সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১

আবরারের দাদা কবর ছুঁয়ে বলেন রাব্বি ভাই তুই কেমন আছিস

১ min read

নিউজ ডেস্ক :দেশের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরারের দাদা কবর ছুঁয়ে চারপাশ ঘোরেন আর বলতে থাকে, রাব্বি ভাই, রাব্বি ভাই তুই কেমন আছিস।
আজ বাদ জুমা আবরারের কবরের সামনে রায়ডাঙ্গা জামে মসজিদে কুলখানির আয়োজন করে আবরারের পরিবার। কুলখানি শেষে খুড়িয়ে খুড়িয়ে মসজিদের সামনে আবরারের কবরের কাছে ছুটে যান তার দাদা আবরারের আব্দুল গফুর।

তাদের কুলখানিতে রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত না থাকলেও রায়ডাঙ্গাবাসীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এই সময় আবরারের পিতা বরকতুল্লাহ ও ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ ও দাদা আব্দুল গফুর ৫ চাচাসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ফাহাদের গ্রাম রায়ডাঙ্গা এক সময়ের বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই গ্রামে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত দু-একটি বাড়ির মধ্যে একটি আবরারের দাদা আব্দুল গফুরের বাড়ী। আওয়ামী লীগের প্রথম দিকে এবং দুঃসময়ে গফুরের বাড়ী ছিল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের যোগাযোগের য়ায়গা। বঙ্গবন্ধুর সহযোগী কুমারখালীর সাবেক এমপি মৃত কিবরিয়া এই বাড়িতে অনেকবার মিটিং করেছেন।

তাদেরকে অনেকেই বলেন, শেখ হাসিনার রাজনীতিতে আসার অনেক আগে থেকেই বিশ্বাস বাড়ীর মানুষেরা আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন। বিপদে আপদে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভরসার স্থান ছিল এই বাড়িটি। আব্দুল গফুরের সেই তেজ আজ আর নেই। বয়সের ভারে নুইয়ে পড়েছেন। ঠিকমত হাঁটতে ও কথা বলতে পারেন না।

আর সেই প্রিয় দলের ছাত্র সংগঠনের হাতে তার প্রিয় সম্পদকে হারিয়ে শেষ বয়সেও নিজেকে মেনে নিতে পারছেন না তিনি। কুলখানি শেষে খুড়িয়ে খুড়িয়ে মসজিদের সামনে আবরারের কবরের কাছে গিয়ে হাও মাও করে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, আমার নাতি রাব্বিকে (আবরার ফাহাদের পারিবারিক নাম) তারা পিটিয়ে মেরেছে। কি কষ্ট না পেয়েছে সে। যদি অসুখে মারা যেত তাহলে স্বাভাবিক, কিন্তু একটা লোককে যদি পিটিয়ে মারা হয় তাহলে কি কষ্ট হয়। আল্লাহ যেন তার আত্মাকে জান্নাতবাসী করেন। আবরারের বাবা বরকতুল্লাহ বলেন, আমার ছেলের জন্য সবাই দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতবাসী করে। আমার ছেলে কোনো দিন কারো সঙ্গে খারাপ ব্যবহার তো দূরের কথা, জোরে কথা বলেনি। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করত। পরে তার এক প্রাইভেট শিক্ষকের সঙ্গে সে নামাজ ও তাবলীগে মনোযোগী হয়। আর তার সঙ্গেই এমনটি হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *