিপোর্ট : ঈদে রাজধানী ফাঁকা। তবে ট্রেনে-বাসে ঘরমুখী মানুষের কমতি ছিলোনা। ঈদের আগে ঝক্কি ঝামেলা এড়াতে পরে দিন গ্রামের বাড়ি যাত্রা। তবে ভোগান্তি কম নয়। এদিকে কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার জানিয়েছে কোন শিডিউল সমস্যা নেই।

ঈদের পরে দিন রাজধানীর সড়কগুলো ফাঁকা। অল্প সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌছাতে পারছেন নগরবাসি।

রাজধানীতে নেই চিরচেনা সেই অসহনীয় যানজট। বেশিরভাগ রাস্তায় ফাঁকা। তামিম সৌরভের বাসা উত্তরার কাছে। তার অফিস মতিঝিলে। তিনি কাজ করেন একটি গণমাধ্যমে। তামিম বলেন, অন্য সময় এই পথ যেতে দুই ঘণ্টার বেশি লেগে যেত। রমজান মাসে সেটা আরও বেড়ে গিয়েছিল। তবে এখন চলাচল তুলনামূলক স্বস্তির। ২৫ মিনিটেই কাওরানবাজার পৌঁছানো যায়।

ঈদে স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানীর বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ গ্রামে যায়। তাই ঈদের সময়টা ঢাকাকে যানজটের ধকল বা বেশি মানুষের চাপ থেকে কিছুটা নিস্তার মেলে।

এয়ারপোর্ট স্টেশনের কয়েকজন যাত্রী বলেন, আগামীকাল শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটি। তাই যারা ঈদে যেতে পারেননি, তাদের অনেকে এখনও গ্রামের পানে ছুটছেন।

ঢাকার বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করা কয়েকজন বলেন, মাঝের কয়েক দিনে যে অসহনীয় যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল, তার এখন কিছুই নেই। গন্তব্যে পৌঁছাতে আগের চেয়ে কম সময় লাগছে। তবে বিকেলের দিকে প্রধান সড়কগুলোয় যানজট লেগে যায়।

রাজধানীর যে এলাকাগুলোয় সবচেয়ে বেশি যানজট থাকে, এর মধ্যে মিরপুর অন্যতম। শুধু কাজীপাড়া থেকে ১০ নম্বর গোলচত্বর পার হতেই ঘণ্টাখানেক লেগে যেত। এই পথ এখন মিনিট দশের মধ্যেই পার হওয়া যায়।

আজিমপুর থেকে উত্তরা রুটে চলাচলকারী বাস মিরপুর লিংকের চালক মো. খলিলুল্লাহ বলেন, রাস্তার জ্যাম (যানজট) নেই। প্রায় কোনো সিগনালেই দাঁড়াতে হচ্ছে না। শনিবার থেকে ঢাকায় মানুষ ঢুকতে শুরু করবে।

ফাঁকা হয়ে যাওয়া ঢাকায় যাঁরা থাকেন তাঁদের কাছে নগরের ঈদ ভিন্ন মাত্রা পায়। ধূলি-যানজটমুক্ত শহরে ঘুরে বেড়ানোতেই আনন্দ খুঁজে পান অনেকে। শনিবার পর্যন্ত ঢাকা যানজটমুক্ত থাকবে বলে মনে করেন মিরপুরের বাসিন্দা ইফফাত জাহান।

ইফফাত বলেন, সারা বছর যানজটের কারণে কর্মস্থল ছাড়া কোথাও যাওয়া হয় না। দুই ঈদেই কেবল শহরটা চলাচলের উপযোগী থাকে। তখন পরিবারের সবাই মিলে পুরো ঢাকা চষে বেড়াই। বাচ্চারাও ঘুরে খুব মজা পায়। এবারও ঘুরছি। ইফফাতের কথা শেষ না হতেই পাশ থেকে চার বছরের ছেলে বলে, ‘মা, আমরা এবার অনেক বেড়াব, শিশুমেলায় যাব।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফেরদৌসী রহমান মারিয়া বলেন, শহরে ঈদ মানে ফাঁকা ঢাকায় টইটই করে ঘুরে বেড়ানো। এটাই আমার ঈদের আনন্দ।

রাজধানী ফাঁকা থাকলেও, ভীড় ছিল ট্রেন ও রেল স্টেশনে। রাজধানীতে ঈদ উদযাপনের পর, অনেকেই গ্রামের বাড়ি স্বজন সানিধ্যে। তাই কমলাপুর রেল স্টেশনে এমন যাত্রীচাপ।

বৃহস্পতিবার ভোর থেকে সারাদিনই ছিল যাত্রীদের এমন চাপ। প্রতিটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছাড়লেও আসন পানি অনেকেই। ঈদের আগে যারা টিকেট পাননি তারাই এখন রাজধানী ছাড়ছেন বলে জানান যাত্রীরা।

রাজধানীর বিমানবন্দর স্টেশনের অবস্থা ছিল আরো নাজুক। টিকেট কেটেও অনেক যাত্রী রওনা দিতে পারেননি। রংপুরগামী একতা এক্সপ্রেস বিমানবন্দর স্টেশনে থামলেও, কামরার দড়জা না খোলায় অনেক যাত্রী ট্রেনেই উঠতে পারেননি।

স্টেশন ম্যানেজার জানালেন, বৃহস্পতিবার কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাবে ৩৫ টি ট্রেন। বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাবে।

রাজধানীর বাস র্টারমিনাল গুলোতেও একই চিত্র । ঘরমুখো মানুষের ভীড় কাউন্টারগুলোতে।

বাস সংশিষ্টরা বলছেন, ঈদের পরে দিন আগের মতই চাপ রয়েছে।

আগামীকাল থেকে যাত্রী চাপ কমে যাবে বলে জানালেন তারা।

0 30

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আজকের সংবাদ শিরোনাম :
%d bloggers like this: