আগস্ট ৫, ২০২১

অস্ত্র মামলা থেকে ইরফান সেলিমকে অব্যাহতি

১ min read

নিজস্ব প্রতিবেদক : অস্ত্র আইনের মামলা থেকে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় পুলিশের দেয়া চূড়ান্ত- প্রতিবেদন গ্রহণ করে ঢাকার ১নং বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক কেএম ইমরুল কায়েশ গতকাল বৃহস্পতিবার ইরফান সেলিমকে অব্যাহতির এ আদেশ দেন। ইরফানের আইনজীবী শ্রী প্রাণনাথ গণমাধ্যমকে বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষকে বলা হয়েছিল চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো আপত্তি থাকলে তা জানাতে। রাষ্ট্রপক্ষ চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো না-রাজি দেয়নি। সে কারণে আদালত আজ (বৃহস্পতিবার) তা গ্রহণ করে আদেশ দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে চকবাজার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন গত ৫ জানুয়ারি ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনের দুই মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। মামলার এজাহারে ‘মিসটেক অব ফ্যাক্টস’, অর্থাৎ তথ্যগত ভুল ছিল জানিয়ে ইরফানের অব্যাহতি চাওয়া হয় সেখানে। তবে ইরফানের দেহরক্ষী জাহিদুল মোল্লার বিরুদ্ধে হওয়া অস্ত্র ও মাদক আইনের অন্য দুটি মামলায় অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় তাকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

পুলিশের দেয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার বাদী এজাহার ও জব্দ তালিকায় ইরফান সেলিমের ব্যক্তিগত শয়নকক্ষ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের কথা লিখেছিলেন। কিন্তু তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণে পুলিশ দেখেছে, সেটি ছিল ওই বাড়ির একটি অতিথি কক্ষ। ইরফান সেলিমের পরিবার একটি রাজনৈতিক পরিবার হওয়ায় ওই অতিথি কক্ষে বিভিন্ন আগন্তুক অতিথি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসতেন। ইরফান সেলিম দীর্ঘসময় বিদেশে থেকে পড়ালেখা করেছেন।

তিনি ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কানাডায় বিবিএ পড়া শেষ করেছেন। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নষ্ট করার জন্য এবং সমাজে তার সম্মান ক্ষুণ্নসহ সমাজে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য অসৎ উদ্দেশ্যে কে বা কারা মামলার জব্দকৃত পিস্তলটি অভিযুক্ত ইরফান সেলিমের অতিথি কক্ষে রেখেছেন। ইরফান সেলিমের এলাকায় তার বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র বহন বা প্রদর্শন তথা সন্ত্রাসী কার্যকলাপে অংশগ্রহণের কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে বলেছেন, ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে অত্র মামলার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণ হয়নি।

গত ২৪ অক্টোবর রাতে ধানমন্ডি এলাকায় সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো হাজী সেলিমের একটি গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট মো. ওয়াসিফ আহমেদ খানকে মারধর করা হয়। ওই ঘটনায় হাজী সেলিমের ছেলে ইরফানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওয়াসিফ। পরদিন ২৫ অক্টোবর পুরান ঢাকার সোয়ারিঘাটের দেবীদাস লেনে হাজী সেলিমের বাড়ি ঘেরাও করে অভিযান চালায় র‌্যাব। আটক করা হয় ইরফান ও তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদকে। ওই ভবন থেকে দুটি অবৈধ পিস্তল, গুলি, একটি এয়ারগান, ৩৭টি ওয়াকিটকি, একটি হাতকড়া এবং বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করার কথা সে সময় র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

মদ আর ওয়াকিটকির জন্য ইরফান ও তার দেহরক্ষী জাহিদকে তাৎক্ষণিক ছয় মাস করে এক বছরের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দেবীদাস লেনে ওই অভিযানের মধ্যেই চকবাজারের আশিক টাওয়ারে ইরফানের ‘নির্যাতন কেন্দ্রের’ সন্ধান পাওয়ার কথা জানায় র‌্যাব। পরে ইরফান সেলিমকে কারাগারে পাঠানো হয়। অস্ত্র ও মাদক আইনে আলাদা মামলা করা হয়। ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পদ থেকেও বরখাস্ত হন তিনি।

ইরফান ও তার দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে করা র‌্যাবের মামলার এজাহারে বলা হয়েছিল, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুরান ঢাকায় ইরফানদের বাড়িতে সেই অভিযান চালানো হয়। ভবনের চতুর্থ তলা থেকে জাহিদুল মোল্লাকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৪০৬টি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। আর চতুর্থ তলার অপর একটি কক্ষ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল এবং ইরফান সেলিমের কক্ষ থেকে ১২টি বিয়ারের ক্যান উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশ বলেছে, আগ্নেয়াস্ত্র বা মদ ও মাদক যে ইরফান সেলিমের, সে বিষয়ে সন্দেহাতীত কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। তবে জাহিদ মোল্লার কোমর থেকেই একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছিল, সঙ্গে ৪০৬টি ইয়াবা পাওয়া গিয়েছিল, সে কারণে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। অস্ত্র ও মাদকের মামলায় ইরফান সেলিমের অব্যাহতির সুপারিশ করা হলেও নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *