আগস্ট ৫, ২০২১

আজও থামেনি নিহত দু’শতাধিক যাত্রীর স্বজনদের কান্না

১ min read

মহারাজ লঞ্চ দুর্ঘটনা ১৬ বছর আজ

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি : আজ ১৯ ফেব্রুয়ারি। চাঁদপুরের মতলববাসীর জন্যে আজকের দিনটি শোকাবহ এক স্মরণীয় দিন। ২০০৫ সালের এ দিনে ঢাকার সদরঘাট থেকে ছেড়ে আসা মতলবগামী এমভি মহারাজ লঞ্চটি কালবৈশাখীর কবলে পড়ে আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে নারায়ণগঞ্জের পাগলা নামক স্থানে নিমজ্জিত হয়। এতে দু’শতাধিক বিভিন্ন বয়সী নারী-শিশু ও পুরুষযাত্রী প্রাণ হারায়। লঞ্চটিতে মতলব দক্ষিণ ও উত্তর উপজেলার যাত্রী ছাড়াও চাঁদপুর, শরীয়তপুর, ভোলাসহ বিভিন্ন জেলা উপজেলার যাত্রী ছিল। লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহত স্বজনদের কান্না থেমে নেই আজও।

লঞ্চ দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছে তাদের মধ্যে ছিল নারায়ণপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, তার কন্যা মতলব কঁচি-কাঁচা প্রি-ক্যাডেট স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী শিলাত জাহান অর্থি, শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল হাই মাস্টার, আইসিডিডিআরবির ডা. মো. মাসুম, দগরপুর গ্রামের প্রকৌশলী ফারুক দেওয়ান, মতলব বাজারের সার ব্যবসায়ী ইয়াসিন মৃধা, ডেফোডিল ইউনির্ভাসিটির কর্মকর্তা ফারুক দেওয়ানসহ পরিবারবর্গ, নন্দলালপুর গ্রামের জিশান সরকার, শিবপুর গ্রামের শাহিন সরকার, সাতবাড়িয়া গ্রামের মো. ইকবাল, রায়পুর ইসলামাবাদ গ্রামের মোঃ সিরাজ মিয়া, দশপাড়া গ্রামের মফিজুল ইসলাম, বাইশপুর গ্রামের ছোট খোকন ও বড় খোকন, মতলব উত্তরের বারহাতিয়া গ্রামের ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী শাহআলম সহ নাম জানা নাজানা অনেকের গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত লাশগুলো তখন মতলব দক্ষিণ থানার সামনে সারিবদ্ধভাবে তাঁবু টানিয়ে রাখা হয়েছিল। লাশের স্বজনদের আহাজাড়িতে পুরো মতলবে শোকের মাতম নেমে আসে। অধিকাংশ লাশের মুখমন্ডল ও শরীর গলে যাওয়ায় তাদের চিনতে আত্মীয় স্বজনদের হিমশিম খেতে হয়েছিল। লাশের পরণে থাকা পোশাক এবং জন্মগত চিহ্ন দেখে লাশ সনাক্ত করেছে স্বজনরা। যে সব লাশের কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি, তাদের ছবি তুলে বেওয়ারিশ হিসেবে মতলব পৌরসভার ঢাকিরগাঁও রিয়াজুল জান্নাত কবরস্থানে দাফন করা হয়। ওই বেওয়ারিশ লাশের কবরের পাশে এসে স্বজন হারানো মানুষগুলো দূর-দূরান্ত থেকে এসে কবর জিয়ারত ছাড়াও অন্য কোনো উপায় ছিল না। লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহতের স্মরণে আজ বিভিন্ন মসজিদ ও এতিমখানায় মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে স্বজনরা। এছাড়া সকল নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা দোয়া মাহফিল করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *