সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১

আকসুর কাছে জুয়াড়িকে ধরিয়ে দিতেই দেখা করতে চেয়েছিলেন সাকিব!

নিউজ ডেস্ক: আকস্মিক সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী আইনের তিনটি নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ এনেছে আইসিসি। মঙ্গলবার সব ধরনের ক্রিকেট থেকে তাকে দুই বছর নিষিদ্ধ করেছে তারা, এরমধ্যে এক বছরের স্থগিতাদেশ নিষেধাজ্ঞা। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতিবিরোধী ইউনিট (এসিইউ) গত ২৩ জানুয়ারি ও ২৭ আগস্ট সাকিবের সাক্ষাৎকার নেয়। সেখানে তিনি জানান, দীপক আগারওয়াল নামের এক জুয়াড়ির ডলারের প্রস্তাব পেয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। যদিও এ প্রসঙ্গে অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকের মনে করেন, ‘আকসুর কাছে জুয়াড়িকে ধরিয়ে দিতেই হয়তো মনে মনে কৌশল করেছিলেন সাকিব! তা না হলে দেখা করার কথা বলে নিজেকে বিপদে ফেলতে যাবেন কেন এই অলরাউন্ডার!’

সাকিব ওই সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেছেন, ২০১৭ সালের নভেম্বরে ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে খেলার সময় তিনি জানতেন, তারই পরিচিত একজন আগারওয়ালকে তার ফোন নম্বর দেন। ওই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা খেলোয়াড়দের ফোন নম্বর দেওয়ার জন্য বলেছিলেন আগারওয়াল।

আগারওয়ালের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কয়েকবার মেসেজও চালাচালি হয়েছে সাকিবের। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজের দলে ডাক পান বাঁহাতি অলরাউন্ডার। ওই সিরিজেও হোয়াটসঅ্যাপে তাদের সঙ্গে কথোপকথন হয়। ওই বছর ১৯ জানুয়ারির ম্যাচে ম্যাচসেরা হওয়ার পর সাকিবকে অভিনন্দন জানান আগারওয়াল। সেখানে একটি বার্তা ছিল, ‘আমরা কী কাজ শুরু করবো নাকি আইপিএল পর্যন্ত অপেক্ষা করবো।’ কাজ বলতে বোঝানো হয়েছে, দলের ভেতরের তথ্য তাকে দেওয়ার কথা। এই যোগাযোগের কথা দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের কাছে গোপন করেন সাকিব।

চারদিন পর ২৩ জানুয়ারি আবারও আগারওয়াল হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে আরেকটি প্রস্তাব দেন, ‘ব্রো, এই সিরিজে কিছু হবে?’ সাকিব স্বীকার করেছেন, ওই ত্রিদেশীয় সিরিজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভেতরের তথ্য তাকে সরবরাহ করতে এই বার্তা দেন আগারওয়াল। এই প্রস্তাবও গোপন করেন সাকিব।

২৬ এপ্রিল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে আইপিএল ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সঙ্গে ম্যাচ খেলার সময় তৃতীয়বার প্রস্তাব পান সাকিব। ওইদিন তার কাছে আগারওয়াল জানতে চান একটা নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের ব্যাপারে যে, তিনি খেলবেন কিনা ওই ম্যাচে। এরপর আরও ভেতরের খবর জানতে চান ওই জুয়াড়ি।

কথা আরও চালিয়ে যান আগারওয়াল। একপর্যায়ে সাকিবের বিটকয়েন, ডলার অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে জানতে চান তিনি। ডলার অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত জানতে বেশি তোড়জোড় করেন আগারওয়াল। এরপরই সাকিব তাকে বলেন, ‘আগে’ তার সঙ্গে দেখা করতে চান তিনি।

ওইদিনের বেশ কয়েকটি মেসেজ ডিলিট করা হয়েছিল। সাকিব নিশ্চিত করেন, ভেতরের খবর জানতে চেয়েই ছিল ওই মেসেজগুলো। আগারওয়ালকে নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন সাকিব। এই কথোপকথনে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, আগারওয়াল একজন জুয়াড়ি। কিন্তু তৃতীয় প্রস্তাবও দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটকে জানাননি সাকিব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *