আগস্ট ৫, ২০২১

‘আমাকে হত্যার চেষ্টা চলছে’

১ min read

কাদের মির্জাকে গ্রেপ্তারের দাবি

নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, আমাকে হত্যার চেষ্টা চলছে। প্রতিনিয়ত আমার নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে প্রশাসন।

আওয়ামী লীগ দলীয় নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) একরামুল করিম চৌধুরী এবং ফেনী-২ আসনের এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীর অস্ত্র তার ওপর ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করে কাদের মির্জা বলেন, গতকাল রাতে একরাম চৌধুরীর বাড়িতে নিজাম হাজারী আর একরাম চৌধুরীর নির্দেশে আমাকে হত্যা করার জন্য বৈঠক করে। আমার এখানে আবারও হামলা করার তারা একটা প্রক্রিয়া করছে।

গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বসুরহাট পৌরসভা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, গত কয়েকদিনে আমার ৭-৮ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমার প্রত্যেক নেতাকর্মীর বাড়িতে ডিবি পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তাদের পরিবারের লোকজনকে নির্যাতন করছে। এখানে সবকিছু একতরফা হচ্ছে। প্রশাসনও আমার বিরুদ্ধে কাজ করছে। গতকাল শুক্রবারও (১২ মার্চ) এমপি একরামের বাড়িতে আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

য়র আরো বলেন, আমি নিজে নিরাপত্তাহীনতায় না ভুগলেও আমার নেতাকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আমার শরীরে এক ফোটা রক্ত থাকা অবস্থায় আমি এখান থেকে নড়বো না। সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির ও অটোরিকশাচালক আলা উদ্দিন হত্যার ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই ও ডিজিএফআইকে দিয়ে করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করবো। তদন্তে যদি আমি বা আমার কোনো কর্মীর অপরাধ প্রমাণিত হয়, তিনি যে শাস্তি দেবেন তা আমরা মাথা ফেতে নেবো।কাদের মির্জা বলেন, আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমি আর কোনো কর্মসূচি দেব না।

তিনি বলেন, আমি প্রস্তাব করছি- আমাদের তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং আমাদের এ অঞ্চলের নেতা সুজিত রায় নন্দী- এ দুজনসহ যাদেরকে দেন ওনারা তদন্ত করে যদি আমি দোষী সাব্যস্ত হই কিংবা আমার দলের নেতাকর্মী দোষী সাব্যস্ত হয়, তাহলে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক ।

কাদের মির্জাকে গ্রেপ্তারের দাবি: এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র কাদের মির্জাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ।

শনিবার দুপুর পৌনে ২টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরনবী চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে পাঠানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খাঁনের ওপর নিষ্ঠুর ও বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ গত ৯ মার্চ তারিখের প্রতিবাদ সভায় মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার নেতৃত্বে সমাবেশে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ হয়, শ্রমিকলীগ কর্মী আলাউদ্দিনের নৃশংস হত্যার মাস্টার মাইন্ড খুনি মির্জাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়। এ বিষয়ে ফোনে যোগাযোগ করলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরনবী চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

আলাউদ্দিনের নৃশংস হত্যার ‘মাস্টার মাইন্ড’ মির্জাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, উপজেলা আ্ওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খাঁন বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কাদের মির্জার অভিযোগ অসত্য : একরামুল করিম চৌধুরী
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে হত্যার পরিকল্পনা বিষয়ে তিনি যে দাবি করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে মন্তব্য করেছেন নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী। এর আগে কাদের মির্জা বলেন, একরামুল চৌধুরীর বাড়িতে বসে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ সময় সেখানে একরামের স্ত্রী ও সন্তান ছিল বলে তিনি দাবি করেছেন।

শনিবার (১৩ মার্চ) দুপুরে সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় অবস্থান করছি। গত এক সপ্তাহ ধরে আমি এলাকায় নেই। কাদের মির্জা তাকে হত্যা করার জন্য আমার বাড়িতে যে পরিকল্পনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এটি তার কল্পনা প্রসূত বচন। কারণ আমি ব্যবসায়িক কাজে চট্টগ্রামে ব্যস্ত ছিলাম। এরপর অন্য কাজে ঢাকায় অবস্থান করছি।

আমার স্ত্রী ও সন্তান আমার সঙ্গে আছেন। তাই কাদের মির্জার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *