Sat. Mar 28th, 2020

অর্থকষ্টে পড়বেন শতাধিক ক্রিকেটার

1 min read
অর্থকষ্টে পড়বেন শতাধিক ক্রিকেটার

অর্থকষ্টে পড়বেন শতাধিক ক্রিকেটার

স্পোর্টস রিপোর্টার: বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশের মানুষকেই এখন মৃত্যু ভয় তাড়া করে বেড়াচ্ছে। করোনাভাইরাস এখন সবাইকে করে তুলেছে বিচলিত। চিন্তিত, উদ্বিগ্ন। মহামারী আকার ধারন করা এ ভাইরাসের কারনে বিশ্বের সব খেলাধূলা অনির্দৃষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনও। করোনা ভাইরাসের কারনে স্থগিত হওয়া দেশের প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ যদি চলতি মৌসুমে আর মাঠে না গড়ায় তাহলে চরম অর্থকষ্টে পড়বেন ক্রিকেটাররা। ফলে যারপরনাই চিন্তিত প্রিমিয়ার লিগে বিভিন্ন ক্লাবের সাথে চুক্তি হওয়া ক্রিকেটাররা। চলতি মৌসুমে বিভিন্ন ক্লাবের সাথে প্রায় ২০০ ক্রিকেটার চুক্তিবদ্ধ। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগ বন্ধ হওয়ায় হাতে গোনা কয়েকজন (জাতীয় দলে খেলা এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাথে চুক্তিবদ্ধ) ক্রিকেটার বাদে বাকী অন্তত ১৫০ থেকে ১৬০জন ক্রিকেটারকে চরম অর্থকষ্টে দিন যাপন করতে হবে।

মুশফিকুর রহীম, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদসহ যারা তিন না হলে অন্তত দুই ফরম্যাটে জাতীয় দলে খেলেন। বোর্ড ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরিতে যে ১৭ জনের সাথে বাৎসরিক চুক্তি করেছে, যারা মাসে গড়পড়তা ৪-৫ লাখ টাকা বেতন পাবেন। এর বাইরে আর বড়জোর ১২ থেকে ১৩ জন ক্রিকেটার আছেন যারা ঘুরে-ফিরে জাতীয় দলের হয়ে খেলেন কিংবা জাতীয় দলের আশে-পাশে থাকেন। তারা টেস্ট, ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি খেলে ম্যাচ ফি পান মোটা অংকের। ওই ৩০ জনের অন্তত ১৫ জন বিপিএল খেলেও ৩০-৪০ কিংবা ৫০-৬০ লাখ টাকা পারিশ্রমিক পান।

এর বাইরে জাতীয় লিগ আর বিসিএল খেলেও ম্যাচ ফি জোটে। সব মিলিয়ে বোর্ডের সাথে চুক্তিভূক্ত ১৭ জনের বাইরে আরও ১২-১৩ জন- মানে মোট জনা তিরিশেক ক্রিকেটারের বছরে আয় রুজি ভালই। অতি মাত্রায় সচেতন যারা তারা হয়ত আরও একটি প্রশ্ন তুলবেন। বলবেন, ওপরে যে সব আয়ের উৎসের কথা বলা হলো এর বাইরে অনেক ক্রিকেটার আছেন যারা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেন, তাদেরও গড়পড়তা ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে মাসোহারা দেয় বোর্ড। সে সংখ্যাও কম নয়, ৫০-৬০ জনের মত। জাতীয় লিগ ও বিসিএলে যে ৬০ জনের তালিকা আছে, সেখানেও নেই- এমন অন্তত ১৫০ বা তার বেশি ক্রিকেটার আছেন যাদের কাছে প্রিমিয়ার লিগ হলো ‘অন্ধের যষ্টি।’ তাদের বছরের আয় বলতে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অন্তত ১৫০ ক্রিকেটার আছেন, যাদের রুটি রুজির একমাত্র উৎস প্রিমিয়ার লিগ। তারা কেউ ৫ লাখ, কেউ বা ৬-৭ বা ৮ কিংবা ১০ বা ১২ লাখ টাকা পান, সেটা দিয়েই চলে তাদের সারা বছরের সংসার। এখন কোন কারণে যদি এবার প্রিমিয়ার লিগ সত্যিই না হয়, তাহলে তাদের অবস্থা কি হবে? তা নিয়ে চিন্তিত সিনিয়র-জুনিয়র ক্রিকেটার সবাই। এমনকি ঢাকা লিগ খেলে খেলেই যিনি জাতীয় দলের অধিনায়ক, কোচ-ম্যানেজার এবং বোর্ড পরিচালক হয়েছেন, সেই খালেদ মাহমুদ সুজন যারপরনাই চিন্তিত ।

আবাহনীর কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘দল বদলে প্লেয়াররা কম বেশি অগ্রীম অর্থ পেয়েছে। শীর্ষ তারকাদের কয়েকজন হয়ত মূল পারিশ্রমিকের অন্তত ৫০ ভাগ করে পেয়ে গেছে; কিন্তু মাঝারি মানের ও জুনিয়র ও ক্যারিয়ার শুরু করা নবীনরা নাম মাত্র পারিশ্রমিক পেয়ে একটি মাত্র ম্যাচ খেলেছে। আবার অনেক প্লেয়ার এক টাকাও পায়নি।