অনেক আগেই খালেদা জিয়ার জেলে যাওয়া প্রয়োজন ছিল: তথ্যমন্ত্রী


জবাবদিহি রিপোর্ট : পাকিস্তানের একজন জেনারেলের মৃত্যুর পর বাংলাদেশের একজন প্রধানমন্ত্রী হয়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া সমস্ত প্রটোকল ভঙ্গ করে শোকবাণী পাঠিয়েছিলেন। তার এসব কর্মদোষে অনেক আগেই জেলখানায় যাওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কোন রাজবন্দি নয়। রাজনৈতিক কারণেও জেলখানায় যাননি। দুর্নীতির মামলায় শাস্তিপ্রাপ্ত হয়ে জেলখানায় আছেন। আওয়ামী লীগের দায়ের করা কোন মামলায় নয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দায়ের করা মামলায় তিনি জেলে গেছেন।

শুক্রবার বিকেলে ঐতিহাসিক ছয়দফা দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবস্থ বঙ্গবন্ধু হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়া ৫ম বারের মতো জেল খানায় ঈদ পালন করছেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিনল্যান্ডে আছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদের এমন বক্তব্যের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে ঈদ উদযাপন করতে যাননি রাষ্ট্রীয় সফরে গেছেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, যার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছিল সেই বঙ্গবন্ধুকে ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল, সেদিন ১০ বছরের শিশু রাসেল, ৪ বছরের শিশু সুকান্ত বাবু, অন্তঃসত্বা বেগম আরজু মণিকে হত্যা করা হয়েছিল। সেই ন্যাক্কারজনক হত্যাকান্ডকে উপহাস করার জন্য হত্যাকারীদের উৎসাহ দিতে যিনি নিজের জন্মের তারিখটা পরিবর্তন করে ভুয়া জন্মদিন পালন করেন তিনিই হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া।

বিএনপিতে কয়েক ধরণের নেতা আছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কিছু আছে হঠাৎ বিএনপি, আর কিছু আছে বাইচান্স বিএনপি, কিছু আছে বাই এক্সিডেন্ট বিএনপি। এই দলটি গঠিত হয়েছে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে। রাজনৈতিক সুযোগ সন্ধানী, ক্ষমতালোভীদের সমন্বয়ে এই রাজনৈতিক দলটি গঠিত হয়েছে। এই দলের বেশিরভাগ নেতা হচ্ছে রাজনীতির মাঠের কাক।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানসহ অন্যান্যদের ষড়যন্ত্রের প্রেক্ষিতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়েছে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে। রাস্তায় ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে দেয়া হলে অনেক কাক ঝড়ো হয়। জিয়াউর রহমানও ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে রাজনৈতিক কাকদের সমন্বয়ে বিএনপি গঠন করেছিলেন।

আজকে বিএনপির যারা বড় বড় নেতা তারা সবাই রাজনীতির কাক। কারণ, মির্জা ফখরুল, মওদুদ আহমেদ, খন্দকার মোশাররফসহ বিএনপির বড় নেতারা সকলেই আগে অন্যদল করতেন।

তথ্যমন্ত্রী বিএনপির প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, ১৯৬৬ সালের ছয়দফা ঘোষণা হচ্ছে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের সুচনা। তারপর বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা। এগুলোর সাথে বিএনপির কোন দ্বন্দ্ব থাকার কথা নয়। কিন্তু তারা এই দিবসগুলো পালন করেন না কেন? তিনি বলেন, বিএনপি দাবি করে তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযোদ্ধা। কেউ হঠাৎ হুইসেল বাজালেন, বাংলাদেশের সমস্ত মানুষ যুদ্ধে চলে গেলো, ত্রিশ লক্ষ মানুষ মারা গেল, সেই ভাবেতো মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে একটি ধারাবাহিক আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে। তারা এই দিবসগুলো পালন না করার অর্থই হচ্ছে তারা পাকিস্তানি ভাবধারায় বিশ্বাস করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্বে কতটুকু বিশ্বাসী তা প্রশ্ন জাগে যখন ছয় দফা দিবস ও ৭ মার্চ পালন করে না।

মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, উত্তর জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও রেলপথ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রমুখ।

0 30

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আজকের সংবাদ শিরোনাম :
%d bloggers like this: