সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১

ইসলামের প্রথম খলিফার জ্ঞানের গভীরতা

নিউজ ডেস্ক: আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হিজরতের সময় রাসূল (সা.) উঁটের ওপর সফর করছিলেন। আবু বকর (রা.) ওই একই উঁটে ছিলেন। সিদ্দিকে আকবর (রা.) পূর্ব থেকেই ব্যবসায়িক কারণে ওই পথে সিরিয়ায় যাতায়াত করতেন। এজন্য পথিমধ্যে পরিচিত অনেক লোকের মুখোমুখী হচ্ছিলেন। তারা জিজ্ঞেস করছিল, আবু বকর, তোমার সঙ্গে কে?

রাসূল (সা.) এর পরিচয় প্রকাশ করলে তাঁর নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এ জন্য আবু বকর (রা.) জবাব দিতেন, ইনি আমার পথ প্রদর্শক। তা শুনে লোকেরা মনে করত, অর্থের বিনিময়ে যারা পথ প্রদর্শনের কাজ করে, তিনি বোধ হয় তাদের কেউ হবেন। আর আবু বকর (রা.) উদ্দেশ্য নিতেন: আধ্যাতিক পথ প্রদর্শক এর।

এভাবেই তিনি রাসূল (সা.) এর পরিচয় তাদের থেকে গোপন রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।

আবু বকর (রা.) এর জ্ঞানের গভীরতা:
হজরত আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা.) তার এক ভাষণে বললেন, আল্লাহ তাঁর এক বান্দাকে দু’টি বিষয়ের যে কোনো একটি বেছে নিতে বলেছেন। সে চাইলে দুনিয়াতেও থাকতে পারে অথবা চাইলে আল্লাহর নিকট চলে গিয়ে তাঁর নিয়ামত সমূহের মালিক হতে পারে। কিন্তু সেই বান্দা দুনিয়ায় থাকা পছন্দ করেনি। বরং আল্লাহর নিকটের নেয়ামতগুলোকেই পছন্দ করেছে। হজরত আবু বকর (রা.) এই ভাষণ শুনে ক্রন্দন করতে লাগলেন।

আমরা মনে মনে বললাম, এই বুড়োর কী হলো? রাসূল (সা.) কার না কার কথা বলেছেন। এতে কান্নার কী আছে? কিন্তু পরে আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, মূলত সেই বান্দা রাসূল (সা.) নিজেই ছিলেন। তিনিই দুনিয়ার জীবনের চেয়ে আখিরাতের জীবনকে পছন্দ করেছেন। আবু বকর (রা.) আমাদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *